ইউরোপ জুড়ে বাড়ছে মুসলিম অভিবাসনবিরোধী প্রচারণা

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো ইউরোপজুড়ে মুসলিম বিদ্বেষ দিন দিন বাড়ছে। ইসলামের নামে জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনা ও নেতিবাচক প্রচারের কারণে বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন মুসলিমরা। এখন ইউরোপে কেবল মাত্র হিজাব পরার কারণে চাকুরি পাচ্ছে না নারীরা। মেয়েদেরও স্কুলে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। কেবল মাত্র দাড়ি রাখার কারণে চাকুরিচ্যুত হচ্ছেন মুসলিমরা। মুসলিম বিদ্বেষ বাড়তে থাকায় ইউরোপে মুসলমানদের অভিবাসনবিরোধী প্রচারণা চালাচ্ছেন অন্য ধর্মাবলম্বীরা।

মূলত অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার দোহাই দিয়ে ধর্ম ও বর্ণবাদকে পুঁজি করে সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন করা অভিবাসনবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর লক্ষ্য।

ইতালির সিনেয়া প্রদেশে রয়েছে চার-পাঁচটি মাত্র মসজিদ। কিন্তু ওই এলাকা থেকেই গত মঙ্গলবার ১২ জন উগ্রপন্থীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। উগ্রপন্থীদের প্রত্যেকেই ছিলেন মুসলিমবিদ্বেষী এবং তাদের উদ্দেশ্য ছিল সেখানকার মুসলিম ও মসজিদে হামলা চালানো। এর আগে ফ্রান্সেও মুসলিমদের সমাবেশে এক অমুসলিমের গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

শুধু তাই নয়, জার্মানির ১২ দশমিক ৫ শতাংশ, স্পেনের ১৫, হল্যান্ডের ১৩, ডেনমার্কের ২১ ও বেলজিয়ামের ২০ শতাংশ মানুষ মুসলিম অভিবাসনবিরোধী।

এছাড়া ব্রেক্সিটের পক্ষের অধিকাংশ ভোটই এসেছে অভিবাসনবিরোধী প্রচারণায়। কেন এত ইউরোপ জুড়ে মুসলিম বিদ্বেষ বাড়ছে এ নিয়ে জরিপ করেছে ইউরোপীয় ধর্ম বিষয়ে গবেষণা কেন্দ্র (আইইআরএস)। তাদের জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষক রিচার্ড ফ্লবেয়ার বলেন, গেল এক দশক ধরেই অস্থিতিশীল ইউরোপের অর্থনীতি। আর এই অস্থিতিশীলতার কারণ হিসেবে সেখানকার বাসিন্দারা দুষছেন অভিবাসনকে। তাই তাদের মধ্যে জন্ম নিচ্ছে অভিবাসনবিরোধী মানসিকতা। যা হিটলারের নাৎসিজম ও মুসোলিনির ফ্যাসিজমের সঙ্গে মিলে যায়। পার্থক্য কেবল উপাদান। তখন লক্ষ্য ছিল ইহুদি, এখন লক্ষ্য মুসলিম অভিবাসন।

গত বছর সেপ্টেম্বরে সুইডেনের অভিবাসনবিরোধী দল খ্রিস্টান ডেমোক্রেস ১৮ শতাংশ ভোট পেয়ে দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম দলে পরিণত হয়। এ ঘটনা অবাক করে সমগ্র ইউরোপবাসীকে। চেক রিপাবলিকে গত বছর পুনরায় জয় পান অভিবাসনবিরোধী প্রেসিডেন্ট মিলোস জামান।

অস্ট্রিয়ার অভিবাসনবিরোধী দল ফ্রিডম পার্টি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়েছে, যা প্রথমবারের মতো ঘটল। মুসলিম অভিবাসনবিরোধী নীতির জন্য হাঙ্গেরির ভিক্টর ওরভান তৃতীয়বার জয়ী হয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন।

পোল্যান্ডের ল অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি, ফ্রান্সের ন্যাশনাল ফ্রন্ট, ইতালির লেইগা নর্দের মতো রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান প্রচার ও কর্মসূচির মুখ্য বিষয় অভিবাসনবিরোধী ও মুসলিমবিরোধী প্রচারণা।

তাদের অনেকেই এখন ক্ষমতায়, আবার কেউ কেউ ক্ষমতার অংশীদার। এসব কারণে মুসলিম বিদ্বেষ বাড়ছে ইউরোপে এবং সেটি অর্থনৈতিক কারণেই।

এর আগে মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, ইউরোপ জুড়ে মুসলিমদের একটা গৎবাঁধা নেতিবাচক ছবি তুলে ধরার কারণে তাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ এবং বৈষম্য আরো বাড়ছে।

আরও