৬ হাজার ১২৫ কোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা হজ এজেন্সিগুলোর

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মারাত্মক ছোঁয়াচে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের বিরূপ প্রভাবে বিপুল অংকের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) নেতারা। করোনার কারণে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ওমরাহ বন্ধ ঘোষণা করে সৌদি সরকার। সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখনও করোনার সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় ২২৫ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথমবারের মতো আসন্ন পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত না হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

হাবের শীর্ষ নেতারা বলছেন, ওমরাহ বন্ধ থাকা ও আসন্ন হজ অনুষ্ঠিত না হলে ওমরাহ ও হজ এজেন্সিগুলো সর্বসাকুল্যে ৬ হাজার ১২৫ কোটি টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হবে। ব্যবসা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার কর্মচারীর বেকার হওয়ারও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ বিপুল অংকের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে হাব নেতারা সরকারের কাছে বিশেষ অর্থনৈতিক প্রণোদনা চেয়েছেন।

ইতোমধ্যেই হাবের পক্ষ থেকে হজ ও ওমরাহ এজেন্সিগুলোর হয়ে যাওয়া ক্ষতি পূরণের জন্য নগদ প্রণোদনা প্রদান, তাদের জন্য ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সুদমুক্ত ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণের ব্যবস্থা করা, ট্রাভেল এজেন্ট ও ট্যুর অপারেটদের জন্য প্রয়োজনীয় নগদ প্রণোদনার ব্যবস্থা করা এবং প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ-১ এর আওতায় ট্রাভেল এজেন্ট ট্যুর অপারেটরদের জন্য ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণসহ চার দফার বিশেষ অর্থনৈতিক প্রণোদনা প্রস্তাব দাবি করে অর্থমন্ত্রীর কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাসের প্রভাবে হজ, ওমরাহ, ট্রাভেল ও ট্যুরিজম সেক্টর কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জানতে চাইলে হাব সভাপতি এম শাহাদাত হোসেন তসলিম বলেন, বর্তমানে হাবের সদস্য সংখ্যা ১ হাজার ২৩৮। হজ এজেন্সিগুলোর মালিকসহ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংখ্যা সর্বসাকুল্যে প্রায় ২০ হাজার। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাসিক বেতন এবং অফিস ভাড়া ও অন্যান্য খরচসহ মাসে প্রায় ৫০ কোটি টাকা খরচ হয়। এছাড়া এ পেশার সঙ্গে পরোক্ষভাবে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবে আরও প্রায় এক লাখ লোক নিয়োজিত আছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মোট হজযাত্রীর ৯৬ শতাংশ এবং ওমরাহ যাত্রীর শতভাগ কার্যক্রম হাব সদস্য হজ ও ওমরা এজেন্সির প্রত্যক্ষ ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়। হাবের সদস্যরা ট্রাভেল ও ট্যুর অপারেশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ফলে করোনাভাইরাসের প্রভাবে তারা বিপুল অঙ্কের অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

গত ৯ এপ্রিল অর্থমন্ত্রীর কাছে দেয়া চিঠিতে হাব সভাপতি ইতোমধ্যেই হাব সদস্যদের হয়ে যাওয়া অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করে বলেন, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সৌদি সরকার ওমরাহ বন্ধ ঘোষণার পর ১০ হাজার ওমরাহ যাত্রীর ভিসা, এয়ার টিকিটের মূল্য বাবদ ১০০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল। এছাড়াও আসন্ন রমজান মাসে ওমরাহ হজে গমনকারীদের জন্য আরো ২৫ কোটি টাকা মূল্যের ৫ বাজার এয়ার টিকিট অগ্রিম কেনা হয়। এছাড়া কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মার্চ মাসের বেতন ও অন্যান্য অফিস খরচসহ প্রায় ৫০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। এ বাবদ লোকসানের পরিমাণ ১৭৫ কোটি টাকা।

সম্ভাব্য ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, আগামী রমজান পর্যন্ত কমপক্ষে আরও ১ লাখ ওমরাহ যাত্রীর ওমরাহ করানোর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। এক্ষেত্রে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা লেনদেন হতো। এছাড়াও এবছর বেসরকারিভাবে ১ লাখ ২০ হাজার হজযাত্রী পবিত্র হজ পালনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। যদি কোনো কারণে চলতি বছর তারা হজে যেতে না পারেন তাহলে এ বাবদ ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষতির পরিমাণ হবে ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। লোকসান পূরণের কোনো সম্ভাবনা থাকবে না।

তাছাড়াও এ অর্থবছরের শেষ অর্থাৎ আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত হজ ও ওমরা হজ এজেন্সিসমূহের ওভারহেড খরচ যেমন অফিস ভাড়া ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতাদি মাসিক প্রায় ৫০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। ফলে অসংখ্য এজেন্সি সারা বছরের অফিস ভাড়া ও কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করার সক্ষমতা হারাবে। করেনাভাইরাসের কারণে এ সেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হলে আগামীতে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ১০ হাজার কর্মচারী এবং বাংলাদেশ ও সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিসহ পরোক্ষভাবে জড়িত ৫০ হাজার ব্যক্তির চাকরি হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ট্রাভেল ট্যুরিজম সেক্টরের ক্ষতির কথা উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, সদস্যদের সকলেই ট্রাভেল এজেন্ট, অনেকেই ট্যুর অপারেটর এবং পর্যটন শিল্পের অন্যান্য সেক্টরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাদের অনেকেই অ্যাভিয়েশন, দেশি-বিদেশি ট্যুরিজম, হোটেল রিসোর্ট ব্যবসা ও টুরিস্ট ট্রান্সপোর্টেশন ইত্যাদি ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। হাবের অনেক সদস্য এখানেও ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন এবং সেক্টরগুলিতে অনেক কর্মকর্তা কর্মচারীর চাকরি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রীর কাছে দেয়া চিঠিতে চার দফা প্রণোদনা প্রস্তাবের শেষে হাব সদস্য, হজ, ওমরাহ ও ট্রাভেল এজেন্সির অপারেটরসহ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এবং এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক সুবিধা প্রদানের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

 

আরও