সর্বশেষ

ঝিনাইদহে আসামির পরিবারের কাছ থেকে নেয়া টাকা ফেরত দিল পুলিশ!

ঝিনাইদহে চুরি মামলার আসামির পরিবারকে ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নেয়া ৩৯ হাজার টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে।

চলতি মাসের ১২ তারিখ থেকে সদর উপজেলার ডাকবাংলা পুলিশ ক্যাম্পের এসআই মখলেচুর রহমানের কাছে ছিল ওই টাকা।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আসামির পরিবারকে টাকা ফেরত দেন তিনি।

একই ঘটনায় উদ্ধার করা মালামালের ভাগ নেয়া এবং অর্থ বাণিজ্যর অভিযোগ উঠেছে ঝিনাইদহ সদর থানার এসআই আবদুল হকের বিরুদ্ধে। দায়িত্বশীল একটি সূত্র এ খবর নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, গত ২২ জানুয়ারি রাত অনুমান সাড়ে ১১টার দিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ডাকবাংলা বাজারে নিউ সেলবাজার টেলিকম নামের একটি দোকানে চুরি সংঘটিত হয়। এ ঘটনায় দোকান মালিক মো. সুমন আলী অজ্ঞাতনামা চোরের বিরুদ্ধে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। একই থানার এসআই আবদুল হককে এ মামলার তদন্তভার দেয়া হয়।

১২ ফেব্রুয়ারি বিকালে চুয়াডাঙ্গা জেলার ১০ মাইল বাজারের একে টেলিকম নামের একটি দোকানে চোরাই মেমোরি কার্ড বিক্রি সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে যায় চোরদলের এক সদস্য। সে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সুকদিয়া গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে মাসুদ রানা।

প্রথম দফায় তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১৭টি মেমোরি কার্ড। ওই দিন রাত অনুমান ৮টার দিকে মাসুদ রানাকে সঙ্গে নিয়ে অভিযানে নামে পুলিশ।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ বাজারের হুমাইয়া টেলিকম, আলমগীর টেলিকম এবং মাসুদ টেলিকমের দোকান থেকে ৩টি বাটন ফোন উদ্ধার করা হয়। পরের দিন ১৩ ফেব্রুয়ারি চোরের দেয়া তথ্যমতে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরে অভিযান চালায় পুলিশ।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, এ অভিযানের সময় ঝিনাইদহে কর্মরত এক পুলিশ সার্জনের নিকট আত্মীয়র কাছ থেকে আরও কিছু মেমোরি কার্ড উদ্ধার করা হয়। নগদ ১৩ হাজার টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয় পুলিশ সার্জনের ওই আত্মীয়কে। এর আগেই ঘটে যায় অর্থ বাণিজ্যসহ উদ্ধার করা মালামাল ভাগ করার ঘটনা।

আসামির পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য মতে, ১২ ফেব্রুয়ারি বিকালে চুরি মামলায় আটক করা মাসুদ রানাকে। এর পরে স্থানীয় ডাকবাংলা পুলিশ ক্যাম্পে রাখা হয়। সেখান থেকে ফোন করা হয় তার মা তাছলিমার কাছে। ফোনে মাসুদ রানা মাকে টাকা নিয়ে ক্যাম্পে আসতে বলে।

সন্ধ্যার দিকে পুলিশ ক্যাম্পে ছুটে যায় মা তাছলিমা ও স্ত্রী সাথী। ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে তাদের কাছে দাবি করা হয় দুই লাখ টাকা। একপর্যায়ে ৫০ হাজার এবং সব শেষ মামলার তদন্তকারী এসআই আব্দুল হকের উপস্থিতিতে ৪০ হাজার টাকা ডাকবাংলা পুলিশ ক্যাম্পের এসআই মখলেচুর রহমানের হাতে তুলে দেয় তারা। ৩৯ হাজার টাকা রেখে এক হাজার টাকা গাড়ি ভাড়া বাবদ ফেরত দেয়া হয়।

মামলার বাদীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেয়ার জন্য ওই টাকা নেয়া হয় মর্মে সংশ্লিষ্ট এসআই মখলেচুর রহমান দাবি করেছেন। এ ঘটনার পরে মাসুদ রানাকে চুরি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয় এবং ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সে।

অভিযোগ করা হয়েছে, উদ্ধার করা মালামালের মধ্য থেকে একটি মোবাইল সেটসহ দুইটি মেমোরি কার্ড মামলার তদন্তকারী রেখে দেন।

আরও অভিযোগ করা হয়েছে সরোজগঞ্জ বাজারের যে ৩টি দোকান থেকে চোরাই মোবাইল উদ্ধার করা হয়। ওই সব দোকানের মালিকদের গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে তদন্তকারী এসআই হাতিয়ে নেন ১১ হাজার টাকা।

ডাকবাংলা পুলিশ ক্যাম্পের এসআই মখলেচুর রহমানের কাছে থাকা ৩৯ হাজার টাকার মধ্য থেকে ১০ হাজার টাকাও দাবি করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, একটি মোবাইল ফোন এবং দুইটি মেমোরি কার্ড নিয়েছেন তিনি। সোমবার দুপুরে একটি মেমোরি কার্ড ঝিনাইদহ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সামনে মামলার বাদীকে ফেরত দেন তিনি। এরপর খবর জানাজানি হয়ে পড়ে।

নিরুপায় হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মো. সুমন আলী গত ১৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করে ঘটনা খুলে বলেন এবং একটি লিখিত আবেদন করেন।

পুলিশ সুপার জানান, অভিযোগ তদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

ঝিনাইদহ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার আসামির পরিবারকে ভয় দেখিয়ে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগের বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন।

তিনি জানান, ঘটনার দিনই এক হাজার টাকা আসামির পরিবার নিয়েছে। বাকি ৩৯ হাজার টাকা ডাকবাংলা পুলিশ ক্যাম্পের এসআই মখলেচুর রহমানের কাছ থেকে আসামির পরিবার সোমবার বুঝে পেয়েছেন মর্মে নিশ্চিত হয়েছেন তিনি।

 

আরও