সিলেটে আরও ৪ জনের করোনা শনাক্ত

সিলেট বিভাগে নতুন করে আরও ৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। শনিবার (০২ মে) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে ৯৪টি নমুনা পরীক্ষায় এ চারজনের রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশ লাল রায় বলেন, শনিবার ওসমানী মেডিকেলে মোট ৯৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে চারজনের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তাদের মধ্যে দুজন হবিগঞ্জ জেলার ও আর অপর দুজন মৌলভীবাজারের। হবিগঞ্জে শনাক্ত হওয়াদের মধ্যে একজন নার্স রয়েছেন। তবে শনিবার সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার কেউ করোনায় আক্রান্ত হয়নি।

হবিগঞ্জের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জ্বল জানান, হবিগঞ্জের আক্রান্ত দুজনের একজন লাখাই ও অপরজন বাহুবল উপজেলার বাসিন্দা।

এর আগের দিন শুক্রবার একদিনেই সিলেট বিভাগের ১১৫ জনের করোনা সনাক্ত হয়। এনিয়ে পুরো বিভাগে মোট করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ২২৯ জনে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৭৪ জন শনাক্ত হয়েছে হবিগঞ্জে।

এদিকে শুক্রবার ঢাকায় করোনা পরীক্ষায় সিলেট বিভাগের ৯৯ জনের করোনা শনাক্ত হলেও ২১ জনের পরিচয় নিশ্চিত করতে পেরেছে সিলেটের বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতর। বাকি ৭৮ জনের শরীরে করোনা চূড়ান্তভাবে ধরা পড়লেও তাদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। এর ফলে এই ৭৮ জন রিপোর্ট আসার ২৪ ঘণ্টা পরও জানেন না যে তারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। করোনায় আক্রান্ত কি-না সেটি জানতে তাদের অপেক্ষা করতে হবে আরও দু-একদিন।

জানা গেছে, সিলেট বিভাগ থেকে ১ হাজারেরও বেশি নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল ঢাকায়। গত ২৪, ২৫, ২৬ ও ২৭ মার্চে সিলেটে বিভাগের সংগৃহীত নমুনা ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারে পাঠানো হয়। ওসমানী মেডিকেল কলেজ ল্যাবে পরীক্ষার জন্য নমুনাজট থাকায় এগুলো পাঠানো হয়েছিল ঢাকায়।

শুক্রবার (১ মে) ঢাকার ল্যাবরেটরি থেকে জানানো হয়েছে, সিলেট বিভাগ থেকে পাঠানো নমুনাগুলোর মধ্যে ৯৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

আক্রান্ত ৯৯ জনের মধ্যে ২১ জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে সিলেটের সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে হবিগঞ্জের ১২ জন, মৌলভীবাজারের ৫ জন ও সুনামগঞ্জের ৪ জন রয়েছেন। বাকি ৭৮ জনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. আনিসুর রহমান বলেন, রোববার এই ৭৮ জনের পরিচয় চূড়ান্ত করা হবে। যদি সম্ভব না হয় তাহলে আগামী সোমবার পরিচয় চূড়ান্তের কাজ শেষ হবে।

তিনি জানান, যে উপজেলা কিংবা যেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয় প্রতিটি টিউবে একেকটি নম্বর দেয়া হয়। সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষার জন্য যে ল্যাব পাঠানো হয় ওই ল্যাব তাদের নিজস্ব আরেকটি নম্বর বসায় টিউবে। প্রতিটি টিউবে কয়েকটি নম্বর হওয়ায় সিলেট বিভাগের অবশিষ্ট ৭৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করতে কিছুটা সময় লাগছে।

ডা. আনিস জানান, শুক্রবার ঢাকা থেকে আসা ৯৯ জনের শরীরে করোনা ধরা পড়লেও ২১ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। বাকি ৭৮ জনের পরিচয় নিশ্চিত করতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ল্যাবে কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

আরও