জঙ্গিবাদ দমনে অনন্য দৃষ্টান্ত

২০১৬ সালের ১ জুলাই হলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়ংকর জঙ্গি হামলা স্তম্ভিত করেছিল বাংলাদেশকে, আহত করেছিল বিশ্বের মানুষকে। জঙ্গিবাদের শেকড় ধীরে ধীরে বিষবৃক্ষে পরিণত হয়ে কীভাবে সহিংসতার প্রসার ঘটাতে পারে তার উদাহরণ হয়ে আছে এই হলি আর্টিজানে হামলার ঘটনা।

তবে এই ঘটনার পরপরই জঙ্গিবাদ নির্মূলে বাংলাদেশের বলিষ্ঠ ও কঠোর অবস্থান দেখেছে বিশ্ব। আর মাত্র তিন বছরের মাথায় হলি আর্টিজানের মামলার রায় জঙ্গিবাদ দমনে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল বাংলাদেশ; যা আরেকটি মাইলফলক হিসেবে লেখা হলো ইতিহাসের পাতায়। বিশ্ব দেখল বাংলাদেশে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড হলে তার বিচার অত্যন্ত দ্রুত এবং সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই হয়।

হলি আর্টিজানের হামলায় হত্যার শিকার হয়েছিলেন ২০ জন দেশি-বিদেশি নাগরিক; তাদের মধ্যে ৯ জন ইতালীয়, ৭ জন জাপানি, ১ জন ভারতীয় ও ৩ জন বাংলাদেশি। এই ঘটনার পরপরই বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ন করেছিল। মামলায় পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, এই হামলায় জড়িত গোষ্ঠীর নাম নব্য জেএমবি; যারা ঘটনার পর নিজেদের আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস (ইসলামিক স্টেট) বলে দাবি করেছিল।

রায়ের পরপরই হামলায় নিহতদের স্বজনরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। দ্রুততম সময়ে এই স্পর্শকাতর মামলার রায়ের ফলে হারানো ভাবমূর্তি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। মামলার রায় ঘোষণার সময় আদালত জানিয়েছেন, বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই ওই হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

এই বিষয়টি ভেবে দেখার মতো এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তাদের আশাবাদ, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ পুরো রাষ্ট্র যেভাবে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর-সতর্ক অবস্থানে ছিল তা অব্যাহত থাকবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শান্তিপূর্ণ হয়ে উঠবে বাংলাদেশ।

আরও