ভারতে করোনায় আক্রান্ত ১০৪৫৩ জন, মৃত্যু ৩৫৮

লকডাউন সত্বেও ভারতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা।

মঙ্গলবার সকাল ৯ টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গোটা ভারতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৪৫৩ জন। মারা গিয়েছেন ৩৫৮ জন। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১১৮১ জন।

মঙ্গলবার সকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে দেশে করোনা মোকাবেলায় আগামী ৩ মে পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করলেন। ফলে ভারতে আরও ১৯ দিন বাড়লো লক ডাউনের সময়সীমা।

করোনা ভাইরাসের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে এছাড়া আর উপায় নেই বলে ভাষনে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।

মঙ্গলবার সকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে বলেন, করোনার বিরুদ্ধে ভারতের লড়াই সফল হচ্ছে। করোনার ক্ষতি সামাল দিতে সফল হচ্ছে ভারত।

তিনি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা সবাই কষ্ট সহ্য করেও দেশকে বাঁচিয়েছেন, ভারতবর্ষকে বাঁচিয়েছেন। কারও খাওয়ার কষ্ট, আসা যাওয়ার কষ্ট, পরিবারের থেকে দূরে থাকার অনেক অনেক কষ্ট সহ্য করছেন। নিয়মানুবর্তী সৈনিকের মতো কর্তব্য পালন করছেন। আপনাদের সবাইকে আমার অভিনন্দন।

মোদি বলেন, আজ ভারতের অনেক রাজ্যে বাংলা নববর্ষের সূচনা। নিজেদের ঘরবন্দি রেখেই মানুষ আজ উৎসব পালন করছেন। আপনাদের সবার মঙ্গল হোক।

এর আগে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাতে তিনি টুইটে লেখেন, শুভ নববর্ষ। পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন। নতুন বছর আপনাদের সকলের জীবনে সুখ সমৃদ্ধির বার্তা নিয়ে আসুক। সকলে সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন।

তিনি বলেন, ভারতে করোনার সংক্রামণ ধরা পড়ার আগেই বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের বিমানবন্দরে স্ক্রিনিং শুরু হয়েছিলো। ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিলো। শপিং মল, রেস্তোরা, সিনেমা হল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিলো। ভারতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা যখন ৫০০ তখনই ২১ দিনের লক ডাউন ঘোষনা করা হয়েছিলো। ভারত করোনার সমস্যা বাড়তে দেয়নি, বরং সমস্যা দেখা দিতেই কড়া ব্যাবস্থা নিয়েছে। সারা বিশ্বের উন্নত দেশগুলির তুলনায় ভারতের অবস্থা অনেক ভালো। একযোগে কাজ ও সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াতেই সাফল্য এসেছে।

মোদি বলেন, ভারতের প্রতিটি রাজ্যের করোনার হটস্পটগুলির উপর কড়া নজর রাখতে হবে। নতুন হটস্পট যেন তৈরি না হয়। আগামী ২০ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিটি জেলাতে কড়া নজরদারি চালানো হবে। আক্রান্তের সংখ্যা কোথায় কতো তা নজরে রাখা হবে। তিনি বলেন, ভারতে ৬০০ টির বেশি হাসপাতাল করোনা যুদ্ধে সামিল। চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশকর্মী থেকে সাফাইকর্মীরা নিরন্তর যুদ্ধ করে চলেছেন। তাদের সম্মান দিন।

মোদি এদিন ভারতের যুব বিজ্ঞানীদের কাছে আবেদন করেন, করোনার ভ্যাকসিন বানানোর জন্য।

 

আরও