বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে – কানাডীয় হাইকমিশনার

বাংলাদেশে কানাডার হাইকমিশনার বেনোই প্রেফনটেইন বলেছেন, দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সকল ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক অব্যাহত রাখতে চায় কানাডা। এক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও তা দুই দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে কোনো বাধা হবে না। গতকাল শনিবার ঢাকার একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশ-কানাডা রিলেশন্স:প্রোগনোসিস ফর পার্টনারশিপ’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

কসমস গ্রুপের জনহিতকর সংস্থা কসমস ফাউন্ডেশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব (সিনিয়র সচিব) মো. শহীদুল হক। ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের প্রিন্সিপাল রিসার্চ ফেলো ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কসমস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এনায়েতুল্লাহ খান। বৈদেশিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল এ সংলাপে অংশ নেন। তারা বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যকার সম্পর্ককে বর্তমানের আলোকে মূল্যায়ন করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায় ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির ক্ষেত্রে রোহিঙ্গা ইস্যু উঠে আসে।

কানাডীয় হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে কানাডার ব্যবসায়িক সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৪ সালে ৬০ কোটি ৫ লাখ কানাডিয়ান ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বেড়ে ২০১৮ সালে ২৪০ কোটিতে উন্নীত হয়েছে। তার মতে, দুই দেশের সম্পর্কের একটি প্রভাবশালী দিক হতে পারে বাণিজ্যিক সম্পর্ক। এটি বাংলাদেশে কানাডার যে মূল কার্যক্রম উন্নয়ন সহযোগিতা, তার জায়গা দখল করে নেবে।

হাইকমিশনার বলেন, বাণিজ্যকে আরো বেশি বহুমুখী খাত ও পণ্যে প্রসারিত করতে হবে। সেই সাথে বাণিজ্যের পাশাপাশি বিনিয়োগ, অবকাঠামো এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আরও ভালো অবদান রাখা যেতে পারে। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির কোনো তাত্ক্ষণিক সমাধান নেই এবং আগামী দিনগুলোতে এ বিষয়ে কাজ করে যেতে হবে। তিনি জানান, বাংলাদেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে কানাডার নাগরিকদের সতর্ক থাকার যে পরামর্শ ছিল তা তুলে দিয়েছে কানাডা।

তিনি বলেন, কানাডার ব্যবসায়ীদের এ দেশের মানবাধিকার লঙ্ঘন, দুর্নীতি, নাগরিক সমাজের অধপতন ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার অভাবের বিষয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এ বিষয়টি আমরা সরকারের বিভিন্ন মহল এবং চেম্বার্স অব কমার্সের সাথে আলাপকালে তুলে ধরেছি।

বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে:কানাডীয় হাইকমিশনার

দুই দেশের সুসম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, বাংলাদেশ-কানাডার সম্পর্ক সকল দিক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ক্রমবর্ধমান বিশ্ব ব্যবস্থাতে কানাডার কাছ থেকে ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকা আশা করে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ শক্তি’। ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) ও ইউরেশিয়ার মতো বৈশ্বিক উদ্যোগের মধ্যে ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ তাও ব্যাখ্যা করেন তিনি।

আরও