সুপারহিট ছবি করেও বেকার ছিলেন কেডি পাঠক

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা রোনিত রায়। ১৯৯২ সালে জান তেরে নাম ছবি দিয়ে হিন্দি সিনেমায় অভিষেক করেছিলেন এ অভিনেতা।

প্রথম ছবিই ছিল ব্লকবাস্টার হিট। এরপর একে একে তিনি কাজ করেছেন তামিল, তেলেগু, বাংলা সিনেমায়। তবে রোনিত রায় তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছেন আদালত ধারাবাহিক দিয়ে কেডি পাঠক হিসেবে।

বর্তমানে ভারতীয় ধারাবাহিকে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেতাদের একজন তিনি। তবে দিন তার এমন ছিলো না। প্রথম সিনেমা সুপারহিট করেও প্রায় ৬ মাস কোনো কাজের জন্য ডাকই পাননি। কাজ যেন ভুলেই গিয়েছিল তার ঠিকানা।

সম্প্রতি ই-টাইমসের সঙ্গে একটি এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে রোনিত জানিয়েছেন তার জীবনের অনেক অজানা কথা। আলোচনা করেছেন জীবনের নানা ওঠা-পড়া নিয়ে। করোনাভাইরাসের কালবেলায় আর্থিক অনটন ও কাজের অভাবে মানসিক অবসাদগ্রস্ত হয়ে যেভাবে একাধিক অভিনেতার আত্মহননের ঘটনা সামনে এসেছে তা নিয়েও মন্তব্য করেছেন অভিনেতা।

কাউকে বিচার না করেই নিজের মনের কথা ব্যক্ত করেছেন তিনি।

রোনিত রায় জানিয়েছেন, নিজেকে শেষ করে দেওয়া কোনো সমাধান নয়। ১৯৯২ সালে আমার প্রথম ছবি জান তেরে নাম মুক্তি পেয়েছিল। ব্লকবাস্টার হিট ছিল ছবিটি। আজকালকার দিনের ১০০ কোটি টাকার ছবি। প্রথম ছবি এই স্তরের ছিল। তার পর আচমকাই ৬ মাস ধরে কোনো কল পাইনি কাজের জন্য। বেশ কিছু ছোটখাটো কাজ করেছিলাম সেই সময়। প্রায় ৩ বছর ধরে সেগুলোই করে গিয়েছি। ৯৬ সাল পর্যন্ত।

তিনি আরও বলেছেন, প্রায় ৪ বছর ধরে আমি বাড়িতে বসেছিলাম। আমার একটা ছোট গাড়ি ছিল। কিন্তু পেট্রোল ভরানোর টাকা ছিল না। আমি মায়ের বাড়ি পর্যন্ত হেঁটে যেতাম। সেখানে গিয়ে খেতাম। সিলভার জুবিলি ফিল্মে কাজ করার পরও আমার কাছে কোনো টাকা ছিল না। আমি কিন্তু মেরে ফেলিনি নিজেকে। আমি কাউকে বিচার করছি না। প্রত্যেকে জীবনে আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হয় কখনও না কখনো। কিন্তু সংকটে পড়লে নিজেকে শেষ করে দেওয়া কখনোই কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না। নিজের জীবন শেষ করা কোনো সমস্যারই সমাধান হতে পারে না।

 

আরও