চীন থেকে সরছে কারখানা: বাংলাদেশ কি সুযোগ নিতে পারবে?

করোনা ভাইরাসের কবলে পড়ে প্রকাশিত হয়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্দরের দীনতা। প্রতিটি দেশই বুঝতে পেরেছে নিজেদের অর্থনৈতিক নীতিমালা ও পরিকল্পনার ভারসাম্যহীনতা। বুঝতে পেরেছে অতি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পরনির্ভরশীলতার নেতিবাচক প্রভাব। এ কারণে করোনা চলে যাওয়ার আগেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ অর্থনৈতিক মেরুকরণের চিন্তাভাবনা শুরু করেছে। কোনো কোনো দেশ এরইমধ্যে শুরু করেছে কার্যক্রমও।

চীন-মার্কিন বাণিজ্য যুদ্ধের এবং ব্যবসার ক্ষেত্রে বিভিন্ন কারণে বিতর্কিত চীনের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে বিভিন্ন দেশই মরিয়া ছিল। এ কারণে করোনা ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে অনেক দেশই সেখান থেকে শিল্প কারখানা সরিয়ে নিচ্ছে। তুলে নিচ্ছে বিনিয়োগ।

এ ঘটনা অবশ্য বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক এবং বিশেষ সুযোগ। কারণ ওই কোম্পানিগুলোকে এখানে বিনিয়োগের জন্য টানতে পারলে বাংলাদেশ ব্যাপকভাবে লাভবান হবে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, বাংলাদেশ আদৌ কি সে সুযোগ নিতে পারবে? বাংলাদেশ কি সে চেষ্টা করছে?

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিনিয়োগের পরিবেশ এবং সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত না করতে পারলে দেশে এ মুহূর্তে কোনো বিনিয়োগ আসবে না। বৈদেশিক বিনিয়োগ নীতিমালা নিয়েও ভাবতে হবে। তাছাড়া দেশে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে কেউ বিনিয়োগের ঝুঁকি নেবে না। চীন ছেড়ে যাওয়া কোম্পানিগুলোকে টানতে হলে যে ধরনের লবিং এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ দরকার তার কিছুই করছে না বাংলাদেশ।

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, চীন থেকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের শিল্প কারখানা সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। এরইমধ্যে বিশ্বসেরা বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ভারত, মেক্সিকো ইত্যাদি দেশে কারখানা সরিয়ে নিয়েছে। এছাড়া জাপান ২২০ কোটি মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ চীন থেকে সরিয়ে নিয়েছে। একইভাবে দক্ষিণ কোরিয়াও চীন থেকে তাদের কারখানা সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।

প্রতিবেশী দেশসহ অন্য দেশগুলো যখন কোম্পানিগুলোর চীন ছাড়ার সুযোগ গ্রহণ করে বসে আছে, তখনও বাংলাদেশের সরকারি কর্মচারীরা পরিস্থিতি নিয়ে চিঠি চালাচালির মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছেন।

বিনিয়োগের অবাধ সুযোগ, সস্তা শ্রমিক ও পণ্য উৎপাদনে ব্যয় কম হওয়ার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন কোম্পানি চীনে কারখানা স্থাপন করেছিলো। সেখান থেকে উৎপাদিত পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি করতো এসব প্রতিষ্ঠান। কিন্তু করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে সেখানে উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। অনেক কোম্পানিই এখন চীন থেকে পণ্য উৎপাদন ও রফতানি প্রক্রিয়া এড়িয়ে যেতে চাচ্ছে।

সরকারি কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, চীন থেকে জাপান যে বিপুল বিনিয়োগ তুলে নিচ্ছে, তা বাংলাদেশে আনার ব্যাপারে সুযোগ নিতে চায় বাংলাদেশ। সে কারণে ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের পক্ষ থেকে ঢাকার জেট্রো অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বাংলাদেশে কারখানা আনার জন্য জাপানের প্রতি অনুরোধ করেছে এফবিসিসআই।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য সরাসরি কাজ করছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ-বেজা ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ বোর্ড কর্তৃপক্ষ (বিডা)। তবে প্রতিষ্ঠান দুটি এই পরিস্থিতির মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগ আনার লক্ষ্যে সরকারের কাছে শুধু চিঠি চালাচালির মধ্যেই তাদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রেখেছে।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ-বেজার চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী জানিয়েছেন, জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য দেশে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। এখানে জাপানিদের বিনিয়োগের অনেক বড় সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে বিনিয়োগ নীতি আরো সহজ ও আকর্ষণীয় করার জন্য ওপর জোর দেন তিনি।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ বোর্ড কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাসের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বের প্রতিটি দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি বদলে যাবে। সে কারণে বিদেশি বিনিয়োগ আনতে তারা চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেছেন, বিদেশি বিনিয়োগ আনার লক্ষ্যে প্যাকেজ প্রস্তাব দেওয়ার জন্য আমরা কাজ করছি। জাপানি বিনিয়োগ আনতে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপরেশন এজেন্সি ও জাপান এক্সটারনাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের সাথে আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিপিডির সিনিয়র গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, চীন থেকে যেসব দেশ তাদের শিল্প কারখানা সরিয়ে নিচ্ছে, সেসব দেশের শিল্প কারখানা বাংলাদেশে আনার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে আমাদের প্রথম কাজ হবে করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করা। যেসব দেশে করোনা রয়েছে সেখানে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আসতে চাইবে না। যে সকল দেশে স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে সেখানে শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করলে তাদের নিজেদের যেমন স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে কর্মীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকে। তাই যতো দ্রুত করোনা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো ততো দ্রুত বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে পারবো।

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে বিদেশি বিনিয়োগ খুব বেশি আকৃষ্ট হবে না। যেহেতু বৈশ্বিক চাহিদা কমে গেছে তাই খুব বড় বিনিয়োগ বিভিন্ন দেশে যাবে সেটা কিন্তু মনে হয় না। এখন যেগুলো সরছে সেগুলো কৌশলগত কারণে। মার্কিন ও চায়নার যে বাণিজ্যযুদ্ধ সে সমস্ত কারণে এটা হচ্ছে। এখন আমাদের দেখতে হবে উৎপাদন কাঠামোতে আমাদের সে সক্ষমতা আছে কিনা। তারা যেটা চায় সেটা করার ক্ষমতা আছে কিনা। এজন্য আমাদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। এজন্য আমাদের ইপিজেডগুলো দ্রুত শেষ করতে হবে।

গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য হলে মুন্সিগঞ্জের আড়াই হাজারে যে ইপিজেড করা হয়েছে তা দ্রুত শেষ করতে হবে। এগুলো করে আমরা অপেক্ষা করতে পারি। আমাদের বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রচুর সুযোগ সুবিধা দেওয়া আছে। তবে এই মুহূর্তে বাড়তি কোন প্রণোদনার দেওয়ার দরকার নেই। কারণ আমাদের বেসিক অবকাঠামো প্রস্তুত না। স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিও মারাত্মক রয়েছে। এজন্য আমাদের বেসিক জায়গায় কাজ করতে হবে। যেমন স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দেশভিত্তিক ইপিজেডের নির্মাণ কাজ শেষ করা, বাজেটে বিনিয়োগ অবকাঠামোতে বরাদ্দ রাখা, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য যেসব অবকাঠামো নির্মাণ চলছে তা দ্রুত শেষ করতে হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের একটি ইতিবাচক মেসেজ দিতে হবে।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, করোনা পরবর্তী অর্থনীতি পুনরায় উদ্ধারে বিদেশি বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই। এক্ষত্রে বিনিয়োগকরীদের আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে আমাদের। এজন্য আমাদের অর্থনৈতিক কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে হবে। অবকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে। ইকোনমিক জোনগুলো দ্রুত করতে হবে। দেশভিত্তিক ইপিজেডের কাজ দ্রুত শেষ করতে এবং সেখানে অবকাঠামোগত সকল সুযোগ সুবিধা দিতে হবে।

তিনি বলেন, সবকিছুর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো আমাদের করোনা পরিস্থিতি উন্নত করতে হবে। স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাতে হবে। তা না হলে বিনিয়োগকারী আসবে না। পাশাপাশি রপ্তানি আদেশও বাড়বে না বরং চলে যাবে। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থানর মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করা। ইপিজেডসহ ইকোনমিকজোনে ওয়ান স্টপ সার্ভিস নিশ্চিত করা, বিনিয়োগকারীদের পর্যাপ্ত জমি দিতে হবে। এক্ষেত্রে প্রত্যাশা শুনিয়ে লাভ নেই। দেবো না বলে দেন এই নীতিতে আসতে হবে। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে বিনিয়োগকারিদের জন্য কাজ করতে হবে।

এদিকে গত ২০ মে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে বাণিজ্য সহায়ক পরামর্শক কমিটির সপ্তম সভায় বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে অনেক বড় বড় কোম্পানি অনেক দেশ থেকে তাদের বিনিয়োগ স্থানান্তর করবে। সেই সুযোগটা যদি আমরা নিতে পারি তাহলে করোনা পরিস্থিতি থেকে কিছু সুযোগও আমরা পেয়ে যাবো। এ জন্য অত্যন্ত জরুরিভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আমাদের অনেক সমস্যা রয়েছে অনেক আলোচনা হয়েছে, ইজ অব ডুয়িং বিজনেসে সুচকের দুর্বলতার কথা বলা হয়েছে। এ জন্য ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফেরাতে সরকারকে একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। আগামীতে বিভিন্ন ফেয়ারে আমাদের নতুন নতুন পণ্য দেখাতে হবে।

সভায় টিপু মুনশি বলেন, আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের বড় বড় কোম্পানির সাথে এ বিষয়ে কথা বলছেন। ব্যবসায়ীদেরও কথা বলতে বলেছেন। শিল্পমন্ত্রীও বলেছেন আমরা পজেটিভ রয়েছে। প্রধামন্ত্রীর কার্যালয় এ বিষয়ে কাজ করছে। আমরাও আজকের বৈঠকের আলোকে এটা কার্যপত্র তৈরি করবো। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের আমরাদের পরিষ্কার কাগজ দেখাতে হবে যে আমরা এসব সুবিধা দেবো।

সে সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, চীনে যে সব বিদেশি বিনিয়োগ আছে এর মধ্যে জাপান ঘোষণা দিয়েছে তারা তাদের শিল্প প্রতিষ্ঠান রিলোকেট করবে। ডিপ্লোম্যাটিক চেইনে সে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে যাতে জাপান শিল্প প্রতিষ্ঠান রিলোকেট করলে তা চায়না থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসে। এটার জন্য প্রচেষ্টা চলছে। একই সাথে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক জোন ও হাইটেক পার্কে বিনিয়োগের জন্য বিদেশি বিনিয়োগকারিদের কাছে আহবান জানানো হয়েছে।

সভায় শিল্প মন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বলেন, করোনা পরবর্তী সময়ে আমাদের বিশ্ব পরিবর্তনের সাথে সাথে তাল মিলিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য বিনিয়োগকরীদের আকৃষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের শিল্প খাতকে সমৃদ্ধ করতে হবে। এখন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। করোনা পরিস্থিতিতে শক্ত নীতিমালা গ্রহণ করে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান বলেন, রিলোকেট কারীদের কিভাবে সুযোগ সুবিধা দেবো এখন সেটা চিন্তা করার উচিৎ। দেশে আকর্ষণীয় বিনিয়োগের সুযোগ সুবিধা দেওয়া গেলে জাপান ও আমেরিকার যে সকল বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান রিলোকেট করতে চাচ্ছে তাদের দৃষ্টি আকষর্ণ করা যাবে।

তিনি বলেন, আমাদের বড় সমস্যা হচ্ছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। এটা দূর করতে হবে। ইতোমধ্যে ইন্দোনেশিয়া বৈদেশিক বিনিয়োগের একটি বড় স্থান অধিকার করেছে। তারা নানা ধরনের সুযোগ সুবিধা ঘোষণা করেছে। আমাদেরও এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে। এজন্য ছোট ছোট উদ্যোগগুলোকে সমন্বয় করার জন্য একটি ট্যাক্সফোর্স গঠনের পরামর্শ দেন তিনি।

বসে নেই ভারত-ভিয়েতনাম: চীন থেকে বিদেশি কারখানা সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ নিতে চায় ভারত ও ভিয়েতনাম। তারা ইতিমধ্যেই নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ভারত ইতিমধ্যেই প্রায় ১ হাজার বিদেশি কোম্পানির কাছে নিজ দেশে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আবেদন জানিয়েছে। কারখানা স্থানান্তরের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভারতীয় মিশন থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের কোম্পানিগুলোর সাথে ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়াতে চাইছে ভারত।

এদিকে ভারতের মতো ভিয়েতনামও বসে নেই। ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা গ্রুপের সদস্য নগুয়েন দিন চুং বলেছেন, করোনা মহামারির পরিপ্রেক্ষিতে ভিয়েতনাম বিদেশি বিনিয়োগ আনার জন্য চেষ্টা করছে। এই মুহূর্তে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের চাহিদাও আমরা জানতে চাই। সে অনুযায়ী আমরা কাজ করতে চাই।

উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাস মহমারি বিশ্বের যে কয়টা দেশ সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে, ভিয়েতনাম তাদের মধ্যে অন্যতম। সে কারণে ভিয়েতনামে বিনিয়োগ অনেকটাই নিরাপদ বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা।

 

আরও