৪ দেশ ভ্রমণকারীদের ওমান প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

করোনাভাইরাস বেশি ছড়িয়েছে এমন ৪টি দেশে ঘুরে আসা প্রবাসীদের ওমানে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। দেশগুলি হচ্ছে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান এবং ইতালি। এদিকে বৃস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযাযী, ওমানে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১২ তে দাঁড়িয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ওমানে ফিরে আসার আগে ১৪ দিন ধরে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান এবং ইতালি ভ্রমণ করেছেন এমন সকল প্রবাসী নাগরিক এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন।

জাতীয়তা ও ভিসার ধরণ অনুযায়ী এই ৪টি দেশে ভ্রমণকারীদের ওমানে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না । তবে এসব দেশের নাগরিক যারা এই জায়গাগুলি কোনোটিতে যাননি তাদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। পরিস্থিতি পরিপ্রেক্ষিতের প্রাদুর্ভাবের অন্যান্য দেশও এই তালিকায় যুক্ত হতে পারে।

ওমানে এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত ১২ জনের মধ্যে ৯ জন্য সম্প্রতি ইরান এবং ১ ইতালি ভ্রমণ শেষে ওমান ফিরে আসেন। আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত ২ জন পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেছেন। বাকিদের অবস্থা স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

করোনভাইরাস রোগের প্রাদুর্ভাবকে মোকাবিলা করতে সরকার যে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে তার ধারাবাহিকতায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আহমেদ বিন মোহাম্মদ বিন আল সাইদী রয়্যাল ডিক্রি বলে নতুন কিছু সিদ্ধান্ত জারি করেছেন।

জনস্বার্থে নেয়া এসব সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে; জরুরি প্রয়োজন ছাড়া স্বাস্থ্যকর্মীরা নিয়মিত ছুটি পাবেন না। বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয় এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক লাইসেন্সপ্রাপ্ত নয় এমন কোনো পণ্য বিপণন করা যাবে না এবং মেডিকেল পণ্যের দাম বাড়ানো যাবে না।

যেসব ব্যক্তি বাসা কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইনে আছেন তাদেরকে প্রদত্ত সমস্ত নির্দেশনা মেনে চলতে হবে এবং জনসমাবেশ এবং মসজিদসহ উপাসনার স্থানগুলি এড়িয়ে চলতে হবে। বিশেষজ্ঞগণকে এসব বিধি-বিধানগুলি অনুসরণ করতে হবে এবং এটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

কেউ এই সিদ্ধান্তের বিধান লঙ্ঘন করে তবে দণ্ডবিধি বা অন্য কোনো আইনে কঠোর শাস্তির জন্য আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

চীনে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর মিছিল এখনও থামেনি। বৃহস্পতিবার এই দলে শামিল হয়েছেন আরও ৩০ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪২ জন।

গতকাল চীনের মূল ভূখণ্ডে নতুন করে আরও ১৪৩ জন করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বুধবার নতুন রোগী পাওয়া গিয়েছিল ১৩৯ জন। গতকাল এই সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও গবেষকদের হিসাবে, চীনে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার অনেকটাই কমে এসেছে, বিশেষ করে ভাইরাসটির উৎস হুবেই প্রদেশের বাইরে।

বৃহস্পতিবার হুবেইয়ে মারা গেছেন আরও ২৯ জন, এর মধ্যে উহান শহরেই মৃত্যুর ঘটনা ২৩টি। চীনে এ পর্যন্ত ৮০ হাজার ৫৫২ জনের শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে।

দেশটিতে করোনা নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত এক জ্যেষ্ঠ গবেষক জানিয়েছেন, চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়েই উহান বাদে চীনের অন্য শহরগুলোতে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার শূন্যের কোঠায় নেমে আসতে পারে। গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহানে প্রথমবারের মতো ধরা পড়ে করোনাভাইরাস। এরপর অন্তত ৮০টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস। এর মধ্যে চীনের পর সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত দক্ষিণ কোরিয়ায়। দেশটিতে অন্তত ৬ হাজার ২৮৪ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে, মারা গেছেন ৪২ জন।

মৃত্যুর সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে ইউরোপের দেশ ইতালি। দেশটিতে এ পর্যন্ত অন্তত ১৪৮ জন মারা গেছেন, আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৮৫৮ জন। এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানেও ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। দেশটিতে এ পর্যন্ত অন্তত সাড়ে তিন হাজার মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন ১০৭ জন।

 

আরও