যেভাবে প্রেম ও বিয়ের পথে হাঁটলেন টয়া- শাওন

 প্রথম পরিচয় নাইন অ্যান্ড অ্যা হাফ ধারাবাহিক নাটকের শুটিংয়ে। কিন্তু সে সময় শাওন নতুন। টয়া পরিচিত মুখ। কথাবার্তা তখন খুব বেশি হয়নি। এরপর দুই তিন বছর তেমন আলাপ পরিচয় নেই। একই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার সুবাধে যতটা জানা পরিচয় তেমনটাই চলছিল। কাছে কিভাবে আসা? টয়া বলেন, একদিন থাইল্যান্ড থেকে আমি দেশে ব্যক করছিলাম। অনেকদিন থাইল্যান্ড থাকার পরে দেশে এসে প্রথম যে পরিচিত মুখ আমি দেখেছি সেটা সায়েদ জামান শাওন। আমি এয়ারপোর্ট থেকে নামলাম। দেখি নিচে পরিচিত একটা ছেলে দাড়ানো। ইউনিফর্ম পড়া। কনফিউজড ছিলাম। জিজ্ঞাস করলাম তুমি কি আমাকে চেনো। পরক্ষণেই চিনতে পারলাম। আমি জাপ করে জড়িয়ে ধরলাম। আরে শাওন। পরে আমি নিজেও অবাক হয়ে গেছি। ওর কলিগরা ওর দিকে হা করে তাকিয়ে ছিল। সেদিন এয়ারপোর্টে দেখা হওয়ার পর আবার অনেকদিন দেখা হয়নি। পরিচালক মাবরুর রশিদ বান্নাহর বিয়েতে দুজনেই ছিলেন। আলাদাভাবে গ্রুপ পারফর্মেন্স করেছেন। কিন্তু সেভাবে তখনও কথা হয়নি। গত রমজানের ঈদে একসঙ্গে একটা কাজ করেন, ওয়েব সিরিজ। ওখানে এমন হইছে আমি মেকাপ রুমে আছি। ও মেকাপ রুমে আছে। ও কানে একটা হেডফোন দিওেয় গান শুনছে। আমিও আমার ফোনে আছি। আমরা কথাও বলি না। সিনের সময় গিয়ে একটু আধটু কথা বলি। যতটুকু শর্টের জন্য দরকার। তারপর তিনদিনে শুটিং শেষ বাই বাই যে যার রাস্তায়্ দুই মাস আমাদের যোগাযোগ নেই।

হঠাৎ আবার কোরবানি ঈদে কাজের অফর। যেখান থেকে দুজনার কাছে আসার গল্পটা শুরু হয়। একসঙ্গে একটা শর্ট ফিল্মে অভিনয় করেন। শর্ট ফিল্মের নাম চিরকুট। মোহাম্মদপুর একটা স্কুলে শুটিং হয়েছে। স্কুলে বাচ্চারা দৌড়াদৌড়ি করছে। অনেকে এসে ছবি তুলছে। অনেক ছোট বাচ্চারা ওরা অটোগ্রাফ নিচ্ছে। ওখান থেকে ওর হাতটা ধরে মেকাপরুমে নিয়ে গেলাম। মেকাপের একটা ছেলে স্লো মোশনে আমাদের একটা ভিডিও করে দিলো। আমি বললাম ভিডিওটা আমাকে পাঠাও তোমাকে একটা জিনিস করে দি। ওর খুবই পছন্দের একটা গান ওখানে বসিয়ে দিলাম। টয়া যোগ করলেন,আমার ভিডিওটা খুবই সুন্দর লেগেছে। ওখান থেকে আমাদের কথা বলা শুরু। ওই দিন অনেক লেট নাইটে শুটিং শেষ হয়েছে। শাওন টয়ার বাসায় টয়াকে ড্রপ করে দিলো। ৫ বছর পরে প্রথম একে অন্যের বিপরীতে স্কিন শেয়ার করা। এর একদিন পর আমার এক ফ্রেন্ডের সঙ্গে ডিনার করছি। ও নক দিলো। বললাম যে চলো আসো। দেখি ও সত্যি সত্যি চলে আসলো। আমাদের একটা বান্ধবী ছিল। আমি চেষ্টা করছিলাম ওর সঙ্গে যদি কিছু হয়ে যায় শাওনের। বললেন টয়া। ওই বান্ধবীর নাম সানজানা। সিঙ্গেল তিনি। ও আমার ভিতর সানজানা নিয়ে এত কিউরিসিটি তৈরী করছিল। হাজারবার নামটা বলে। মেয়েটার সঙ্গে মিট করলাম। মেয়েটা খুবই মিশুক। কিন্তু ও এতই মিশুক যে স্কুল কলেজ পড়ুয়া বন্ধুর মতো হয়ে গেলাম। ওরকম কিছু ফিল হলো না। বললেন শাওন। এর মধ্যে সানজানার বার্থডে। প্রগ্রাম হবে ঈদও চলে আসলো। সানজনার কাছের বন্ধুদের সঙ্গে ঝামেলা হয়ে গেল। যাদের সঙ্গে মূলত ডেস্টিনেশন বার্থডে করার কথা ছিল। আমরা বললাম সানজানা চলো কক্সবাজার যাবো। ঈদের দিন রাতে ওর পুরো পরিবার কক্সবাজারে, সমুদ্র সৈকতে আমরা চার বন্ধু। সমুদ্রের ঢেউটা এসে মিশতেছে ওখানে একটা কাঠের সিড়ি করা। ওখানে আমরা বসেছিলাম। আমি সানজানা, নাহিদ ও শাওন। লাকিলি ওইদিন ছিল পূর্ণিমা। সব বাংলা গানগুলো গাচ্ছিলাম। আমরা একজন আরেকজনকে ফিল করছিলাম। এরপর ঢাকায় চলে আসি। আর আমি ওকে মিস করা শুরু করি। আমরা একে অপরের সঙ্গে সময় কাটাতে চাচ্ছিলাম। এমন না যে লুটুপুটু প্রেম হচ্ছে। বললেন টয়া।

এরপর আবার সিলেট যাওয়া হলো একসঙ্গে। দুজনার আরো তিনজন বন্ধু গেল। সিলেট থেকে ফিরে দুজনেই বেশি বেশি মিস করতেছিলেন। দুজনই আবার দেখা করলেন। আমরা প্রাকটিক্যালি কিছু কথা বললাম। আমি বললাম আমি আর প্রেমের মধ্যে নেই। আমি বিয়ের পথেই হাটছি। ওর পরিবার থেকেও চাচ্ছিল সেটেল হোক। আমরা আমাদের প্রেমের শুরুতেই যদি বিয়ে করি সেটা অন্যরকম হবে। বিয়ের অনুষ্ঠান হবে এক বছর পর। আর এতটুকু সময় তো প্রেম করার সময় পাচ্ছি। বললেন শাওন।

শাওন তার মাকে জানালেন। শাওনের মা দেখা করলেন টয়ার সঙ্গে। অনেক পছন্দও করলেন। আম্মুর কথা ছিল, আব্বু আমি এমন একটা বউ চাই যার সঙ্গে তুমি খুশি থাকো। অন্য কিছু না। আমি প্রথম যখন আম্মুকে বলছি, তখন বলে ওই নাটকের ওই মেয়েটা না। বললাম হ্যা হ্যা চিনছি। বলে আমার খুব পছন্দ। তখন বললাম আম্মু অমন কিছু তো হয়নি এখনো ব্যাপারটা। টয়া মজা করে বললেন,ওর আম্মু বলছে কিন্তু টয়া তো তোমাকে পাত্তাই দেবে না।

অবশেষে এলো প্রপোজের পালা। আমি ওর জন্য সারপ্রাইজ প্ল্যান করলাম আমার বাসার ছাদে। ওর ছোটবেলা থেকে সব বন্ধুদের খবর দিলাম। সেটার জন্য মা, শাওনের আম্মু আমাকে হেল্প করেছে। বললেন টয়া। শাওন বলেন,আমার প্ল্যান ছিল ডিনারে গিয়ে সুন্দর একটা রেস্টুরেন্টে গিয়ে ওকে আমি প্রপোজ করবো। ওর বেস্ট ফ্রেন্ড হচ্ছে সানজানা। আর আমার রিংয়ের সাইজটা লাগবে। রিংয়ের সাইজটা কিভাবে পাবো? আর পছন্দের ব্যাপারে ও বেশ খুঁতখুঁতে। আমি চিন্তা করলাম সানজানা আমাকে হেল্প করতে পারে। ২৮ জানুয়ারি ওকে প্রপোজ করবো। ওইদিন আমার বার্থডে। ও এটা শুনে একটু চমকাইয়া গেল। বলে করো করো। আর ও চোরের মত কি যেন হাইড করতেছে। ও কথার এক প্রসঙ্গে বলে ফেললো আরে আমি কি বলছি টয়া কোন প্ল্যান করছে! তখন বুঝলাম কিছু হচ্ছে। শাওন সানজানাকে পরবর্তী পদক্ষেপটা বললেন। যে কেকটা কাটা হবে। তার মধ্যে যেন রিংটা থাকে। শাওন বলেন,ও বললো না না এটা সম্ভব না। আমার ছোটবেলার কাছের বন্ধুরা ওদের ওয়াইফ নিয়ে হাজির। আমার মা ও ছোট ভাই ছিল। ও ওর মা বোন জামাই মিডিয়ার সিনিয়র কিছু ভাইয়া ভাবি। তখন আবার ভাবলাম আমার প্ল্যান কি হবে? সানজানা বললো ৩০ মিনিটের জন্য নিচে নিয়ে যেতে পারবা।

এর মধ্যে শাওনের বন্ধুরা ছাদে প্রপোজের জন্য সবকিছু রেডি করে ফেললো। সে কি আয়োজন। শাওন- টয়ার প্রিয় গান বাজছে। সেখানে টয়াকে প্রপোজ করার জন্য বিভিন্ন লেখা। শাওন রীতিমত হাটুঘেরে প্রপোজ করলেন। আমি না খুব লজ্জায় পড়ে গিয়েছিলাম। ওখানে সবাই উপস্থিত ছিলেন। আমি প্রথমে মজা করে বললাম না। সানজানা পাশ দিয়ে বলে আমি আছি কিন্তু। অমনি বললাম হ্যা। সে তো শুধু আমারই। বললেন টয়া।

শাওন ও টয়ার পরিচয় লম্বা সময়ের, তবে বিয়েটা হুট করে হয়ে গেল। ২০২০ সালের অধিবর্ষে, অর্থাৎ ২৯ ফেব্রুয়ারি সেরে ফেলেন বিয়ের কাজ। প্রপোজের ঠিক একমাস পরে। এর আগে হয় মেহেদি ও হলুদের অনুষ্ঠান। বিয়ের পরপরই দুজনের গন্তব্য ছিল সিলেটে। সেখানে অল্প কয়েক দিনের অবসর। তারপর ফিরেই ৪ মার্চ থেকে আবার কাজ শুরু করেছেন।

 

আরও