জকিগঞ্জে চাল কেলেঙ্কারি: আওয়ামী লীগ-বিএনপি জোট!

 সিলেটে ওএমএসের চাল কেলেঙ্কারির ঘটনায় বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে নেপথ্যের কুশীলবদের পরিচয়। কেলেঙ্কারির ঘটনায় সিলেটের চাল ব্যবসায়ী এক বিএনপি নেতা ও জকিগঞ্জের এক আওয়ামী লীগ নেতার নাম আলোচিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে ওই চাল ব্যবসায়ীর ভাইকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ওই দুই নেতাকে গ্রেফতারের দাবিও জোরালো হচ্ছে।

গত রবিবার সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার কালিগঞ্জ বাজারে ওএমএসের ১০ টাকা দামের চাল ট্রাক থেকে আনলোড করে আত্মসাতের চেষ্টার সময় আটক করে জনতা। পরে স্থানীয় কিছু লোক দুই শতাধিক বস্তা চাল লুট করেন। চাল আত্মসাতের চেষ্টা ও লুটের ঘটনায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা রোমানা আফরোজ বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

ওই মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে- ওএমএসের চাল অবৈধভাবে কালিগঞ্জ বাজারের আবদুল মুকিত ও সেলিম সওদাগরের নিয়ন্ত্রণাধীন জয়নাল আবেদীনের গুদামে নেওয়া হচ্ছিল। সেলিম সওদাগর জকিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক। মামলায় আবদুল মালিক ও জয়নাল আবেদীনকে আসামি করা হলেও রহস্যজনক কারণে আসামি করা হয়নি আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম সওদাগরকে। ওএমএসের চাল কেলেঙ্কারির রহস্য উদঘাটন ও এর সঙ্গে আর কারা জড়িত ছিলেন তা চিহ্নিত করতে সেলিম সওদাগরকে গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত রবিবার সিলেটের মেঘনা অটো রাইস মিল থেকে জকিগঞ্জে একটি ট্রাকে করে ৫৭০ বস্তা ওএমএসের চাল পাঠানো হয়। মিলের মালিক শফিক আহমদ ও শাহীন আহমদ স্থানীয় ডিলার ও ব্যবসায়ীদের কাছে ভালো মানের ওই চাল বিক্রি করে দেন। পরিবর্তে নিম্নমানের চাল বিক্রির পরিকল্পনা নেওয়া হয়। কিন্তু চাল অবৈধভাবে গুদামে আনলোডের সময় জনতা আটক করলে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। পরে ট্রাক থেকে দুই শতাধিক বস্তা চাল লুটে নেন স্থানীয়রা। মেঘনা রাইস মিলের মালিক শাহীন আহমদ কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সিলেটে চালের ব্যবসা করে আসছেন।

এদিকে, চাল আত্মসাতের চেষ্টা ও লুটের ঘটনায় পুলিশ মামলার ৮ আসামির সবাইকে আটক করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। এর মধ্যে মেঘনা অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী শফিক আহমদও রয়েছেন। কিন্তু ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন তার ভাই বিএনপি নেতা ও সাবেক পৌর মেয়র শাহীন আহমদ। চাল কেলেঙ্কারির ঘটনায় মেঘনা রাইস মিলের সংশ্লিষ্টতা প্রকাশ পাওয়ার পর থেকে শাহীন আহমদকে গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি উঠেছে। গত কয়েকদিন থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই এ দাবি জানাচ্ছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শাহীন আহমদ বলেন, তার ব্যবসায়িক উন্নতিতে ঈর্ষান্বিত হয়ে কেউ কেউ ষড়যন্ত্র করছেন। তার মিল থেকে পাঠানো চাল ডিলারদের কাছে পৌঁছার আগেই লুট হয়েছে। তাই এই চালগুলো ওএমএসের দাবি করা অযৌক্তিক। চাল লুটের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিতে যাওয়ার পর তার ভাই শফিক আহমদকে আটক করে মামলার আসামি করা হয়েছে।

জকিগঞ্জ থানার (ওসি) মীর মো. আবু নাসের জানান, প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে, মিলার শফিক আহমদ ওএমএসের এই চালগুলো কালিগঞ্জ বাজারে ডিলারের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিলেন। তাই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে এ ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত ছিলেন প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

আরও