সিলেটে আটক ৯ জঙ্গি ৫ দিনের রিমান্ডে

সিলেট শহরতলীর আরামবাগ এলাকার একটি বাসা থেকে নাশকতার প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ‘আল্লাহর দলের’ আটক ৯ জঙ্গিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

বুধবার মধ্যরাতে ঢাকা থেকে আসা অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা সিলেট মহানগর পুলিশের সহায়তায় ৯ জঙ্গিকে আটক করে। আটককৃতরা সিলেট বিভাগের দায়িত্বশীলসহ বিভিন্ন জেলা ও থানা পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত জঙ্গি নেতা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার বেলা ১টায় সিলেট মহানগর পুলিশ সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার পরিতোষ ঘোষ বলেন, বুধবার রাতে নগরীর আরামবাগ এলাকায় ঢাকা থেকে আসা অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। আটক জঙ্গিদের অনেকে এনজিওসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে আটক জঙ্গিদের কাছ থেকে আরও তথ্য উদঘাটন করতে পুলিশের পক্ষ থেকে পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডপ্রাপ্ত জঙ্গিরা হলেন- বগুড়ার এরুলিয়া এলাকার বড় কুমিরা গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নান আকন্দের ছেলে মানিক আকন্দ ওরফে মেহেদী হাসান (৩২), নোয়াখালীর মাইজদী থানার কৃষ্ণপুর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে জহির উদ্দিন বাবর (২০), সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার থানাবাজারের মানিকপুর গ্রামের মৃত মোকাদ্দেস আলীর ছেলে রাসেল আহমদ (২৪), কুমিল্লার বিবিরবাজার এলাকার রাজমঙ্গলপুর গ্রামের আব্দুল আলীর ছেলে আবুল কালাম আজাদ (২০), সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার ঈদগাহ বাজারের খাফনা গ্রামের মুক্তাদির মিয়ার ছেলে কামাল আহমদ (২৫), সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার আলহেরা এলাকার শাহপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে তমিউদ্দিন সুমন (৩০), রাজশাহীর বাগমারা এলাকার চেওখালি গ্রামের কায়েম উদ্দিনের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (২৯), সিলেট সদর উপজেলার টুকেরবাজার এলাকার হায়দারপুর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে জুয়েল আহমেদ (২৪) ও সিলেটের গোলাপগঞ্জ থানার তুরস্তবাগ এলাকার নলুয়া গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে মো. স্বপন আহমেদ (২১)।

এদের মধ্যে মানিক আকন্দ ওরফে মেহেদী হাসান (৩২) আল্লাহর দলের সিলেট বিভাগীয় প্রধান ও বাকিরা বিভিন্ন জেলা ও থানা পর্যায়ের দায়িত্বশীল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এসএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. জেদান আল মুসা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের পুলিশ সুপার মোহিদুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল শাহপরান থানার আরামবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। আটকদের বিরুদ্ধে এসএমপির শাহপরান থানায় একটি মামলা দায়ের করে তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ পাঁচদিন করে রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, শহরতলীর বাসাগুলো অনেকটা কোলাহলমুক্ত হওয়ায় জঙ্গিরা সেখানেই বাসা ভাড়া নেয়। তবে এ বিষয়ে আমাদের নজর রয়েছে। ভাড়াটিয়াদের সকল তথ্য পুলিশের কাছে রয়েছে। কোনো অবস্থায়ই জঙ্গিরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। জঙ্গি নির্মূলে আমরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

আরও