মতিঝিল-দিলকুশা এলাকা: থমকে আছে উন্নয়ন কাজ

নগরীর ব্যস্ত এলাকা মতিঝিল-দিলকুশায় দীর্ঘদিন ধরেই থেমে আছে সড়ক উন্নয়ন কাজ। বেশ কয়েকটি ম্যানহোল খোলা অবস্থায় রয়েছে। খোঁড়া রাস্তায় মাটি ও বালুর কারণে প্রচুর ধুলাবালির সৃষ্টি হচ্ছে।

এমন অব্যবস্থাপনায় সড়কগুলোতে যানবাহন ও পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এখানকার সড়কগুলোর অসমাপ্ত কাজের কারণে যানজটসহ জনদুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ। এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে এমন অবস্থা জানা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রকৌশল বিভাগ বলছে- শিগগিরই সড়ক উন্নয়ন কাজ পুনরায় শুরু হবে। এক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী প্রক্রিয়াধীন সব ধরনের অফিসিয়াল কাজের প্রক্রিয়া শেষ করা হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে মতিঝিল-দিলকুশার সড়ক উন্নয়ন কাজ শুরু হতে পারে।

ডিএসসিসি ৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় পড়েছে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম মতিঝিল ও দিলকুশা এলাকা। আধুনিক অফিসপাড়া হওয়ায় এই ওয়ার্ডে লোকসংখ্যাও তেমন একটা বেশি নয়।

এছাড়া অন্যান্য বড় বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও শিল্প-কারখানাও এখানে কম। তবে এসব সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বেশ কয়েকটি রুটের যাত্রীবাহী যানবাহনসহ অনেক মানুষ চলাচল করে। তাদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। ডিএসসিসির খিলগাঁও অঞ্চল-২ আঞ্চলিক কার্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত এই এলাকা।

জানা যায়, ইতিপূর্বে ক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেফতার খালেদ ভূঁইয়ার ঠিকাদারি কোম্পানিকে (ভূঁইয়া অ্যান্ড ভূঁইয়া ডেভেলপার লিমিটেড) এখানকার নর্দমাসহ সড়ক উন্নয়নের কাজের দরপত্র দেয়া হয়।

ওই প্রতিষ্ঠানকে মতিঝিল, দিলকুশা, বাংলাদেশ ব্যাংক ও কমলাপুর বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড এলাকা পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন কাজ দেয়া হয়েছে।

গত বছর এপ্রিলে দরপত্র আহ্বানের পর ডিএসসিসি থেকে ৩০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজের দুটি প্যাকেজ খালেদ ভূঁইয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়। মূলত ওয়ার্ডের অভ্যন্তরীণ এলাকার স্থায়ী-অস্থায়ী জলাবদ্ধতা দূর করতেই এ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছিল।

আরও জানা যায়, ওই উন্নয়ন প্রকল্পের একটি প্যাকেজ হচ্ছে দিলকুশা এলাকার রাজউক ভবন থেকে পিপলস ভবন, জীবন বীমা চত্বর ভবন পর্যন্ত গভীর ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ ফুটপাত ও সড়ক উন্নয়ন কাজ। এর ব্যয় ১৮ কোটি ৬২ লাখ ১ হাজার টাকা।

অপর প্যাকেজটি মতিঝিল, বাংলাদেশ ব্যাংক ও কমলাপুর বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড এলাকার উন্নয়নে ১০ কোটি ৯৬ লাখ ৯২ হাজার টাকা। এদিকে গত বছর কাজ শুরুর পর প্রায় ২০ শতাংশ কাজের বিল মে মাস নাগাদ প্রতিষ্ঠানটি নিয়েও নেয়।

আর ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যসিনোবিরোধী অভিযানে ধীরে ধীরে ওই উন্নয়ন কাজ থেমে যায়। এ সময় খালেদ ভূঁইয়া গ্রেফতার হলে উন্নয়ন কাজ একেবারে বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে গত বছর ডিসেম্বরের শুরুতে ভূঁইয়া অ্যান্ড ভূঁইয়া ডেভেলপার লিমিটেড কোম্পানিকে দেয়া ওই কাজের চুক্তি বাতিল করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)।

ডিএসসিসি থেকে পাঠানো চিঠির জবাব না দেয়ায় প্রতিষ্ঠানকে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে এ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অফিসিয়াল কার্যক্রম ও পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হলেও নতুন করে কার্যদেশ দেয়া হয়নি।

খালেদ ভূঁইয়ার পাওয়া ওই উন্নয়ন প্রকল্প এলাকার কোথাও সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়েছে বড় বড় ড্রেনেজ পাইপ, কোথাও রাস্তা খোঁড়া, কোথাও কোথাও ম্যানহোল খোলা অবস্থায় থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নেই নজরদারি।

ওই ম্যানহোলের চারপাশে আবার অসংখ্য ভাঙ্গা ইটের টুকরা জমে আছে। ড্রেনেজ পাইপ বসানোর জন্য রাস্তার খোঁড়া অংশে শুধু মাটি ভরাট করায় প্রচুর ধুলাবালির সৃষ্টি হচ্ছে।

এদিকে মতিঝিলের বাংলাদেশ ব্যাংক সংলগ্ন থেকে দৈনিক বাংলা মোড় রাস্তায় কয়েকটি ম্যানহোল খোলা অবস্থায় রয়েছে। ড্রেনেজ পাইপ বসানো অংশে শুধু মাটি ভরাট করা হয়েছে।

ওই রাস্তার অপর পাশেই সড়কের পাশে বড় বড় ড্রেনেজ পাইপ ফেলে রাখা হয়েছে। শাপলা চত্বর থেকে নটরডেম কলেজ পর্যন্ত রাস্তায় ড্রেনেজ পাইপ বসিয়ে ম্যানহোলে স্লাব বসানো হলেও রাস্তার কোনো সংস্কার করা হয়নি।

রাজউক ভবন সংলগ্ন রাস্তারও একই অবস্থা। অসমাপ্ত কাজগুলো বর্তমানে বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাগর ইসলাম নামে দিলকুশা রোডের এক দারোয়ান বলেন, রাস্তার কাজ শুরু হওয়ার পর ২৪ ঘণ্টাই চলত। কিন্তু এখন ১ বছর ধরে রোজগার প্রায় বন্ধ।

আর ধুলাবালির কারণে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে অনেক সমস্যা হয়। এদিকে সড়কে খানাখন্দ থাকায় ঠিকমতো গাড়ি পার্কিং করাও যাচ্ছে না। এতে প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনা বাড়ছেই।

মো. সায়মা নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, খানাখন্দ রাস্তার কারণে কর্মস্থলের সামনে এসে প্রায়ই হোঁচট খেয়ে ব্যথা পাই।

আর খোলা ম্যানহোল পার হয়ে ব্যাংকে যাওয়ার সময় ভয় লাগে। কারণ মতিঝিল-দিলকুশার সড়ক উন্নয়ন কাজে রাস্তা সরু হওয়ায় যানজট লেগে থাকে। অনেক গাড়ি হঠাৎ দ্রুত টান দেয়। এতে রাস্তা পারপার হতে গেলে পথচারীরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হন।

ডিএসসিসির ৯ নম্বর ওয়ার্ডে নবনির্বাচিত কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মোজাম্মেল হক বলেন, মতিঝিল-দিলকুশার রাস্তাগুলোতে বর্তমানে মানুষ ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারছেন না।

উন্নয়ন কাজ বন্ধ থাকায় বিষয়টি খুবই কষ্টদায়ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামনে বৃষ্টির দিন আসছে বলে সমস্যা আরও বাড়বে। তাই সমস্যার দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানান কাউন্সিলর। কারণ উন্নয়ন দ্রুত সম্পন্ন হলে জনদুর্ভোগ ও যানজটের সমস্যা এমনিতেই চলে যাবে।

ডিএসসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. আসাদুজ্জামান মোবাইল ফোনে বলেন, গত সিটি নির্বাচনের কারণে মতিঝিল-দিলকুশাসহ ওই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত বন্ধ থাকা উন্নয়ন কাজ খুব দ্রুত শুরু হবে।

ইতিমধ্যে দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে মূল্যায়ন চলছে। আর প্রথমেই প্রক্রিয়াধীন ওই প্রকল্পের প্রতিটি রাস্তার কাজ দ্রুত শেষ করা হবে।

আরও