অনাহারে দিন কাটছে মুক্তিযোদ্ধা জলিল মোল্লার

 স্বাধীনতার যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম দেশকে স্বাধীন করার জন্য। স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার জন্য। তিন বেলা পেট ভরে খাওয়ার জন্য। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পরেও একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেকে অনাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে। নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে এভাবে কথাগুলো বলছিলেন জলিল মোল্লা।

জলিল মোল্লা গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ। তার ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার পরে তিনি ঢাকায় পাড়ি জমান। বর্তমানে তিনি সাভারের হেমায়েতপুরে থাকেন। তিনি বলেন, আমি রিকশা চালায়ে খাই। লকডাউন এর কারণে রিকশা চালাতে পারছি না। যার কারণে কোন উপার্জনও হচ্ছে না, বেশিরভাগ সময়ই অনাহারে থাকতে হয়।

তিনি বলেন, কত জায়গায় শুনি আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। আমাকে তো কেউ দিচ্ছে না। বেশ কিছুদিন আগে মুন্সিগঞ্জের সাবেক ডিসি মোস্তাফিজুর আমাকে কিছু টাকা দিয়েছিলেন। সেই টাকা দিয়ে কিছুদিন চললাম। এখন বাজার করার মত কোন টাকায় আমার হাতে নাই। এদিকে রিকশাও বের করতে পারি না। কি করব, না করব ভেবে পাই না।

মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পান কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কোন মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাই না। মুক্তিযোদ্ধা ভাতার জন্য মুক্তিযুদ্ধা মন্ত্রণালয়ের দরখাস্ত করলে সেখান থেকে আমাকে জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী বরাবর দরখাস্ত করার জন্য। আমি সেখানেও দরখাস্ত করেছি। তারপরেও এখন পর্যন্ত কোন ভাতা দেয়া হয় না। তবে গণভবন থেকে আমাকে বলেছিলেন মার্চ মাসের ২৫ তারিখের মধ্যে হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি আমার প্রতি একটু দৃষ্টি দিতেন তাহলে আমার খুব উপকার হত। অনেক কষ্ট করে বড় দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি এখনও এক মেয়ে এক ছেলে আছে। তাদেরকে একটা ব্যবস্থা করতে না পারলে মরেও শান্তি পাব না।

 

আরও