করোনার মধ্যেও প্রেমিকের বাড়িতে অনশনে প্রেমিকা

এমনিতেই বর্তমানে গোটা বিশ্বে তাণ্ডব চালাচ্ছে করোনাভাইরাস। এর মধ্যেও বিয়ের দাবি নিয়ে প্রেমিকের বাড়িতে এক প্রেমিকা অবস্থান নিয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায়। সেখানে বিয়ের দাবিতে রিপন (২২) নামে এক প্রেমিকের বাড়িতে তার প্রেমিকা অবস্থান করছেন। ঘটনার দুদিন পেরিয়ে গেলেও এখনও কোনো সমাধান হয়নি। তবে রিপনের বাবা মেয়েটিকে বাড়ি থেকে তাড়াতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা তদবির করছেন বলে জানা গেছে। এদিকে বিয়েই একমাত্র সমাধান বলে এলাকাবাসীর দাবি।

গত মঙ্গলবার (১২ মে) রাত সড়ে ৮টার দিকে উপজেলার গেন্দুকুড়ী এলাকার রমজান আলীর বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে। প্রেমিকের নাম রিপন। সে রমজান আলীর ছেলে। অন্যদিকে প্রেমিকা একই এলাকার মেহেদুল ইসলামের মেয়ে।

বিয়ের দাবিতে অবস্থানরত মেয়েটি জানান, রিপনের সঙ্গে তার প্রায় আড়াই বছরের গভীর প্রেমের সম্পর্ক। দুই বছর আগে পরিবারের লোকজন মেয়েটিকে অন্য জায়গায় বিয়ে দেয়। মেয়েটির বিয়ের পর রিপন পাগল প্রায় হয়ে যায়। সে সবসময়ই মেয়েটিকে ফোন দিয়ে তার বরকে তালাক দিয়ে তাকে বিয়ে করতে বলে অন্যথায় সে আত্মহত্যা করবে বলে হুমকি দিতে থাকে। ফলে রিপনের প্রতি তার গভীর ভালোবাসার টানে মেয়েটি তার বরকে তালাক দেয়।

পরে বাড়ি ফাকা থাকার সুযোগে মেয়েটির সঙ্গে ছেলেটির অবাধে মেলামেশা চলে। এমনকি শারীরিক সম্পর্কও হয়। কিছুদিন আগে বিষয়টি পরিবারের লোকজন জানতে পারলে মেয়েটিকে অনেক গালমন্দ করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বলে।

মেয়েটি বিয়ের জন্য রিপনকে বললে সে আজকাল করে টালবাহানা করতে থাকে। একদিকে পরিবারের অপমান আর একদিকে প্রেমিকের টালবাহানা সইতে না পেরে মেয়েটি গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রিপনকে বিয়ে করার দাবিতে তার বাড়িতে গিয়ে উঠে। মেয়েটি বাড়িতে আসায় রিপন পরিবারের চাপে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এমনকি পরিবারের লোকজন মেয়েটিকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিতেও চেয়েছিলো।

ভুক্তভোগী মেয়েটি আরো জানান, রিপন বিয়ে না করলে সে আত্মহত্যা করবে বলে হুমকি দেয়। এসময় এলাকাবাসী জানান বিয়ে ছাড়া অন্য কোন সিদ্ধান্ত তারা মেনে নেবেন না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকাবাসী অনেকেই জানান, রিপন ছেলেটি ভালো না। সে এর আগেও মিথ্যা ভালোবাসার অভিনয় করে অনেক মেয়ের জীবন নষ্ট করে দিয়েছে। এভাবে তারা রিপনকে আর কোনো মেয়ের জীবন নষ্ট করতে দেবেন না। এই অসহায় মেয়েটিকে বিয়ে না করলে তারা সবাই মিলে চাঁদা দিয়ে রিপনের বিরুদ্ধে মামলা করবে।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য রিপনের মোবাইল ফোনে কল দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

রিপনের বাবা রমজান আলী বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। মেয়েটি হঠাৎ করে তার ছেলেকে বিয়ে করার জন্য বাড়িতে এসে উঠে।

তবে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা আগে থেকেই বিষয়টি জানতেন।

এ বিষয়ে টংভাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান (আতি) বলেন, বিষয়টি আমি লোক মুখে শুনেছি। তবে এ বিষয়ে কথা বলতে কেউ আমার কাছে আসেনি।

 

আরও