আতঙ্কের সুযোগ নিয়ে ব্যবসা নয়, বেসরকারি হাসপাতালকে কড়া নির্দেশ মমতার

 করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে বেসরকারি হাসপাতাল, নার্সিংহোমগুলিকে প্রথম থেকেই সামিল করেছিল রাজ্য সরকার। স্বাস্থ্যভবন থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়েছিল, করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় সব বড় ও মাঝারি বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমে আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করতে হবে। বৃহস্পতিবার ফের বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে তাদের সামাজিক দায়িত্বের কথা মনে করালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বার্তা দিলেন, এই পরিস্থিতিতে কোনরকম ব্যবসা করা চলবে না৷

করোনার সংক্রমণ রুখতে এদিন বেসরকারি হাসপাতালগুলির সঙ্গে নবান্নর সভাঘরে জরুরি বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রণনীতি ঠিক করতেই এই বৈঠক ডাকা হয়েছে। কলকাতার সব বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ডায়গনস্টিক সেন্টারগুলিকে এই বৈঠকে ডাকা হয়। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় কী কী পদক্ষেপ করা যেতে পারে, তা নিয়ে সবিস্তার আলোচনা হয় বৈঠকে।

গত সোমবারই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, করোনা-আক্রান্ত কেউ গেলে তাঁদের চিকিৎসা করতেই হবে। ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না।

এই বৈঠকের আগে স্বাস্থ্য ভবনের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মোকাবিলায় সবরকমভাবে প্রস্তুত থাকার উপর জোর দিচ্ছে নবান্ন।

করোনা মোকাবিলায় ইতোমধ্যেই নানা ব্যবস্থা নিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। কলকাতায় যেখানে যেখানে আইসোলেশন ওয়ার্ড রয়েছে, সেখানে ছয় সদস্যের মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। সেখানে থাকছেন একজন শিশুরোগ, একজন ফুসফুস, একজন মেডিসিন, একজন ইএনটি ও একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। এ ছাড়াও একজন মাইক্রোবায়োলজিস্টও থাকবেন। আইসোলেশনের জন্য আলাদা সিসিইউ করা হচ্ছে। সব মেডিক্যাল কলেজে আলাদা করে ফিভার ক্লিনিক করা হচ্ছে। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালও এই পরিষেবা দেওয়ার ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।

উল্লেখ্য, মাস্কের কালোবাজারি নিয়ে ইতিমধ্যেই কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেছেন, যারা সেটা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ব্যাপারে পুলিশ তো বটেই, সরকারের তরফে সব রকমের নজরদারি শুরু হয়েছে।

 

আরও