করোনা গেলেই পাপিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় অস্ত্র আইনে করা মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমানকে। তাদের আরও দুই মামলায় পাঁচ দিন করে দশ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ বাকি রয়েছে।

কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে তাদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ আপাতত হচ্ছে না। করোনার প্রাদুর্ভাব দূর হলে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মামলাটির তদন্ত সংস্থা র্যাব-১ এর সহকারী পুলিশ সুপার সালাউদ্দিন বলেন, পাপিয়া দম্পত্তির তিনটি মামলাই তদন্তাধীন। শেরেবাংলা নগর থানার অস্ত্র মামলায় রিমান্ড তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের আরও দশ দিনের রিমান্ডের জিজ্ঞাসাবাদ বাকি রয়েছে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব গেলে তাদেরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

শেরেবাংলা নগর থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক আসাদ বলেন, মার্চের মাঝামাঝি সময় শেরে বাংলানগর থানার অস্ত্র মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে পাপিয়াকে আদালতে হাজির করে র্যাব। শেরেবাংলা নগর থানার আরেকটি মামলায় তার আরও পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ আছে। করোনাভাইরাসের কারণে তাকে বাকি এই মামলায় রিমান্ডে না নিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অপরদিকে বিমানবন্দর থানার জাল টাকা উদ্ধারের মামলায় পাপিয়ার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে তাকে এই মামলায় রিমান্ডে না নিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

বিমানবন্দর থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মাহমুদুর রহমান বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে তাদের আপাতত রিমান্ডে না নিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। করোনাভাইরাস রোধের পর তাকে এই মামলায় রিমান্ডে নেয়া হবে।

এর আগে ১০ মার্চ জাল টাকা উদ্ধার, অস্ত্র ও মাদকের পৃথক তিন মামলায় নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমানকে ১৫ দিনের রিমান্ড আদেশ দেন আদালত।

এদিন এই দম্পতিকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় বিমানবন্দর থানার বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা এবং শেরেবাংলা নগর থানার অস্ত্র ও মাদক মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ১০ দিন করে ৩০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেক মামলায় পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে ২৪ ফেব্রুয়ারি বিমানবন্দর থানার জাল টাকা উদ্ধারের মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম মাসুদুর রহমান পাঁচ দিন, শেরেবাংলা নগর থানার অস্ত্র ও মাদক আইনে দায়ের করা মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসীম পাঁচ দিন করে মোট ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সেদিন তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। সেখানে জাল টাকা উদ্ধারের মামলায় ১০ দিন, অস্ত্র ও মাদক মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে ১০ দিন করে ২০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। ঢাকা মহানগর হাকিম শাহীনুর রহমান তাদের গ্রেফতার দেখান ও আবেদন মঞ্জুর করেন।

অন্যদিকে তিন মামলায় রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন আসামি পক্ষের আইনজীবী। আদালত তা মঞ্জুর করেননি।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দেশত্যাগের সময় পাপিয়াসহ চারজনকে গ্রেফতার করে র্যাব। গ্রেফতার অন্যরা হলেন- পাপিয়ার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমন (৩৮), সাব্বির খন্দকার (২৯) ও শেখ তায়্যিবা (২২)।

তাদের কাছ থেকে সাতটি পাসপোর্ট, নগদ দুই লাখ ১২ হাজার ২৭০ টাকা, ২৫ হাজার ৬০০ টাকার জাল মুদ্রা, ১১ হাজার ৯১ ইউএস ডলারসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা জব্দ করা হয়।

গ্রেফতারের পর ওইদিন রাতেই নরসিংদীর বাসায় এবং রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে হোটেল ওয়েস্টিনে তাদের নামে বুকিং করা বিলাসবহুল প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুটে অভিযান চালানো হয়।

এছাড়া ফার্মগেট এলাকার ২৮ নম্বর ইন্দিরা রোডে অবস্থিত রওশনস ডমিনো রিলিভো নামক বিলাসবহুল ভবনে তাদের দুটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ২০ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, পাঁচ বোতল বিদেশি মদ ও নগদ ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা, পাঁচটি পাসপোর্ট, তিনটি চেক, বিদেশি মুদ্রা, বিভিন্ন ব্যাংকের ১০টি ভিসা ও এটিএম কার্ড জব্দ করে র্যাব।

পরের দিন দল থেকে পাপিয়াকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়। বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি নাজমা আকতার ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অপু উকিল স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ বহিষ্কারাদেশ দেয়া হয়।

 

আরও