রোজায় সুস্থ থাকতে পুষ্টিবিদদের পরামর্শ

রমজানে সুস্থ শরীরে রোজা পালন করতে প্রয়োজন সঠিকভাবে খাবার গ্রহণ। পুষ্টিবিদরা বলছেন, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর সাহরি ও ইফতারে খাবার বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ সময় জীবযাপনে কিছুটা পরিবর্তন আসে, পরিবর্তন আসে নিয়মিত কাজের ধরনেও।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক গোলাম মাওলা বলেন, ‘অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম থেকে যেমন বিরত থাকতে হবে। তেমনি সহজে হজম হয় এমন খাবার খেতে হবে। তবে কোনোভাবেই বেশি খাওয়া যাবে না।’

পুষ্টিবিদ অধ্যাপক নাজমা শাহীন বলেন, ‘রোজার পানি জাতীয় খাবার বেশি খেতে হবে। তবে এর মধ্য বিশুদ্ধ পানি ও ফলের রসই বেশি কাজে লাগে। আর ইফতারে ঘরে তৈরি খাবারই সবচেয়ে নিরাপদ। বেশি তেলে ভাজা বাজারের ইফতার শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।’

গোলাম মাওলা ও নাজমা শাহীন দু’জনেই মনে করেন তৈলাক্ত খাবার, ভাজা-পোড়া বর্জন করাই ভালো। বরং ফল ও খেজুর শরীরে পুষ্টি ও শক্তি যোগাবে।

রোজায় সুস্থ থাকতে ১০ পরামর্শ-

ভাজাপোড়া খাবার নয়

অধ্যাপক গোলাম মাওলার মতে মাছ, ডাল, ভাত আদর্শ খাবার। ভোররাতে গরুর মাংস এড়িয়ে মুরগী খেলে ভালো হবে। তবে শাকসবজি ও ডাল শরীরের জন্য বেশি ভালো।

খাদ্য তালিকায় যা থাকবে

পানি, ফল, চিড়া, রুটি, ভাত, সবজি, ডাল, ডিম, হালকা খিচুড়ি খাওয়া যেতে পারে। এসব খাবার শরীরে শক্তি বাড়ায়।

খেতে হবে সতর্ক হয়ে

অধ্যাপক গোলাম মাওলা বলছেন, মাঝেমধ্যে ইফতারির পর হালকা কম তেলযুক্ত তেহারি খাওয়া মন্দ না।

নিয়মিত খাবারকে গুরুত্ব দিতে হবে

পুষ্টিবিদ নাজমা শাহীন বলেছেন, নিয়মিত যেসব খাবার খাওয়া হয়; রোজার সময় সেগুলোই তার জন্য যথেষ্ট। তবে সারাদিন রোজা পালন শেষে পানি খেতে হবে পর্যাপ্ত।

শান্ত থাকা ও শারীরিক পরিশ্রম কমানো

একেবারে অলস থাকা যেমন ক্ষতিকর তেমনি অতিরিক্ত পরিশ্রম করাও ক্ষতিকর।

সহজে যাতে হজম হয়

অধ্যাপক নাজমা শাহীন বলছেন, রোজা পালনকারী ব্যক্তিকে বুঝতে হবে কোন খাবারগুলো সহজে হজম হয়। এসব খাবারকেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। যেসব খাবারে হজমে সমস্যা হয়, সেগুলো না খাওয়াই ভালো।

বেশি খাবার থেকে বিরত

অধ্যাপক গোলাম মাওলা বলছেন, অতিরিক্ত খাবার খাওয়া যাবে না। ফল ও সবজি দিয়ে পরিমাণ মতো ইফতার করা যেতে পারে।

খাবার কীভাবে খাবেন?

গোলাম মাওলা ও নাজমা শাহীন দু’জনই বলছেন, খাবার ধীরে ও ভালো করে চিবিয়ে খেতে হবে। ইফতারির শুরুতেই শরীরের জন্য পানি উপকারী। পাশাপাশি খেজুর খেতে হবে, যা শরীরে শক্তি যোগান দেবে।

স্যুপ হতে পারে দারুণ খাবার

স্যুপ শরীরকে সতেজ রাখে ও হজম প্রক্রিয়া ঠিক রাখে। অধ্যাপক গোলাম মাওলা বলেন, শাক সবজি, বাঁধাকপি বাদ দিয়ে ফুলকপির স্যুপ বা লেটুস পাতার স্যুপ অনেক উপকারী। লেটুস পাতায় কোনো গ্যাস হয় না।

খাবার ও জীবনাচরণ ঠিক রাখা

শুধু খাবারই নয় বরং পাশাপাশি প্রয়োজন পর্যাপ্ত ঘুম। ইফতারের পর বা সেহরির পর ধূমপান থেকেও বিরত থাকা উচিত।

যারা দুর্বলতা, ক্লান্তি, অ্যাসিটিডি, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা কিডনি জটিলতায় ভুগছেন তাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। অধ্যাপক গোলাম মাওলা ও অধ্যাপক নাজমা শাহীন দুজনই এসব বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

 

আরও