লকডাউন পরমাণু অস্ত্রের মতো, আর ব্যবহার করতে চাই না: জনসন

লকডাউনকে পরমাণু অস্ত্রের সঙ্গে তুলনা করে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, করোনাভাইরাসের প্রকোপ আরেক দফায় বেড়ে গেলে দেশব্যাপী আবার এই পদক্ষেপ নিতে চান না তিনি।

দ্য সানডে টেলিগ্রাফ পত্রিকায় এক সাক্ষাৎকারে জনসন বলেন, করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে দ্বিতীয়বার লকডাউন আরোপের পরিকল্পনা তিনি বাদ দিতে পারেন না। কিন্তু আবার লকডাউন আরোপও করতে চান না। কারণ, সেটি করা মানে অনেকটা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতোই ব্যাপার।

তবে জনসন বলেন, যুক্তরাজ্য এরকম অবস্থায় আর পড়বে বলে তিনি মনে করেন না। কারণ, কর্তৃপক্ষ স্থানীয় পর্যায়ে বেশ ভালভাবেই করোনাভাইরাস সংক্রমণ চিহ্নিত করে আইসোলেশনের পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা এখন প্রকৃতপক্ষেই অনেক কাছ থেকে পরিস্থিতি নজরে রাখতে পারছি। ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আলাদা করে চিহ্নিত করতে পারছি এবং চটজলদি সেখানেই ব্যবস্থা নিতে পারছি। দরকার হলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করে স্থানীয় এবং আঞ্চলিকভাবেই সে সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা সক্ষম।

বিবিসি জানায়, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এর আগে শুক্রবার ডাউনিং স্ট্রিটে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে আশা প্রকাশ করে বলেছিলেন, বড়দিনের মধ্যেই যুক্তরাজ্য স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।

নভেম্বর থেকেই এ স্বাভাবিক অবস্থা শুরু হবে বলে আশা জনসনের। যদিও যুক্তরাজ্যের প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা বলছেন, শীতের সময় করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে পারে। ফলে আবার লকডাউনের পদক্ষেপ নেওয়ার দরকার পড়তে পারে, সে ঝুঁকি আছেই।

স্থানীয় পর্যায়ে সংক্রমণ রোধের জন্য ইংল্যান্ডে বিভিন্ন কাউন্সিলকে স্থানীয়ভাবে লকডাউন আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এ নতুন ক্ষমতাবলে তারা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে দোকান বন্ধ করা, অনুষ্ঠান বাতিল করা এবং জনসমাগম নিষিদ্ধের মতো পদক্ষেপ নিতে পারবে।

তবে কঠোর কোনও লকডাউনের প্রয়োজন যাতে না পড়ে সেজন্য সচেষ্ট রয়েছে বলে জানিয়েছে সেখানকার স্থানীয় সরকারি এসোসিয়েশন।

 

আরও