দিল্লিতে সংঘর্ষে ১৩ জন নিহত, আহত ১৫০

ভারতের নয়াদিল্লিতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) বাতিলের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো সহিংস বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। সরকার সমর্থকদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে বেশ কয়েকটি জায়গায় হামলা, ভাঙচুর হয়েছে।

এনডিটিভি জানায়, সংঘর্ষের ঘটনা ক্রমশ ব্যাপক আকার নিচ্ছে। এখন পর্যন্ত এক পুলিশ সদস্যসহ ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, অগ্নিসংযোগ ভাঙচুরের কারণে আহত হয়েছেন অন্তত ১৫০ জন। ৭০ জনের শরীরে গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানীতে সেনা মোতায়েন নিয়ে জল্পনা চললেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আপাতত সেনা মোতায়েন হচ্ছে না। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এটাই যথেষ্ট।

দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। উত্তপ্ত পরিস্থিতির জন্য গুজবকে দায়ী করে অমিত শাহ বলেন, শান্তিরক্ষার জন্য গুজব ছড়ানো বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।

উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে এক মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। উত্তর পূর্ব দিল্লির সমস্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বেশ কয়েকটি জায়গায় মেট্রো চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে এনডিটিভি জানায়।

বিতর্কিত আইনটি বাতিলের দাবিতে জাফরাবাদে প্রায় এক হাজার নারী শনিবার রাত থেকে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করেন। রোববার বিকেলে এখানে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ থেকে ২০১৫ সালের আগে ভারতে যাওয়া অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, এই আইন বৈষম্যমূলক ও ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান পরিপন্থী। এনআরসি (জাতীয় নাগরিকপঞ্জি) ও এই আইনের মাধ্যমে মুসলিমদের রাষ্ট্রহীন করার চেষ্টা হচ্ছে।

গতকাল রোববার ট্রাম্প ভারতে পৌঁছানোর আগেই দিল্লিতে বিক্ষোভ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

 

আরও