বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন মানেনি গণস্বাস্থ্য

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন না মানায় গণস্বাস্থ্যের অনুষ্ঠানে যায়নি ঔষধ প্রশাসন বলে জানিয়েছেন ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান।

মাহবুবুর রহমান বলেন, কোন দেশেই র্যাপিড কিটের অনুমোদন দেয়নি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এ কারণেই গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত কিট গ্রহণ করেনি সরকার।

তিনি বলেন, ওনারা (গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র) যেটা বলছেন সেটা সঠিক নয়। ওনারা যখন যেভাবে চেয়েছেন আমরা সহযোগিতা করেছি। আমাদের দেওয়া ওনাদের চিঠিতেই তার প্রমাণ রয়েছে।

মাহবুবুর রহমান জানান, ওনারা একটা টেস্ট ডেভেলপ (উদ্ভাবন) করেছেন। আমরা সহযোগিতা করার জন্য প্রস্তুত ছিলাম। আমরা সেটা করেছি। ওনারা বলছেন ওনাদের কাজ শতভাগ সফল। যাই হোক সেটি আমাদের ট্রায়াল করতে হবে। বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল (বিএমআরসি) থেকে রিপোর্টের প্রেক্ষিতে আমরা পদক্ষেপ নিব। কিন্তু তারা বিষয়টিকে অসত্যভাবে উপস্থাপন করে ওষুধ প্রশাসনকে হেয় করছেন।

তিনি বলেন, উনি (গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী) বিভিন্ন সময়ে সংবাদ সম্মেলন করে স্বাস্থ্য অধিদফতর, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং আমাদের ওষুধ প্রশাসনকে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছেন। আমি অতি বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই, আমাদের দেশের এই মুহূর্তে প্রত্যেক মানুষের সহযোগিতা খুব দরকার। সবার, তাদেরও দরকার। গণস্বাস্থ্যের সহযোগিতা আমাদের দরকার। সবাই মিলে আমাদের সমস্যা সমাধান করতে হবে।

ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক বলেন, এখানে যদি অযাচিতভাবে অসত্য তথ্য উপস্থাপন করে মানুষকে তথা প্রতিষ্ঠানকে হেয়প্রতিপন্ন করার প্রচেষ্টা চালানো হয়, সেটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি আমি প্রত্যাখ্যান করছি। আমি অনুরোধ করব, এ ধরনের অপপ্রচার যাতে না চালানো হয়।

তিনি একজন বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ। তার কাছ থেকে আরও বিজ্ঞানভিত্তিক, সৌজন্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি এবং কথাবার্তা আশা করব, বলেন মহাপরিচালক।

মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান বলেন, ওনারা একটা টেস্ট ডেভেলপ করেছেন। আমাদের দিক থেকে, ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের দিক থেকে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করার জন্য প্রস্তুত ছিলাম এবং এখনও আছি।

এর আগে রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর ব্যবসায়িক কারণে জাতীয় স্বার্থের বিপক্ষে কাজ করছে। নানা অজুহাত দেখিয়ে গণস্বাস্থ্যের করোনা পরীক্ষার কিট গ্রহণ করেনি সরকার।

তিনি বলেন, আমরা জনগণের স্বার্থে শুধু সরকারের মাধ্যমে পরীক্ষা করে কিটটি কার্যকর কিনা তা দেখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সরকারিভাবে প্রতি পদে পদে পায়ে শিকল দেওয়ার চেষ্টা করছে।

 

আরও