নীলফামারীতে ৬ জন করোনায় আক্রান্ত, ২০ বছরের নিচে ৫ জন

নীলফামারীতে আরও দুই ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে এ জেলায় ৬ জন আক্রান্ত হলো। মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নীলফামারীর সিভিল সার্জন ডা. রনজিত কুমার বর্মন।

আক্রান্ত দুজনের মধ্যে সদর উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের দোলুয়া দোগাছি ঠাকুরপাড়া গ্রামের একজন। আক্রান্ত ১৬ বছর বয়সী এ কিশোর কুমিল্লার একটি ইটভাটার শ্রমিক। সেখান থেকে সে গত ৯ এপ্রিল বাড়িতে এসে জ্বর-সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হয়। ১১ এপ্রিল নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের ফু-কর্নারে চিকিৎসার জন্য আসে। চিকিৎসক করোনা সন্দেহে তাকে আইসোলেশনে নিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

আক্রান্ত অপরজন ডিমলা উপজেলার বালাপাড়ার দক্ষিণ সুন্দরখাতা গ্রামের ১৮ বছর বয়সী এক যুবক। সে ছাত্র। ঢাকায় থাকে। সেখান থেকে গত মার্চ মাসের শেষের দিকে বাড়িতে এসে জ্বর-সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হয় সে। বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগে জানানো হলে ১১ এপ্রিল তার করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। মঙ্গলবার বিকেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাদের দুজনেরই রির্পোট পজিটিভ আসে। তাদের নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের আইসেলেশন ওয়ার্ডে নেয়া হয়েছে।

সূত্র মতে, এর আগে গত ৭ এপ্রিল কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন চিকিৎসক, ৯ এপ্রিল সৈয়দপুরে একজন যুবক এবং গত ১১ এপ্রিল ডিমলা উপজেলায় এক এসএসসি পরীক্ষার্থী, ১৩ এপ্রিল জলঢাকা উপজেলায় এক কলেজছাত্রের করোনা শনাক্ত হয়।

করোনা আক্রান্তদের মধ্যে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৪ জন, সৈয়দপুর হাসপাতালের আইসেলেশন ওয়ার্ডে ১ জন ও কিশোরগঞ্জ হাসপাতালের একজন ঢাকার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে রয়েছেন। তারা সকলে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর থেকে আসা।

এদিকে নীলফামারীকে আজ মঙ্গলবার লকডাউন ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী। জেলার ছয় উপজেলার প্রবেশপথে বসানো হয়েছে পুলিশের ১৪টি চেকপোস্ট।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজাহারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গত ৯ এপ্রিল থেকে নীলফামারী অঘোষিত লকডাউনে ছিল। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর থেকে লকডাউন ঘোষণায় মাইকিং করা হচ্ছে।

 

আরও