হুইপ শামসুল হকের মামলায় পুলিশ কর্মকর্তার জামিন

নিউজ ডেস্ক::জাতীয় সংসদের হুইপ শামসুল হক চৌধুরীর করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় সেই পুলিশ পরিদর্শক (সাময়িক বরখান্ত) মাহমুদ সাইফুল করিম ওরফে সাইফ আমিনের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার আইনজীবীর মাধ্যমে সাইফুল করিম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন আসামির জামিনের এ আদেশ দেন।

এ দিন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের মাধ্যমে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন আসামি।

শুনানিতে সায়েদুল হক সুমন বলেন, আসামি সম্পূর্ণভাবে নির্দোষ ও নিরাপরাধ। তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। আসামির কাছ থেকে জব্দকৃত আলামত মোবাইল ফোন, সিম, ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সাইফ আমিনের ধারণকৃত তথ্য ফরেনসিক বিশ্লেষণে বিতর্কিত স্ট্যাটাস পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া আসামি গুরুতর অসুস্থ। কিছুদিন আগে তার হার্টের অপারেশন হয়েছে। জামিন পেলে আসামি পলাতক হবেন না।

অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর নজরুল ইসলাম শামীম আসামির জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আগামী ৫ এপ্রিল পর্যন্ত জামিনের আদেশ দেন।

আদালত সূত্র জানায়, গত ১০ ফেব্রæয়ারি মামলাটির প্রতিবেদন দাখির করেন কাউন্টার টেরোরিজমের সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং টিমের পুলিশ পরিদর্শক নাজমুল নিশাত। ১২ ফেব্রুয়ারি আদালত প্রতিবেদনটি আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

গত বছর ২৫ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাঁচ বছরে ১৮০ কোটি টাকা জুয়ার আসর থেকে হুইপ শামসুল হক চৌধুরী আয় করেছেন- এমন স্ট্যাটাস দেয়ার অভিযোগে ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়।

মামলায় বলা হয়, চলমান ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে বাদীর (শামসুল হক চৌধুরী) নাম কোথাও আসেনি। বাদীর বিরুদ্ধে করা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। যা প্রকাশের মাধ্যমে বাদী সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

এ দিকে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাদীর বিরুদ্ধে আসামির দেয়া বিতর্কিত পোস্টটি বিভিন্ন জাতীয় প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়াতে ব্যাপক প্রচার ও প্রকাশ হয়। এতে বাদী সামাজিক, পারিবারিক, রাজনৈতিক ও বন্ধু মহলে বিরক্ত, অপমান, অপদস্থ ও হেয় প্রতিপন্ন হন এবং তার ব্যাপক মানহানি ঘটে। যার ফলে বাদীর নির্বাচনী এলাকায় শান্তিপ্রিয় জনগণের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়ে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটার উপক্রম হয়।

 

আরও