মিয়ানমারে করোনাবিধি ভাঙায় কানাডীয় যাজকের জেল

করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে জনসমাবেশ নিষিদ্ধ বিধি অমান্য করায় খ্রিষ্টান ধর্মের কানাডীয় এক যাজক ও তার এক অনুসারীকে তিন মাসের জেল দিয়েছে মিয়ানমারের এক আদালত।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, কানাডার টরেন্টোর ওই যাজকের নাম ডেভিড লাহ, বয়স ৪৩। ওই যাজক নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে বর্তমানে সুস্থ আছেন তিনি। অতি ছোঁয়াচে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হন তার বেশ কয়েকজন অনুসারীও।

সরকারি হিসেবে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা মাত্র ৩৫৭ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ছয়জনের। অবশ্য বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মিয়ানমারে প্রয়োজনের তুলনায় পরীক্ষা খুব কম হচ্ছে। আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যাটা অনেক বেশি।

মিয়ানমারেই জন্ম যাজক লাহর । ধর্ম প্রচারের কাজে প্রায়ই মাতৃভূমিতে এসে থাকেন তিনি।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গত মার্চের মাঝামাঝি থেকেই জনসমাগম মিয়ানমারে নিষিদ্ধ। কিন্তু এক ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, এপ্রিলের শুরুতে ইয়াঙ্গুনে ধর্মীয় সমাবেশ করেছেন লাহ।

একটি রুমে অনুসারীদের জটলা সমাবেশে তাকে বলতে দেখা যায়- মানুষের হাতে যদি বাইবেল থাকে এবং তাদের হৃদয়ে যিশুকে লালন করে তাহলে কোনো রোগ আসবে না।

এই মহামারিতে যদি কেউ আরোগ্য এনে দিতে পারেন এবং শান্তি এনে দিতে পারেন তিনি কেবলই যিশু।

ওই ঘটনার কিছুদিন পরই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন লাহ এবং তার বেশ কয়েকজন অনুসারী।

মে মাসে করোনাভাইরাস থেকে আরোগ্য লাভ করেন লাহ। সুস্থ হওয়ার পরই ন্যাচারাল ডিজাস্টার অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট আইন ভাঙার দায়ে তাকে তিন মাসের জেলে পাঠিয়েছে ইয়াঙ্গুনের আদালত।

লাহর পাশাপাশি তার ওয়াই তুনকেও তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। আদালতের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, তাদের শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকটা শিথিলতা দেখিয়েছে আদালত।

লাহর আইনজীবী অং কিওয়াই সাংবাদিকদের বলেছেন, যে সময় ধরে লাহ কারাগারে রয়েছেন তা শাস্তি থেকে কেটে নেওয়া হবে। শাস্তি তুলনামূলক কম হওয়া খুশি তার অনুসারীরা।

 

আরও