দিল্লিতে হতাহতদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার ঘোষণা কেজরিওয়ালের

 বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী (সিএএ) আইনকে কেন্দ্র করে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের আক্রমণে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে এ পর্যন্ত ৩৫ জনের প্রাণহানি হয়েছে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ঘোষণা দিয়েছেন, সহিংসতার ঘটনায় হতাহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। নিহত বয়স্ক পরিবারকে ১০ লাখ ও নিহত নাবালক পরিবারকে ৫ লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে।

বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল বলেছেন, সহিংসতায় যারা স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে গেছেন, তাদের প্রত্যেককে দেয়া ৫ লাখ রুপি। গুরুতর আহতরা পাবেন ২ লাখ। স্বল্প আহতরা ২০ হাজার রুপি করে পাবেন।

দিল্লি সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, সহিংসতায় যারা পিতা-মাতাকে হারিয়েছেন, তারা পাবেন ৩ লাখ রুপি করে। যাদের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে তারা পাবে ৫ লাখ করে রুপি। মালামাল ক্ষতির জন্য ভাড়াটিয়ারা পাবেন ১ লাখ এবং মালিকরা পাবেন ৪ লাখ।

যাদের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ পোড়েনি কিন্তু মালামালের ক্ষতি হয়েছে তারা আড়াই লাখ, যাদের দোকান-পাট লুট করে নেয়া হয়েছে তারা ৫ লাখ এবং যাদের ঘরবাড়ি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদেরকে জরুরি ভিত্তিতে ২৫ হাজার রুপি করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন কেজরিওয়াল।

সহিংসতায় যারা গৃহপালিত পশু হারিয়েছেন তারা পশুপ্রতি ৫ হাজার রুপি, সাধারণ রিকশা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার জন্য ২৫ হাজার এবং যাদের ই-রিকশা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা ৫০ হাজার রুপি আর্থিক সহায়তা পাবেন।

দাঙ্গায় আহতদের বিনা খরচে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা দেয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, সহিংসতায় যারা আহত হয়েছেন তারা দিল্লি সরকারের ফারিশতে স্কিমের আওতায় বিনা খরচে যেকোনো বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারবেন। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের খাদ্য সরবরাহেরও ঘোষণা দিয়েছেন কেজরিওয়াল।

গত রোববার নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) সমর্থক-বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলেও ধীরে ধীরে এটি সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় রূপ নেয়। এতে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। বৃহস্পতিবারও অন্তত সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ নিয়ে সেখানে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪ জনে। এছাড়া আহত হয়েছে আরও দুই শতাধিক মানুষ।

ভারতের উত্তর-পূর্ব দিল্লির অশোকনগরে মসজিদে হামলা-অগ্নিসংযোগ করেছে বহিরাগতরা। তারা বেছে বেছে শুধু এলাকার মুসলিমদের বাড়ি ও দোকানপাটে আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয় হিন্দুরা জানিয়েছেন, তারা বহিরাগতদের কাউকে চেনেন না এবং এমন পরিস্থিতিতে গৃহহীন মুসলিমদের পাশে থাকবেন সবাই।

গত মঙ্গলবার অশোকনগরের মুসলিম পরিবারগুলোর ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এর আগে অন্তত এক হাজার জনের একটি গ্রুপ এলাকায় ঢুকে একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় মসজিদে অন্তত ২০ জন নামাজ পড়ছিলেন।

 

আরও