সর্বশেষ

বাংলা চলচ্চিত্রকে বিশ্বদরবারে নিয়ে যেতে চাই

ভারতের দিল্লিতে ইন্দুস ভ্যালি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে চলেছে বাংলাদেশের চারটি চলচ্চিত্র। এতে ফিচার ফিল্ম ক্যাটাগরিতে মনোনীত হয়েছে সরকারি অনুদানে নির্মিত মায়া: দ্য লস্ট মাদার চলচ্চিত্রটি। কবি কামাল চৌধুরীর যুদ্ধশিশু কবিতা ও চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদের ওমেন চিত্রকর্ম অবলম্বনে মায়া: দ্য লস্ট মাদার ছবিটি নির্মাণ করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী নির্মাতা মাসুদ পথিক। গত বছর ডিসেম্বরে ছবিটি মুক্তি পায়। এতে প্রধান মায়া চরিত্রে অভিনয় করেন অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি। টকিজের মুখোমুখি হয়ে চলচ্চিত্রটি নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন রাইসা জান্নাত-

মায়া: দ্য লস্ট মাদার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিচ্ছে। নিশ্চয়ই ভালো লাগা কাজ করছে?

নিঃসন্দেহে ভালো লাগছে। ছবিটি নিয়ে অনেক প্রত্যাশা আমাদের। আমরা আশাবাদী ছবিটি সামনে আরো অনেক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নেবে।

মায়া চরিত্রটিতে অভিনয় করা কতটা চ্যালেঞ্জের ছিল?

চরিত্রটি আমার পরিচিত। গ্রাম-গঞ্জে এ রকম চরিত্র আমরা দেখতে পাই। তবে মায়ার মানসিক টানাপড়েনের বিষয়টা নতুন। মায়া একজন বীরাঙ্গনা মায়ের মেয়ে। এজন্য তাকে জীবনে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। অনেক সংগ্রাম করতে হয়। এ বিষয়গুলো আমি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। এছাড়া চরিত্রের গেটআপ, লুকআপের জন্য অনেক প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। ছবির নির্মাতা মাসুদ পথিক তার যেকোনো ছবিকে র রিয়েলিজম বলে থাকেন। তো সবকিছুকে বাস্তবাকারে ফুটিয়ে তুলতে যা যা করণীয় তার সবই করেছি। একদম মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়া বলতে যা বোঝায়। যেমন ছবির শুটিং চলাকালে অনেক দিন চুলে শ্যাম্পু করিনি। চুলে কাদা-মাটি মেখেছি। সেভাবেই ঘুমিয়েছি। গোবরের জ্বালানি তৈরি করেছি। টয়লেটে নাকফুল পরে যাওয়ার একটা দৃশ্য ছিল। সেখানে প্রায় এক-দেড় ঘণ্টা শুটিং করতে হয়েছে। সে সময় কষ্ট হয়েছে ঠিকই। কিন্তু দৃশ্যটা খুব ভালো হয়েছে।

এত চ্যালেঞ্জ নিয়ে অভিনয়ের পর ছবিটি যখন মুক্তি পেল কেমন সাড়া পেয়েছিলেন?

অসাধারণ সাড়া পেয়েছি। আমার অভিনয় নিয়ে অনেকে প্রশংসা করেছেন। ছবির গল্পে দুটি অংশ রয়েছে। পুরো ছবিটাই সবাই পছন্দ করেছে। তবে গ্রামের অংশটুকু দর্শকরা একটু বেশি পছন্দ করেছিল। ছবিটি ভালোভাবে করার জন্য আমরা কেউ কোনো ছাড় দিইনি।

অডিয়েন্সের এমন সাড়া নিশ্চয়ই পরবর্তী সময়ে ভালো কাজের অনুপ্রেরণা তৈরি করে?

অবশ্যই। দর্শকদের এমন সাড়ার ফলে পরের কাজগুলো আরো ভালোভাবে করতে হবেএ ভাবনা মাথায় কাজ করে। সবসময় চেষ্টা করি নিজের চরিত্রগুলোকে যথাযথভাবে ফুটিয়ে তোলার।

আপনি তো বেশকিছু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। আপনার ক্যারিয়ারে এ ছবির গুরুত্ব কতখানি?

ছবিটি দেখার পর অনেকে আমাকে মায়া ডাকতে শুরু করেন। চরিত্রের নাম ধরে যখন কেউ ডাকে তখন মনে হয় আমি সেই চরিত্রটি করতে সফল হয়েছি। মায়া আসলে একজন কিষানী। সে কৃষিকাজের পাশাপাশি সংসার চালায়। সমাজের সঙ্গে সে লড়াই করে। এত কিছুর সংমিশ্রণের একটি চরিত্রে আমি খুব কমই কাজ করেছি। এদিক থেকে ছবিটি অবশ্যই আমার ক্যারিয়ারে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

একটু অন্য প্রসঙ্গে যাই। চলচ্চিত্রে অভিনয় নিয়ে আগামীর ভাবনা…

আমি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে কলকাতায় রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত ছবিতে কাজ করেছি। ভালো সাড়াও পেয়েছি। দেশে এবং দেশের বাইরে সব জায়গাতেই কাজের ইচ্ছা আছে। তবে আমি মানসম্মত কাজ করতে চাই। এজন্য নিজের প্রডাকশন হাউজ তৈরিরও একটা চিন্তাভাবনা রয়েছে। এছাড়া বাংলা চলচ্চিত্রকে বিশ্বদরবারে নিয়ে যেতে চাই। বলা যায়, এটা আমার লক্ষ্য।

লকডাউন চলাকালে কোনো কাজ করেছেন?

দুটি কাজ করেছি। একটি গল্প নিয়ে দুই পর্বের একটি নাটক নির্মিত হয়। নাম বকুলের সংসার ও বকুলের বিবাহ। এ নাটকের কাজ করেছি। আরেকটি ব্রেস্ট ক্যান্সার নিয়ে সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপনে কাজ করেছি।

এখন ঘরবন্দি সময়গুলো কীভাবে কাটছে?

আমার কৃষিখামার করার ইচ্ছা আছে। এসব নিয়ে ভাবছি, পড়াশোনা করছি। বলা যায়, প্রি-প্রডাকশনের কাজ চলছে। একই সঙ্গে নিজের প্রডাকশন কোম্পানি নিয়েও ভাবছি। এগুলোর পেছনে অনেক সময় দিতে হচ্ছে।

 

আরও