সিলেটে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা হাজার ছাড়াল, মারা গেছে ২৯ জন

নতুন করে সিলেট জেলায় আর ৯৮ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে জনপ্রতিনিধি-চিকিৎসক ও পুলিশও রয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার অতিক্রম করল।

গতকাল বুধবারের ৯৮ জনসহ এ জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত হলেন এক হাজার ৮৬ জন। এরমধ্যে এ জেলায় মারা গেছেন ২৯ জন আর সুস্থ হয়েছেন ১৩১ জন। বিভাগের চার জেলার মধ্যে সিলেটে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর দিক দিয়ে সবচেয়ে বেশি।

বুধবার (১০ মে) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে ১৭৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এরমধ্যে ৫৫ জনের রিপোর্ট করোনা পজিটিভি আসে। এছাড়া ঢাকায় পরীক্ষা করা নমুনায় গোলাপগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলরসহ ১৩ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। আর গত মঙ্গলবার রাতে দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষায় আরও এ জেলার ৩২ জন আক্রান্ত হন। এ নিয়ে সিলেট জেলায় নতুন করে সর্বোচ্চ ৯৮ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হলো।

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় জানান, বুধবার (১০ মে) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে ১৭৯ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এরমধ্যে ৫৫ জনের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। শনাক্ত হওয়া ৫৫ জনের মধ্যে ৫৩ জন সিলেট জেলার এবং একজন করে সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার।

তিনি বলেন, এর আগে মঙ্গলবার দ্বিতীয় ধাপে ওসমানী ল্যাবে ৯১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিলে। বুধবার সকালে যার ফলাফল জানা যায়। এতে ৩৬ জনের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। পজিটিভ আসাদের মধ্যে ৩২ জন সিলেট জেলার।

এর আগে ওসমানীর ল্যাবে মঙ্গলবার প্রথমধাপের পরীক্ষায় ৫০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিলে। যা রাতেই গণমাধ্যমে জানানো হয়।

জানা যায়, এ ল্যাবে বুধবারের শনাক্ত হওয়া ৫৫ জনের মধ্যে সিলেট মহানগরে ও সদর উপজেলায় ৫১ জন রোগী রয়েছেন। এছাড়া কানাইঘাটের একজন এবং বিয়ানীবাজার উপজেলার একজন। আর সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুনামগঞ্জের শাল্লার একজন এবং হবিগঞ্জের সদর উপজেলার একজন বুধবার ওসমানীর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছেন।

এদিকে, সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর এম ফজলুল আলমসহ আরও ১৩ জনের করোনা শনাক্ত করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. মনিসর চৌধুরী।

তিনি বলেন, সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিএর ল্যাবে নমুনাগুলো জমে থাকায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। ঢাকা থেকে ই-মেইলের মাধ্যমে আরও ১৩ জনের করোনা শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

আক্রান্তদের মধ্যে আছেন, পৌর কাউন্সিলর এম ফজলুল আলম, তার ছেলে শিহাব উদ্দিন, পৌর এলাকার লোকমান টাওয়ারের একজন নারী, কদমতলি এলাকার একজন পুরুষ, কদমতলি এলাকার সোনালী ব্যাংকের একজন পুরুষ কর্মকর্তা, বাঘা ইউনিয়নের নলুয়া গ্রামের তিনজন নারী, লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নের মুকিতলা গ্রামের একজন পুরুষ ও একজন নারী, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২ জন নারী ও একজন পুরুষ স্টাফ। স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে একজন নারীর বাড়ি ফুলবাড়ি ইউনিয়নে।

এ ১৩ জন করোনা রোগীসহ গোলাপগঞ্জে মোট করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৭৩ জনে। এদের মধ্যে ২৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন আর মারা গেছেন একজন।

এছাড়া বুধবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে সুনামগঞ্জের ২৮৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলে ৪৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার সিভিল সার্জন ডা. শামস উদ্দিন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৩৯৭ জনে।

সিলেট বিভাগে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্ত ১ হাজার ৮৪৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেটে ১০৮৬ জন, সুনামগঞ্জে ৩৯৮ জন, হবিগঞ্জে ২০৯ জন ও মৌলভীবাজারে ১৫২ জন।

এখন পর্যন্ত এ বিভাগে করোনায় মারা গেছেন মোট ৩৮ জন। এর মধ্যে সিলেটে ২৯ জন, হবিগঞ্জে ২ জন, সুনামগঞ্জে ৩ জন ও মৌলভীবাজার জেলায় ৪ জন। আর করোনা জয় করে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৪১৫ জন।

এরমধ্যে সিলেট জেলায় ১৩১ জন, সুনামগঞ্জে ৮৭, হবিগঞ্জে ১৩৫ জন এবং মৌলভীবাজার জেলায় ৬২ জন। সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৩৬৯জন রোগী।

 

আরও