লকডাউন প্রত্যাহারে যা করতে হবে

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সর্বোচ্চ চূড়া পেরিয়ে যাওয়ায় বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ লকডাউন প্রত্যাহারের বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে। ইতিমধ্যে ইউরোপের একাধিক দেশ আরোপিত লকডাউন শিথিল করে অনাবশ্যকীয় কিছু খাত খুলে দিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) লকডাউন শিথিল করার বিষয়ে চিন্তাভাবনাকারী দেশগুলোর জন্য ছয়টি শর্ত জুড়ে দিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে।

১. সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

২. করোনা পরীক্ষা, শনাক্ত, আইসোলেশন এবং প্রত্যেক রোগীর চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। করোনার প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি বিবেচনায় প্রত্যেকের কন্ট্যাক্ট শনাক্ত করতে হবে।

৩. স্বাস্থ্য স্থাপনা এবং নার্সিং হোমে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি একেবারে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য ব্যবস্থা নেয়া।

৪. কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য স্থান; যেখানে মানুষকে অবশ্যই চলাফেরা করতে হবে, সেখানে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।

৫. বিদেশফেরত ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ

৬. কমিউনিটিকে করোনার ব্যাপারে পুরোপুরি জানাতে হবে। পাশাপাশি এ ব্যাপারে তাদের অংশগ্রহণ এবং নতুন নিয়ম-নীতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার জন্য সক্ষম করে তুলতে হবে।

চীন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার করোনাভাইরাসের বিস্তার মোকাবিলা এবং প্রতিরোধে নেয়া ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে এ কয়েকটি পরামর্শ নির্ধারণ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। লকডাউন শিথিল কিংবা প্রত্যাহারের আগে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ সামলানোর জন্য এসব বিষয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

তবে এই মুহূর্তে বিশ্বের যেকোনো দেশের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এসব পরামর্শ বাস্তবায়ন করা খুব একটা কঠিন হবে না। কিন্তু চীন বলছে, পরিস্থিতি তারা খুব ভালোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করেছে। স্থানীয়ভাবে দেশটিতে করোনা সংক্রমণের ঘটনা একেবারে কমে এলেও বিদেশফেরতদের মাধ্যমে সম্প্রতি তা বেড়েছে।

করোনায় বিশ্বজুড়ে টালমাটাল অবস্থা তৈরি হলেও পুরোপুরি লকডাউনে যায়নি দক্ষিণ কোরিয়া। তবে দেশটিতে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার পাশাপাশি বেশ কিছু কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। প্রাদুর্ভাবের শুরুর দিকে ব্যাপক পরিসরে করোনার পরীক্ষা শুরু করে দেশটি। লাখ লাখ মানুষের পরীক্ষার পর দেশটি করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়া এবং চীনের মতোই করোনা নিয়ন্ত্রণে সফল হওয়ার পথে রয়েছে নিউজিল্যান্ডও। দেশটিতে করোনায় আক্রান্তদের প্রায় অর্ধেকই সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং মারা গেছেন মাত্র ৯ জন। এছাড়া আক্রান্তের সংখ্যাও এক হাজার সামান্য বেশি। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ১ হাজার ৩৬৬ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৬২৮ জন।

 

আরও