করোনা রোগীরা ন্যূনতম চিকিৎসা পাচ্ছে না, অভিযোগ রিজভীর

 হাসপাতালগুলোতে করোনা আক্রান্ত রোগীরা ন্যূনতম্য চিকিৎসা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

শুক্রবার (২২ মে) সকালে এক অনুষ্ঠানে এই অভিযোগ করেন রিজভী। রাজধানীর উত্তরার ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডে মহানগর উত্তরের যুগ্ম-সম্পাদক এম কফিলউদ্দিনের উদ্যোগে দুস্থ ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে ঈদ উপহার বিতরণ করতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

রিজভী আহমেদ বলেন, করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে কোনো বেড নেই। বাংলাদেশের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে চিকিৎসার জন্য মানুষ হাহাকার করছে।

তিনি বলেন, মানুষ করোনায় আক্রান্ত হলেও চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছে না। যদি পজিটিভ হয় কোথায় চিকিৎসা নেবে তারা? হাসপাতালে বেড নাই, কোনো চিকিৎসা নাই-কিচ্ছু নাই। সরকার ফ্লাইওভার করেছে কিন্তু একটা হাসপাতালও (করোনা হাসপাতাল) নির্মাণ করেননি। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় যে আধুনিক সরঞ্জাম দরকার সেটা দেননি।

সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, আপনারা উন্নয়ন দেখাচ্ছেন। এসব করে আপনার নেতাকর্মীদের পকেট ফুলতে ফুলতে একেবারে বেলুনের মতো করে দিয়েছেন। মানে টাকা এত বেশি পকেটে ঢুকেছে-বেলুনের মতো।

দেশের হাসপাতালের চিত্র তুলে ধরে রিজভী আহমেদ বলেন, মানুষ রোগে-শোকে কমপক্ষে ন্যূনতম চিকিৎসার সুযোগ যাতে পায় সেটা এই সরকার করেনি। করোনায় আক্রান্ত হলে অক্সিজেন সবচাইতে বেশি প্রয়োজন হয়। সেই অক্সিজেন সিলিন্ডার বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ হাসপাতালে নেই। অক্সিজেন মাস্ক যেটা দরকার সেটা ৮০ শতাংশ হাসপাতালে নেই। তাহলে এভাবে এদেশের মানুষ কুকুর-বিড়ালের মতো নির্মমভাবে মৃত্যুবরণ করছে।

সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) স্বাস্থ্যখাতে কম বরাদ্দে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন রিজভী। তিনি বলেন, এবার এডিপিতে স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্দ সাত নম্বরে। গতবছর ছিল ১০ হাজার কোটি টাকার একটু বেশি। এবার ১৩ হাজার কোটি টাকা। তাহলে মানুষকে বাঁচানো, মানুষের কল্যাণের কোনো কাজ এই সরকার করেনি। কীভাবে টাকা বেশি আসবে এবং কীভাবে তার দলের নেতাকর্মীদের পকেট ভরবে এই হচ্ছে তাদের মূল উদ্দেশ্য।

সরকারি হিসাবে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যু নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিএনপির এই যুগ্ম-মহাসচিব। তিনি বলেন, সরকারি হিসাব ২৮ হাজারের ওপরে করোনায় আক্রান্ত এদেশের মানুষ এবং ৪০২ জন মারা গেছেন। আর যারা মেডিকেলে গবেষণা করেন, বড় বড় চিকিৎসকরা বলেছেন, সরকার যে হিসাব দিচ্ছে তার থেকে ১০-৪০ গুণ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে এবং মারা যাচ্ছে।

এ সময়ে মহানগর উত্তরের আহসানউল্লাহ হাসান, এবিএমএ রাজ্জাক, মোতালেব হোসেন রতন, মমতাজ উদ্দিন, এফ ইসলাম চন্দন, সফুরউদ্দিন মৃধা, সাইফুল ইসলাম সরুজ, তাজুল ইসলাম, মো. মুনির, জাহিদ মাস্টারসহ বিএনপি নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

আরও