সিলেটের সেই জালিয়াত ডাক্তার আবারও করোনা পজিটিভ, তোলপাড়

একবার নয়, দু-দুবার করোনা রোগী হিসেবে শনাক্ত হলেন সিলেটের আলোচিত সেই জালিয়াত ডাক্তার শাহ আলম। দেশ-বিদেশে প্রতারক হিসেবে পরিচিতি পাওয়া রাজধানী ঢাকার রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিমের মতো যিনি টাকার বিনিময়ে সিলেটে দিতেন করোনাভাইরাসের ভুয়া সার্টিফিকেট।

জানা গেছে, সিলেটে সরকারি চিকিৎসকের ভুয়া পদবী ব্যবহার করে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা না করেই ভুয়া সার্টিফিকেট প্রদানের অভিযোগে রোববার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় র্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়া এ.এইচ.এম শাহ আলম নামের এই চিকিৎসক দ্বিতীয়বারের মতো করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। গত শনিবার (১৮ জুলাই) আবারও তার শরীরের নমুনা সিলেট এম.এ.জি ওসমানী হাসপাতালের ল্যাবে পরীক্ষার জন্য দিলে সোমবার (২০ জুলাই) রাতে সে পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। অর্থাৎ- দ্বিতীয়বারের মতোও শাহ আলম করোনা রোগী হিসেবে চিহ্নিত হলেন।

এর আগে শরীরে কোভিড-১৯ এর উপসর্গ দেখা দিলে গত ১২ জুলাই প্রথমবার করোনা টেস্ট করান শাহ আলম। পরদিনই তিনি করোনা রোগী শনাক্ত হন।

এদিকে, শাহ আলম করোনা রোগী হয়েও প্রতিদিন চেম্বারে রোগী দেখার নাম করে মিশেছেন মানুষের সঙ্গে। করোনা রোগীর এমন আচরণে এখন সিলেটজুড়ে চলছে তোলপাড়, বইছে সমালোচনার ঝড়। আর চরম আতঙ্ক-উৎকণ্ঠায় আছেন তার সংস্পর্শে আসা মানুষজন।

উল্লেখ্য, সিলেটে টাকার বিনিময়ে করোনার ভুয়া সার্টিফিকেট দেয়ার পাশপাশি নিজে করোনা আক্রান্ত হয়েও চেম্বারে রোগী দেখা এবং ওসমানী মেডিকেলের ডাক্তার হিসেবে পরিচয় ব্যবহার করার অপরাধে এ.এইচ.এম শাহ আলমকে জেল ও জরিমানা করেছেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

রবিবার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় তার চেম্বারে অভিযান চালিয়ে তাকে এ শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হয়। নগরীর মধুশহীদস্থ মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেডের নিচতলায় শাহ আলমকে সাথে নিয়ে তার চেম্বারে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুনন্দা রায়ের নেতৃত্বে অভিযান চালায় র্যাব-৯ এর একটি দল। এরপর তাকে গ্রেফতার করা হয়।

 

আরও