ইরাকে করোনায় প্রথম প্রাণহানি

 প্রথমবারের মতো ইরাকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৭০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির প্রাণহানি ঘটেছে। নতুন করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে এটিই দেশটিতে প্রথম মৃত্যু। বুধবার ওই ব্যক্তি মারা গেছেন বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে।

দেশটির উত্তরাঞ্চলের কুর্দি স্বায়ত্তশাসিত সুলাইমানিয়া প্রদেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র বলেছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ওই ব্যক্তিকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিল। সেখানেই মারা গেছেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, সম্প্রতি প্রতিবেশি ইরান থেকে দেশে ফিরে আসা ইরাকিদের সঙ্গে স্বাক্ষাৎ করেছিলেন ওই ব্যক্তি। করোনাভাইরাসের প্রাণকেন্দ্র চীনের বাইরে মঙ্গলবার পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে ইরানে। ইরানে করোনায় প্রাণ গেছেন ৭৭ জনের এবং আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৩০০ জনের বেশি।

তবে একদিনের ব্যবধানে ইরানের এই প্রাণহানির সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ইউরোপের দেশ ইতালি। দেশটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭৯ জন।

ইরানের বৃহত্তম রফতানি বাজার ইরাকে এখন পর্যন্ত করোনোয় সংক্রমিত হয়েছেন ৩১ জন। ইরানি তীর্থযাত্রীদের জনপ্রিয় ধর্মীয় গন্তব্য ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ এবং কারবালা। ইরানে দ্রুতগতিতে করোনার বিস্তারের কারণে ইরাকেও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া অনেক ইরাকি ব্যবসা, ভ্রমণ, মেডিক্যাল চিকিৎসা ও ধর্মীয় কাজে ইরানে যাতায়াত করেন।

করোনা পরিস্থিতি বিপজ্জনক আকার ধারণ করায় ইরাকি কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ইরান সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। ইরান এবং করোনা বিধ্বস্ত অন্যান্য দেশের নাগরিকদের ইরাকে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। করোনার প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় আগামী ৭ মার্চ পর্যন্ত দেশটির স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, সিনেমা হল, ক্যাফে ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

 

আরও