এবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন শুধু অনলাইনে

কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণির ভর্তিতে এ বছর বড় ধরনের চারটি পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এর মধ্যে কোটা বাতিল, রেজিস্ট্রেশন ফি বাড়ানো এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এসএমএস আবেদন বাতিলসহ ভর্তি নীতিমালায় গুরুত্বপূর্ণ চারটি পরিবর্তন রয়েছে। ভর্তি আবেদন আগামী ১০ মে শুরু হয়ে ২৫ জুন শেষ করার প্রস্তাব করেছে আন্তঃশিক্ষাবোর্ড সমন্বয় কমিটি।

বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির খসড়া নীতিমালা-২০২০ তুলে ধরা হয়। সভায় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও সচিব মো. মাহবুব হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

খসড়া নীতিমালায় দেখা গেছে, এ বছর একাদশ শ্রেণির ভর্তিতে মুক্তিযোদ্ধা, প্রবাসী ও বিকেএসপি কোটা বহাল রেখে অন্যান্য কোটা বাতিল করা হয়েছে। ভর্তি প্রক্রিয়ায় জটিলতা ও ব্যয় কমাতে এসএমএসের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া বাতিল করে শুধু অনলাইনে আবেদন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ভর্তি নিশ্চয়নে ১৩০ টাকার বদলে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করতে প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ সভায় আন্তঃশিক্ষা বোর্ডগুলোর সমন্বয়ক হিসেবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত ভর্তি নীতিমালা তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি কলেজে ভর্তিতে নতুন যে সব পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে তার যৌক্তিকতাও তুলে ধরেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে বলে মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে।

নীতিমালায় দেখা গেছে, এবারও সর্বোচ্চ ১০টি পছন্দের কলেজ বা মাদ্রাসায় আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর জন্য নেওয়া হবে ১৫০ টাকা। ফলে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আর এসএমএস করে ভর্তির জন্য আবেদন করা যাবে না। আগে মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে প্রতিটি আবেদনে ১২০ টাকা ফি নেওয়া হতো।

শতভাগ মেধা কোটা ছাড়া সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিশেষ কোটা হিসেবে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা, শূন্য দশমিক ৫ বিকেএসপি এবং শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ প্রবাসী কোটা বহাল রেখে বিভাগীয় ও জেলা সদর, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধস্তন দপ্তরগুলোর কোটা বাতিল করা হয়েছে।

এবার ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণির ভর্তির ক্ষেত্রে ৫ হাজার টাকা ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকার মধ্যে আংশিক এমপিওভুক্ত ও এমপিওবিহীন প্রতিষ্ঠানের জন্য ৯ হাজার টাকা (বাংলা মাধ্যম) ও ১০ হাজার টাকা (ইংরেজি মাধ্যম) ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হবে। সকল প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্নয়ন ফি ৩ হাজার টাকার বেশি আদায় করা যাবে না। প্রতিটি খাতে অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে রশিদ প্রদান করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও মফস্বল ও পৌর এলাকার জন্য ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার টাকা, পৌর জেলা সদরে ২ হাজার টাকা, ঢাকা ছাড়া অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকায় ৩ হাজার টাকার বেশি নেওয়া যাবে না।

নীতিমালা অনুযায়ী, একাদশ শ্রেণির অনলাইনে প্রথম ধাপের ভর্তি আবেদন আগামী ১০ থেকে ২০ মে পর্যন্ত গ্রহণ করা হবে। ২৭ থেকে ৩১ জুন যাচাই-বাছাই, আপত্তি ও নিষ্পত্তি কার্যক্রম চলবে। ৮ জুন প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ করা হবে। তবে পুনঃনিরীক্ষায় এসএসসি পরীক্ষার ফল পরিবর্তনকারীরা ১ জুন থেকে ৩ জুন পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ পাবে।

দ্বিতীয় ধাপে আবেদন শুরু হবে ১৭ জুন, ২০ জুন শেষ হয়ে সেদিন রাত ৮টার পর এ ধাপের ফল প্রকাশ করা হবে এবং তৃতীয় ধাপে ২৩ জুন আবেদন শুরু হয়ে ২৫ জুন পর্যন্ত চলবে। ২৫ জুন রাত ৮টার পর এ ধাপের ফল প্রকাশ করা হবে।

নীতিমালায় পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক মো. হারুন অর রশিদ গতকাল রাতে সমকালকে বলেন, এ বছর একাদশের ভর্তি নীতিমালায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এসএমএসের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়ম ও ভোগান্তি তৈরি হয়, অনেক কলেজ কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীর অনুমতি ছাড়াই আবেদন করে ফেলেন। পরে সকল সমস্যা নিয়ে সকলে শিক্ষা বোর্ডে এসে আর্তনাদ করেন। এ সমস্যা সমাধানে এবার মোবাইলে আবেদন প্রক্রিয়াই বাতিল করে শুধু অনলাইনে আবেদন রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

তিনি বলেন, খসড়া নীতিমালায় বিভিন্ন কোটা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করাসহ আবেদন ভর্তির রেজিস্ট্রেশনে ১৩০ টাকার বদলে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নীতিমালা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এটি চূড়ান্ত করা হতে পারে বলেও জানান তিনি।

সভায় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের এ বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা, রাজধানীর সরকারি-বেসরকরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষরা উপস্থিত ছিলেন।

 

আরও