নরসিংদীর প্রথম করোনা রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন

নরসিংদী জেলার প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ১০ দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নেওয়ার পর শুক্রবার দুপুরে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক টিম তাকে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার ছাড়পত্র দেন।

ওই ব্যক্তি নারায়ণগঞ্জের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করার পাশাপাশি ওই গার্মেন্টসের মসজিদে ইমামতি করতেন। গত ৫ এপ্রিল করোনা উপসর্গ দেখা দিলে তিনি নিজেই ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নমুনা দিয়ে আসেন। পরে ৬ এপ্রিল সন্ধ্যার দিকে তার রিপোর্ট পজেটিভ আসে। ওইদিন রাতেই উপজেলা প্রশাসন ডাঙ্গা ইউনিয়নের ইসলামপাড়া এলাকা লকডাউন করে দেয়।

এরপর ৭ এপ্রিল দুপুর থেকে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশনে রেখে ওই ব্যক্তির চিকিৎসা শুরু হয়। এছাড়া তার পরিবারের ৯ সদস্যকেও কোরয়ারেন্টাইন সেন্টারে রেখে তাদের নমুনা সংগ্রহ করে আইইসিডিআরে পাঠানো হয়। তবে তাদের রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।

ওই ব্যক্তিই ছিলেন পলাশ উপজেলার ও নরসিংদী জেলার প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী। এরপর গত ১৪ ও ১৫ তারিখে উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের গাবতলি গ্রামে আরও দুজন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়।

পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুল হক জানান, ওই রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি পরপর দুইবার নমুনা সংগ্রহ করে আইইসিডিআরে পাঠানো হয়। যাতে তার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। তাই তাকে করোনামুক্ত ঘোষণা করে বাড়িতে যাওয়ার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জিনারদী ইউনিয়নের গাবতলী গ্রামে করোনা আক্রান্ত অপর দুই ব্যক্তির শারীরিক অবস্থাও ভালো। ওই দুইজনকে বাড়িতে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা আলী জানান, সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফেরা ওই ব্যক্তির বাড়ির লকডাউন খুলে দেওয়া হবে। তবে অকারণে যাতে কেউ বাড়ির বাইরে বের না হয়, সে বিষয়ে কড়া নজরদারি রয়েছে।

করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা ওই ব্যক্তি বলেন, ১০ দিন চিকিৎসা নিয়ে আজ (শুক্রবার) আমি সুস্থ হয়ে বাড়ি যাচ্ছি। উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসকরা আমাকে সঠিক চিকিৎসা এবং সেবা দিয়েছেন বলেই আমি সুস্থ হতে পেরেছি। আমি বলতে চাই, কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে ভয় না পেয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

 

আরও