আশা ছেড়ে দেইনি, কখনই দিবো না।

 

একদিকে আমার অত্যন্ত প্রিয় এবং কাছের একজন মানুষ, যাকে শুধু বন্ধু বললে ভুল হবে, অনেকটা পরিবারের মত, সেই সদা হাস্যজ্জল সরলমনা শরীফ ভাই হাসপাতালে শয্যাশায়ী। একরকম চোখের সামনে ভাসছে সেদিনের কথা, তার সাথে বসে গল্প করছিলাম আর এবছর গ্রীস্মকালে কি করবো না করবো এগুলো নিয়ে আলাপ করছিলাম। আজ সেই মানুষটা ঠিকমত কথা বলতে পারছে না। ওইদিন (২৬ শে মার্চ, বৃহস্পতিবার) সকালে তাকে যখন ফোন দেই তার খবর নেয়ার জন্য তখনো সে তার নিজের বাসায় ছিল। সে ফোনটা ধরেই বলল “ভাই আমার অবস্থা বালা নায়, সারা শরীর বিশ, গলাত বিশ” বলেই প্রচন্ড কাশতে লাগল। আমি আর দেরি করলাম না, তাকে বললাম তোমার হাসপাতালে যাওয়া প্রয়োজন। সাথে সাথে তার ফোনটা রেখে দেই এবং ৯১১ কল দিয়ে এম্বুলেন্স পাঠিয়ে দিলাম। পরের দিন, অর্থাৎ শুক্রবার, সে জানতে পারল তার কোভিড-১৯ পজিটিভ। প্রতিটা দিন তার সাথে ফোন করে একটু একটু কথা বলছি, আজ কিছুক্ষন আগেও কথা বলেছি, মেসেজ পাঠাচ্ছি, যেভাবে পারি তার মনোবল যোগানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু পারবোতো তাকে আবার ফিরিয়ে আনতে?

অন্যদিকে পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যস্ততম শহর যেটা জন্মের পর থেকে কখনই ঘুমায়নি সেটা আজ একটা মৃত্যুপুরী। হ্যাঁ, বলছি নিউ ইয়র্কের কথা। যে শহরটা ছিল এক সময় আমার হোম টাউন, যেখানে আছেন আমার মা, ভাই-বোন, বন্ধু/বান্ধব এবং অসংখ্য পরিজন, যেখানে অতিবাহিত করেছি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এবং স্মৃতিময় পাঁচটা বছর, যেখান থেকে অর্জন করেছি আমার শিক্ষাজীবনের সবচেয়ে মূল্যবান ডিগ্রি, দিন-রাত যে শহরটা চষে বেড়িয়েছি বন্ধুদের সাথে, সেই প্রিয় শহরটা আজ একটা আতঙ্কের নাম। ভয়ে অনেকে ঘর-বাড়ি ফেলে অন্ন শহরে আশ্রয় নিচ্ছেন। প্রতিদিন সি. এন. এন. খুলে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকি কেউ যদি একটু আশার বাণী শুনায়। কিন্তু না। আক্রান্তের সংখ্যা আর মৃতের সংখ্যা স্রোতের মত বেড়েই চলেছে। প্রতিনিয়ত আসছে কারো না কারো শেষ বিদায়ের খবর। ভয়ে শিহরিত হয়ে উঠি। কিন্তু কেন এই অমানবিকতা? এর শেষই বা কোথায়? আবার দেখতে পাবোতো ওখানে রেখে আসা প্রিয়জনদের?

এসব প্রশ্নের উত্তর শুধু একজনই জানেন। আর সে জন্যই তাঁর কাছে প্রতিটা মুহূর্ত দু-হাত পেতে দোয়া করছি। আশা ছেড়ে দেইনি। কখনই দিব না।

আরও