কুয়াশার কারণে হাইওয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ; সিলেটে ৬ দিনে ১৮ জনের প্রাণহানি

রাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশায় ঢেকে থাকে সিলেট অঞ্চল। এতে করে হাইওয়েসহ আঞ্চলিক সড়কগুলোতে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। এতেও ঘটছে বিপত্তি। কুয়াশার কারণেই সড়কগুলো পরিণত হয়েছে মৃত্যু ফাঁদে। ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। গত ৬ দিনে সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮ জনের প্রাণ গেছে। পরিবহন শ্রমিকরা জানিয়েছেন, অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করে যানবাহন চালানো হচ্ছে। এরপরও কুয়াশার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটছে।

তারা জানিয়েছেন, তীব্র গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেক আর ভাঙাচোরা সড়কের কারণেও দুর্ঘটনা বেড়েছে। ভোরে অথবা সকালের দিকে বেশির ভাগ দুর্ঘটনা ঘটছে। গতকাল ভোরে সিলেটের কানাইঘাটে গাড়ি উল্টে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এর আগে মঙ্গলবার মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪ জন। এরমধ্যে ভোরে ঘটে হবিগঞ্জের দুর্ঘটনাটি। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বাহুবলের একটি বাস অটোরিকশাকে চাপা দিলে অটোরিকশার চালক আখতার মিয়া ও তার প্রতিবেশী রকিব মিয়া মারা যান। শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, তীব্র কুয়াশার কারণেই ভোরের দিকে এ মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। কারণ ওই সময় বিশেষ করে মহাসড়কে বেশি কুয়াশা থাকে। চালকেরা হেড লাইট জ্বালিয়ে রাস্তায় যানবাহন চালান। সকালে সদর উপজেলার মনুমুখ ইউনিয়নের বাউরবাগ এলাকায় অটোরিকশা ও পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে মোজাহিদুর রহমান ও আলামিন নিহত হন। এতে আহত হন আরো তিনজন। সোমবার কমলগঞ্জে ট্রলি চাপায় মারা যান কালু মিয়া নামের এক নির্মাণ শ্রমিক। রোববার দুপুরে সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ সড়কে সাদাপাথর নামক পর্যটকবাহী বাসের ধাক্কায় চানা মিয়া নামের এক বৃদ্ধ নিহত হন। শনিবার হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার দরগা গেইট এলাকায় দ্রুতগামী ইউনিক বাসের চাপায় এক পথচারী নিহত হয়েছেন। আর শুক্রবার সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৬ জন। শুক্রবার সকালে হবিগঞ্জের বাহুবলের ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে দুই নারী ও গাড়ির চালকের সহযোগী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৫ জন। নিহতরা হলেন, বাসের চালকের সহযোগী আবু সাঈদ, কমলা বেগম ও রিতা দেবনাথ। ওইদিন সকালে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার মিনাজপুর নামক স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় নানু মিয়া নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকালে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চাপায় তামান্না বেগম নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। আর মৌলভীবাজারের রাজনগরে ট্রাকের ধাক্কায় ফজল মিয়া নামের এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন সিলেট বিভাগের সভাপতি সেলিম আহমদ ফলিক জানিয়েছেন, সিলেট অঞ্চলে সন্ধ্যা থেকে ঘন কুয়াশা পড়ে। প্রায় দুপুর পর্যন্ত কুয়াশা থাকে। ফলে অতি সাবধানতার সঙ্গে গাড়ি চালালেও দুর্ঘটনা ঘটে যায়। চালকদের কিছু করার থাকে না। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কাজ করা সংগঠন ‘নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’-এর তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগের চার জেলায় ২০১৮ সালে ১৬২টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ১৯৫ জন এবং আহত হন ৪৯৯ জন। ২০১৯ সালে সিলেট বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে ২৪০টি। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হন ৬১৮ জন ও আহত হন ২৩৮ জন। নিসচা বলেছে, ২০১৮ সালের চেয়ে সিলেট বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনায় ২০১৯ সালে ৪২৩ জন বেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। নিসচার নেতারা বলছেন- সিলেট-ঢাকা হাইওয়ে সহ বিভিন্ন রুটে যানবাহনের চাপ বাড়ছে। সেই অনুযায়ী বাড়ছে না সড়কের সংখ্যা। এর বাইরে চালকদের অদক্ষতা, বিভিন্ন স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, নিয়ম না মানার কারণেই সিলেটে দিন দিন সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। শীত মৌসুমে কুয়াশার কারণে যানবাহন চলাচলে অধিক সতর্ক হওয়ার জন্য আহ্বান জানান তারা।

আরও