ইউরোপে লাশ বাড়ছে, সিলেটে বাড়ছে টেনশন

 জায়ান্ট সার্চ ইঞ্জিন গুগুল করোনাভাইরাসের হালনাগাদ (আপডেট) রাখতে একটি আলাদা সাইট তৈরি করেছে। প্রতি মুহুর্তে সেই সাইটে করোনাভাইরাসের কারণে কোথায় কোন দেশে মৃত্যু কিংবা আক্রান্তসংখ্যা বাড়ছে, তার হালনাগাদ হচ্ছে। ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দেশে পাল্লা দিয়ে বাড়া মৃতের সংখ্যাও সেখানে বাড়ছে প্রতিনিয়ত। করোনাভাইরাসের কারণে এই মৃত্যুর মিছিলে সিলেটজুড়ে বাড়ছে টেনশন।

এই টেনশন বা দুশ্চিন্তা নিজের স্বজনদের নিয়ে; ইউরোপ-আমেরিকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সিলেটিদের নিয়ে।

ইউরোপ-আমেরিকা তথা যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, ইতালি, ফ্রান্সসহ অনেক দেশে লাখ লাখ সিলেটিদের বাস। কেউ কেউ সেসব দেশের নাগরিকত্ব পেয়েছেন, কেউবা নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টায় আছেন। এসব প্রবাসীদের স্বজনরা, যারা দেশে তথা সিলেটে আছেন, তাদের মধ্যে এখন ঘোর দুশ্চিন্তা।

সিলেটের মানুষের এই দুশ্চিন্তা কমার কোনো লক্ষণ নেই, বরঞ্চ বাড়ছেই। কেননা, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রে করোনাক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মিছিলে যে যুক্ত হচ্ছে সিলেটিদের নামও!

এখনও পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৬ সিলেটি মারা গেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে মারা গেছেন ৪ সিলেটি। স্পেনে অন্তত ৫ সিলেটি আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে। অন্যান্য দেশেও বাংলাদেশিরা আক্রান্ত হচ্ছেন; কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিচয় প্রকাশ না করায় সেখানে সিলেটি কেউ আছেন কিনা, তা জানা যাচ্ছে না।

প্রাপ্ত তথ্য বলছে, গত ১৩ মার্চ সিলেটের গোলাপগঞ্জের বাগিরঘাটের আফরোজ মিয়া নামের একজন যুক্তরাজ্যের টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকায় করোনাক্রান্ত হয়ে মারা যান। ২০ মার্চ মৌলভীবাজারের মাহমুদুর রহমান মারা যান লন্ডনে। ২৩ মার্চ সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার ছনগ্রামের জামসেদ আলী, ২৪ মার্চ সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সাহারপাড়ার খসরু মিয়া করোনার ছোবলে লন্ডনে প্রাণ হারান।

২৫ মার্চ সিলেটের দক্ষিণ সুরমার মোগলগাঁও ইউনিয়নের পংকি মিয়া, রবিবার (২৯ মার্চ) দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দির সোহেল আহমদ, সোমবার (৩০ মার্চ) দক্ষিণ সুরমার লালাবাজারের খাজাখালু গ্রামের মদরিস আলী যুক্তরাজ্যে করোনাক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারান।

আর কাল সোমবার ২৪ ঘন্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ৪ সিলেটি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তন্মধ্যে সিলেটের গোলাপগঞ্জের রনকেলী দক্ষিণভাগের মোদাব্বির চৌধুরী ইছমত এবং হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার মিনহাজপুরের আজিজুর রহমান রয়েছেন। তারা দুজনই নিউইয়র্কে মারা গেছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েট সিটি এবং নিউজার্সিতে দুই সিলেটি নারী মারা গেছেন বলে খবর এসেছে। তবে কর্তৃপক্ষ তাদের বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করেনি।

এসব অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যু সিলেটের মানুষকে আতঙ্কিত করছে প্রবাসে থাকা নিজের স্বজনদের ব্যাপারে।

গুগলের ওই সাইটে থাকা সর্বশেষ তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় দেড় লাখ, ইতালিতে প্রায় এক লাখ, স্পেনে প্রায় ৮৫ হাজার, ফ্রান্সে প্রায় ৪০ হাজার, যুক্তরাজ্যে প্রায় ২০ হাজার মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্ত হয়ে ইতালিতে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার, স্পেনে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় আড়াই হাজার, ফ্রান্সে প্রায় আড়াই হাজার, যুক্তরাজ্যে প্রায় দেড় হাজার মানুষ মারা গেছেন। এই সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। আক্রান্তদের মধ্যে অনেক বাংলাদেশিও আছেন। আক্রান্ত হওয়া এসব প্রতিটি দেশেই হাজার হাজার সিলেটিদের বাস। তাদের নিয়ে এখন দেশে তথা সিলেটে স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা। স্বজনরা যেন সুস্থ থাকেন, সেজন্য এখন অনেকেই সিলেটে দোয়া করাচ্ছেন, মিলাদ পড়াচ্ছেন, করছেন প্রার্থনা।

যেমনটি বলছিলেন সিলেটের বিশ্বনাথের আব্দুর রব, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইতালি সব দেশে আমাদের স্বজন আছে। তাদের নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি। এই ভয়াবহ সময়ে তারা যেন ভালো থাকে, এটাই আমাদের প্রার্থনা।

 

আরও