সুশান্ত হতে পারতেন শ্রীশান্তও, বাঁচিয়েছে তার…

মানসিক অবসাদ একটা মানুষকে মৃত্যুর দিকেও ঠেলে দিতে পারে। সম্প্রতি অবসাদের কারণে বলিউডের জনপ্রিয় নায়ক সুশান্ত রাজপুতের আত্মহত্যা নাড়িয়ে দিয়েছে পুরো বিশ্বকে। দুঃসময়ে সাহস দেবার মতো একজন কাছের মানুষ কতটা দরকার, সেটিই বুঝিয়ে দিয়েছে সুশান্তের মৃত্যু।

তরুণ এই অভিনেতার এভাবে চলে যাওয়া মানতে পারছেন না ভক্তরা। বলিউড থেকে শুরু করে ক্রিকেটপাড়াও সুশান্তের জন্য কাঁদছে। ভারতীয় পেসার শ্রীশান্ত তো তার জীবনের সঙ্গেই মিল পাচ্ছেন।

২০১৩ সালে আইপিএলে স্পট ফিক্সিংয়ের দায়ে ৭ বছর নিষিদ্ধ হন শ্রীশান্ত। এ বছরই তার নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তবে শুরুর সময়টায় ভারতীয় এই পেসারের অবর্ণনীয় কষ্টে দিন কেটেছে। এমনকি আত্মহত্যার একদম দ্বারপ্রান্তে চলে গিয়েছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত এমন কিছু থেকে বেঁচে ফিরেছেন।

ডেকান ক্রনিকল-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে শ্রীশান্ত সেই দুঃসময়ের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, একটা সময়ে আমি অন্ধকারকে ভয় পেতে শুরু করি। আমি বাড়ির বাইরে যেতাম না। কাউকে যেতেও দিতাম না, ভয় পেতাম আমাকে বোধ হয় কিডন্যাপ করা হবে। ওই সময়টায় আমি গভীর অবসাদের ভেতর ঢুকে যাই।

ভারতীয় পেসার যোগ করেন, এসব কিছু আমি নিজের রুমে ভাবতাম। কিন্তু মুখে হাসি ছাড়া রুম থেকে বের হতাম না। কারণ আমার বাবা-মা এমন দেখলে মানতে পারবে না। আমি তাদের থেকে এসব গোপন করতাম। সে সময় পুরোপুরি নিজের মধ্যে থাকতাম। সবসময় কাঁদতাম আর ভাবতাম, কেন এমন হলো, কি হয়ে গেল! দ্বৈত্য সত্তা নিয়ে জীবন কাটাতাম। এটা মানিয়ে নেয়া ভীষণ কঠিন ছিল।

তবে এই কঠিন সময়টায় পরিবারের ছায়া পেয়েছেন শ্রীশান্ত। পরিবারের ভালোবাসায় উপলব্ধি করতে পেরেছেন, তাদের জন্য হলেও বেঁচে থাকতে হবে। ৩৭ বছর বয়সী এই পেসারের ভাষায়, আমার পরিবার আমাকে সুস্থ রেখেছে। আমাকে পরিবারের পাশে থাকতো হতো। আমি আমি বুঝতাম, আমাকে তাদের দরকার আছে।

সুশান্তের মৃত্যু নিয়ে শ্রীশান্ত বলেন, এজন্যই সুশান্ত সিংয়ের মৃত্যু আমার ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে। সে শুধু আমার ভালো বন্ধু ছিল বলেই নয়। আমিও এমন অবস্থায় চলে গিয়েছিলাম, কিন্তু ফিরে আসি। আমি জানতাম, যারা আমার ওপর বিশ্বাস রাখে ও ভালোবাসে; তারা কতটা কষ্ট পাবে।

 

আরও