সারাদেশে এখন সিনেমা হল মাত্র ৭০টি!

 দেশে সচল সিনেমা হলের সংখ্যা কমতে কমতে ৭০টিতে এসে দাঁড়িয়েছে। দু-তিন বছর আগেও সিনেমা হলের সংখ্যা ছিল ২৫০।

নব্বইয়ের দশকে যেদিকে সারাদেশে ১ হাজার ৪৩৫টির মতো সিনেমা হল সচল ছিল, সেখানে এখন আছে কেবল ৭০টি! এখন দেশের অনেক জেলা শহরে কোনো সচল সিনেমা হল-ই নেই। বরগুনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, নড়াইল, নাটোর, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, পঞ্চগড়, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, চুয়াডাঙ্গা, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, বান্দরবানসহ দেশের ২৫টি জেলায় বর্তমানে সচল কোনো সিনেমা হল নেই।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির উপদেষ্টা মিয়া আলাউদ্দিন এ প্রতিবেদককে এ তথ্য জানিয়েছেন।

প্রযোজক, পরিবেশক ও প্রদর্শক সমিতির কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সাল পর্যন্ত টাঙ্গাইলে ৪৭টি সিনেমা হল থাকলেও এখন সেখানে মাত্র ১০টি হল সচল রয়েছে। যশোরে ২১টি সিনেমা হল থাকলেও এখন মাত্র চারটি সিনেমা হল চালু রয়েছে। অন্যদিকে সিরাজগঞ্জ জেলার ৩১টি সিনেমা হলের মধ্যে রয়েছে মাত্র পাঁচটি।

একই চিত্র রাজধানী ঢাকাতেও। গুলিস্তান, নাজ, মুন, মুকুল, সদরঘাটের রূপমহল, আরমানিটোলার শাবিস্থান, পোস্তগোলার ডায়না, কারওয়ান বাজার এলাকায় পূর্ণিমা ও কাকরাইলের রাজমণি ও রাজিয়া সিনেমা হলও বন্ধ হয়ে গেছে।

সিনেমা হলগুলো বন্ধ হওয়ার পেছনের কারণ হিসেবে সিনেমা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভালো সিনেমা নেই বলে হল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কেউ আবার বলছেন, হল নেই বলেই সিনেমার ব্যবসা খারাপ। তাই ভালো সিনেমাও নির্মিত হচ্ছে না।

সবমিলিয়ে বাস্তব চিত্র হচ্ছে, ক্রমশই দেশের সিনেমা হলগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যা দেশের সিনেমার জন্য শঙ্কার বিষয়। যে ৭০টি সিনেমা হল এখনও সচল রয়েছে, সেগুলোও খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে।

প্রদর্শক সমিতির সভাপতি ও প্রযোজক ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ এ প্রতিবেদককে বলেন, দু-একটা ছবি যে বছরে ব্যবসা করছে না, তা বলছিনা। কিন্তু, এতে কি সিনেমা হল টিকে থাকবে? বাংলাদেশের সিনেমা এখন লাইফ সাপোর্টে আছে। আর যদি দিনকে দিন হলের সংখ্যাও কমতে থাকে, তাহলে বিশাল সংকটে পড়তে হবে। এক সময় দেশে হলই থাকবে না।

পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার এ প্রতিবেদককে বলেন, সিনেমা চালিয়ে এখন হল মালিকরা লাভবান হতে পারছেন না। তাই হল ভেঙ্গে মার্কেট বানাচ্ছেন বা অন্য ব্যবসা করছেন। হল না থাকলে সিনেমা কীভাবে দেখবে মানুষ? তাই যেকোনোভাবেই হোক সিনেমা হল টিকিয়ে রাখতে হবে।

 

আরও