তোমরা আসলে দুর্ভাগা…

ইসমাইল হোসেন সম্রাটের এই অবস্থা দেখে তারা হয়তো মুচকি হাসছেন। তারা মানে লোকমান হোসেন ভুইয়া, জি কে শামীম, খালেদ মাহমুদরা! হাসির আড়ালে হয়তো বলছেন তুমিও এলে অবশেষে! তোমার দলই তোমাকে ভরিয়ে দিল চার দেয়ালের ভিতরে। সম্রাট নামের যে মানুষটি আজ দেশজুড়ে আলোচনায় তিনি আসলে বোকা টাইপের, অন্যের মাথায় কাঁটাল রেখে খেতে জানেন না! অথচ তাঁর দল যখন ক্ষমতায় তখন ঠিকই তাকে সামনে ধরে, নেতা মেনে এত বছর কাঁঠাল খেয়ে গেলেন বিএনপি, জামায়াত, ফ্রিডম পার্টি থেকে আসা নেতারা! জি কে শামীম, খালেদ মাহমুদ, আরমানদের নেতা ছিলেন সম্রাট।

বেগম খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা কর্মকর্তা লোকমান হোসেন ভুইয়া অবশ্য আশ্রয় খুঁজেছেন বন্ধুর ছায়াতলে! বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হোসেন পাপনই মুলত লোকমানকে এই সময়ে উপরে তুলেছেন, বানিয়েছেন বিসিবি পরিচালক! খাঁটি বন্ধুত্বের কি অসাধারণ নমুনা! একটা জিনিস বেশ আশ্চর্য লাগে- বিএনপি, জামায়াতের সময় আওয়ামী লীগ ক্ষমতার ধারেকাছেও যেতে পারে না। আমাদের দেশে না পারাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আওয়ামী লীগের বেলায় ঠিক উল্টো চিত্র। দলটি যখন ক্ষমতায় থাকে নেতাকর্মীদের বড় একটা অংশ থাকে অবহেলিত, প্রতিষ্ঠিত হয় বিএনপি, জামায়াতের লোক!

সারা দেশের ন্যায় সিলেটেও এমন অনেক প্রমাণ দেয়া লোকের অভাব নেই। তারপরও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারন করে, শেখ হাসিনায় আস্থা রেখে ঠিকই অভাগা নেতাকর্মীরা জয় বাংলা স্লোগান তুলেই যাচ্ছে। যাদের কাছে আসলে টাকার চেয়ে দল বড়, দেশ বড়। রাস্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার বিশ্ব শান্তির দর্শণ এবং জনগণের ক্ষমতায়ন সুদৃঢ় করাই আমাদের অঙ্গীকার। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ সভাপতির কার্যালয়ের ফটকে নিয়ন সাইনের আলোয় জ্বলছিল কথাগুলো। বুঝাই যায় রাস্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার বিশ্বশান্তির দর্শণ কথাটি মানুষকে ধোকা দিতেই ব্যবহার হয়েছিল! ধোঁকা দিয়ে বোকা বানিয়ে মানুষকে এই কার্যালয়ে এনে নির্যাতন করা হতো! সম্রাটকে আটক করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাই এসব তথ্য জানিয়েছেন। নির্যাতনের বিভিন্ন আলামতও তারা উদ্বার করেছেন।

এর আগে আরেক যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদের কার্যালয় থেকেও উদ্বার করা হয় নির্যাতনের আলামত। সম্রাট, জি কে শামীম, খালেদ মাহমুদরা আসলে চরম দুর্ভাগা। যার ছবি আর নাম নিয়ে তারা ভন্ডামি করেছেন, গুছিয়েছেন আখের, দেশ আর সংগঠনকে করেছেন প্রশ্নবিদ্ধ সেই শেখ হাসিনা বিশ্বের কাছে এখন রোল মডেল। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী সোনিয়া গান্ধীর মেয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী তো টুইট করেই বলে দিলেন মনের কথা- শেখ হাসিনার লড়াই করার ক্ষমতা আমার জন্য অনুপ্রেরণা। ভারত সফরে গিয়ে পেয়েছেন এ্যাওয়ার্ড। যুক্তরাস্ট্রে জাতিসংঘের অধিবেশনে গিয়ে বয়ে এনেছেন আরো সম্মান। যিনি দুঃখের সাগরে ডুব দিয়ে বাংলাদেশ নামক তরীর হাল ধরে আছেন শক্ত হাতে, বাংলাদেশ, দক্ষিণ এশিয়া, এশিয়া ছাড়িয়ে যিনি এখন বিশ্বের কাছে আদর্শ সেই শেখ হাসিনাকে অভিভাবক হিসেবে পেয়েও শিখতে পারলে না, জানতে পারলে না, গড়তে পারলে না নিজেদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে। তোমরা আসলে খুবই দুর্ভাগা সম্রাট। যেমন দুর্ভাগা ছিল খোন্দকার মোশতাক, তাহেররা।

শেখ মুজিবের মতো মহান মানুষকে কাছে পেয়েও যারা মানুষ হতে পারেনি ঠিক তেমনি তোমরাও পারলে না শেখ হাসিনাকে কাছে পেয়ে মানুষ হতে। এতবড় বটবৃক্ষের ছায়ায় থেকেও টাকাটাকেই বড় করে দেখলে। মায়ের মতো অভিভাবকের বিশালতা তোমাদের টানলো না, গড়তে দিলো না জিল্লুর রহমান, আব্দুল হামিদ, আব্দুর রাজ্জাক, সৈয়দ আশরাফুল ইসলামদের মতো স্বচ্ছ ইমেজের জীবন। অথচ তোমরা এই মহান মানুষদের কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছ। পেয়েও সুযোগটা নিতে পারলে না। আসলেই দুর্ভাগা তোমরা

আরও