নারায়ণগঞ্জে দুই বাড়ির ২ মাসের ভাড়া মওকুফ করলেন মালিক

 নারায়ণগঞ্জে দুই বাড়ির এক মালিক তার ২২ ভাড়াটিয়ার দুই মাসের ভাড়া মওকুফ করে দিয়েছেন। চলমান করোনাভাইরাস আতঙ্কে সারাদেশ যখন কার্যত অবরুদ্ধ এবং সরকারি নির্দেশে দেশবাসী স্বেচ্ছায় গৃহবন্দী অবস্থায় রয়েছেন ঠিক তখন শান্তা ইসলাম নামে ওই বাড়ির মালিক শুধু ২ মাসের ভাড়াই মওকুফ করেননি সঙ্গে খাদ্য সহায়তাও দিয়েছেন।

তিনি শনিবার ভাড়াটিয়াদের বাড়িতে নিজে গিয়ে চাল, ডাল, তেল, আলু, পেঁযাজ ও একটি করে সাবান পৌঁছে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে বাড়ি দুটির মালিক শান্তা ইসলাম বলেন, নারায়ণগঞ্জে তাদের দুটি বাড়ি রয়েছে। একটি নগরের বাড়ৈইভোগ এলাকায় ড্রিম হাউজ নামে দোতলা বাড়ি এবং অপরটি ফতুল্লার ভূঁইগড় এলাকায় অস্থায়ী নিবাস নামে তিনতলা আরেকটি বাড়ি রয়েছে। এই দুই বাড়িতে মোট ২২টি পরিবার ভাড়া থাকেন।

তিনি বলেন, স্বামীর সঙ্গে কথা বলে তিনি ভাড়াটিয়াদের চলতি মার্চ ও আসন্ন এপ্রিল মাসের বাড়ি ভাড়া, গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল মওকুফ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ভাড়া মওকুফের বিষয়টি ভাড়াটিয়াদের জানালে তারা চলতি মার্চ মাসের ভাড়া দেওয়ার সার্মথ্য রয়েছে বলে তাকে জানায়। এরপরেও তিনি ভাড়াটিয়াদের ২ মাসের ভাড়া মওকুফের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। সেই সঙ্গে চিন্তা করেন, যেহেতু সবাই সরকারি নির্দেশে স্বেচ্ছায় গৃহবন্দী রয়েছেন তাই তাদের খাবারের সঙ্কট দেখা দিতে পারে। এ জন্য তিনি শনিবার নিজে ভাড়াটিয়াদের ঘরে ঘরে গিয়ে প্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা দিয়ে আসেন।

শান্তা ইসলাম আরও বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতার কোন বিকল্প নেই। ভাইরাস থেকে বাঁচতে হলে বাসায় থাকতে হবে। বাসা থেকে প্রয়োজন ছাড়া কারোরই বাইরে বের হওয়ার প্রয়োজন নেই। এ কারণে আমি আমার ভাড়াটিয়াদের জন্য এ উদ্যোগ নিয়েছি। তিনি সমাজের বিত্তশালী মানুষদের এ অবস্থায় অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

ভাড়াটিয়ারা বলেন, আমরা একেবারে অস্বচ্ছল নই। মার্চ মাসের ভাড়া দেওয়ার সক্ষমতা আমাদের ছিল। তারপরেও বাড়ির মালিক ভাড়া মওকুফের পাশাপাশি খাদ্য সহায়তা দেওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত। আমরা খুব ভাগ্যবান যে এমন বাড়িওয়ালা পেয়েছি। এমনভাবে যদি প্রত্যেক বাড়িওয়ালা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়, তাহলে কেউ হয়তো বাড়ি থেকে বের হবেন না।

 

আরও