আরও ১৪৫ পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত

জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় পুলিশের আরও ১৪৫ জন সদস্য প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

এ নিয়ে বুধবার (২৪ জুন) পর্যন্ত পুলিশ বাহিনীতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৯ হাজার ৫৪৩ জনে, যা একক পেশা হিসেবে সর্বোচ্চ। পুলিশ সদর দফতর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক মহামারি করোনায় সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে শুরু থেকেই ডাক্তার-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে কাজ করে আসছে বাংলাদেশ পুলিশ। যে কারণে দ্রুতই সংক্রমিত হয়েছেন পুলিশ সদস্যরা।

তবে মোট আক্রান্তের মধ্যে ৫ হাজার ৫১২ সদস্য সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি)।

বুধবার পর্যন্ত ঢাকা মহানগর পুলিশে কর্মরতদের মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ১৮০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৫ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন।

পুলিশ সদর দফতর থেকে জানানো হয়, আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসায় ৯ হাজার ৩৪৫ সদস্যকে কোয়ারেন্টাইনে ও ৩ হাজার ৯৬৩ জনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

সুস্থ হওয়া পুলিশ সদস্যদের অনেকেই জনগণের সেবায় নিজেকে নিযুক্ত করতে আবারও কাজে যোগ দিয়েছেন। পুলিশের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হাসপাতালগুলোর উন্নত ও মানসম্মত চিকিৎসা এবং সেবায় সুস্থতার হার দ্রুততার সঙ্গে বাড়ছে।

পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, এ পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের ৩৪ জন গর্বিত সদস্য চলমান করোনাযুদ্ধে দেশের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে জীবন উৎসর্গ করেছেন। সহকর্মী হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করে দেশ সেবার দৃপ্ত শপথ বুকে ধারণ করে কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ।

তিনি বলেন, আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর ড. বেনজীর আহমেদ বিরামহীনভাবে করোনা প্রতিরোধে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও সময়োপযোগী দিকনির্দেশনায় আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের সুস্থ করতে ব্যস্ত পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও।

পুলিশ সদস্যদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি কমাতে আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদের নির্দেশে আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের জন্য সর্বোত্তম সেবা ও শুশ্রূষা নিশ্চিত করতে বেসরকারি হাসপাতাল ভাড়া করাসহ সব পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জামাদি সংযোজন করা হয়েছে। এ কারণে একদিকে পুলিশ আক্রান্তের হার যেমন ক্রমান্বয়ে কমছে, তেমনি দ্রুততার সঙ্গে বাড়ছে সুস্থতার হার।

 

আরও