সিরিয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় নিহত ৮০


জাতিসংঘের যুদ্ধবিরতির আহ্বান সত্ত্বেও সিরিয়ার সরকারি বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীদের হামলা-সংঘর্ষে গত ২৪ ঘণ্টায় দুই পক্ষের ৮০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। দেশটির বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত শেষ অঞ্চল ইদলিব প্রদেশে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মানবাধিকার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা গতকাল শুক্রবার এ খবর জানায়।

পাকিস্তানের জাতীয় দৈনিক ডন শুক্রবারের এক অনলাইন প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউমান রাইটসের বরাতে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে ইদলিব প্রদেশে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ ও হামলায় ৪২ জিহাদি ও ৯ বিদ্রোহী নিহত হয়েছেন।

সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউমান রাইটস আরও জানিয়েছে, জিহাদি নিয়ন্ত্রিত ইদলিবের আরেক শহর মারেত আল-নুমানে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের ৩০ জন সমর্থক নিহত হয়েছেন। মিত্র রাশিয়ার সঙ্গে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী মারেত আল-নুমান ও পাশের শহর সারাকেবে বিমান হামলা চালায়।

সিরিয়া থেকে এক প্রতিনিধি ডনকে জানিয়েছেন, সরকার ও বিদ্রোহী পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ও হামলা পাল্টা হামলা শুরু হলে পাশের এলাকাগুলোতে বসবাসরত মানুষজন বাড়ি ছেড়ে পালাতে শুরু করেন। ইয়াসির ইব্রাহিম নামের এক বাসিন্দা বলেন, হামলা শুরু হলে পরিবারকে নিয়ে একটি জলপাই গাছের নিচে রাত কাটিয়েছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘শত শত বিমান মারেত আল-নুমানে হামলা চালায়। পরিস্থিতি খুব খারাপ।’ ইদলিব প্রদেশ আল কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী দখল করে রেখেছে। নিজেদের নিয়ন্ত্রণে না থাকা শেষ এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ পেতে রাশিয়ার সহায়তায় গত এপ্রিলে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী হামলা শুরু করলে ৪ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সবশেষ বড় ঘাঁটি বলে পরিচিত মারেত আল-নুমান। ২০১১ সালে প্রেসিডেন্ট বাশারবিরোধী যে বিক্ষোভ শুরু হয় তা দমনে সরকার বলপ্রয়োগ করলে পরিস্থিতি গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। আট বছরের এই গৃহযুদ্ধে ৩ লাখ ৭০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে দাবি বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার।

আরও