সিলেটে পৃথক দুটি বাসায় অভিযান, বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার

সিলেট নগরীর টিলাগড়ের শাপলাবাগ ও জালালাবাদ আবাসিক এলাকার পৃথক দুটি বাসায় অভিযান চালিয়ে বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও জঙ্গি তৎপরতায় ব্যবহৃত কম্পিউটার উদ্ধার করেছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিটিসি)।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টায় নগরীর জালালাবাদ আবাসিক এলাকার ৪৫/১০নং বাসার মুক্তিযোদ্ধা মইনুল আহমদের বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। এর আগে গত রোববার রাত থেকে পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ৫ নব্য জেএমবির দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়।

এসময় বাসা থেকে বোমা তৈরির এবং কিছু কম্পিউটার সরঞ্জাম উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকৃত কম্পিউটারে বোমা তৈরির বেশকিছু ভিডিও ছিলো। আটক সানাউল ইসলাম সাদী নিজেই তার জঙ্গি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে। এছাড়া সে গত ১৩ জুলাই শাহজালালের মাজারে বোমা হামলার পরিকল্পনা ছিল বলে জানায়।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খানের ভাষায়, জালালাবাদ আবাসিক এলাকার ৪৫/১০ নম্বর বাসার মুক্তিযোদ্ধা মইনুল আহমদের বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানের সময় আমিও উপস্থিত ছিলাম। এসময় বাসা থেকে বোমা তৈরির এবং কিছু কম্পিউটার সরঞ্জাম উদ্ধার করে নিয়ে যায় পুলিশ। উদ্ধারকৃত কম্পিউটারে বোমা তৈরির বেশকিছু ভিডিও ছিলো।

গত দুইদিনের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ৫ জঙ্গির মধ্যে আটক জঙ্গি নাইম ও সায়েমকে নিয়ে রাত সাড়ে নয়টায় নগরীর টিলাগড়ের শাপলাবাগ আবাসিক এলাকার ৪০/এ শাহ ভিলা নামের বাসায় অভিযান চালিয়ে র্যাব ও পুলিশ সদস্যরা একটি কম্পিউটার সেন্টারের সন্ধান পায়।

শাহ ভিলার মালিক শাহ মো. শামদ আলী জানিয়েছেন, নাইম ও সায়েম তার বাসার চারতলার ফ্ল্যাটটি গত দুই মাস আগে কম্পিউটার সেন্টার বানানোর জন্য ভাড়া নিয়েছে। কিন্তু তারা সেখানে অবস্থান করেন না।

সর্বশেষ এই দুই স্থানে অভিযান শেষে গ্রেপ্তারকৃত ৫ জঙ্গিকে নিয়ে মঙ্গলবার রাতেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছে পুলিশ।

গত রোববার (৯ আগস্ট) থেকে সিলেট নগরী এবং আশেপাশের কয়েকটি এলাকায় জঙ্গি ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ বা নব্য জেএমবির পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।

জানা গেছে, সিলেট নগরীর মিরাবাজার উদ্দীপন-৫১ নম্বর বাসা থেকে গেল রোববার রাতে নাইমুজ্জামান নাইমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি নব্য জেএমবির সিলেট আঞ্চলিক কমান্ডার বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে।

নাইমের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে সোমবার রাতে ও মঙ্গলবার ভোরে পৃথক দুটি অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় আরও চারজনকে। তার মধ্যে জালালাবাদ আবাসিক এলাকা থেকে সানাউল ইসলাম সাদীকে গ্রেপ্তার করে সিটিটিসি। এছাড়া টুকেরবাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তিনজনকে। নাইম ও সাদী শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তবে তারা কোন বিভাগের শিক্ষার্থী, তা জানা যায়নি। গ্রেপ্তারকৃত বাকি তিনজনের মধ্যে দুজন কলেজ শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

এই পাঁচ জঙ্গি সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে হামলার পরিকল্পনা করছিল বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে। তাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সিলেট নগরীতে অভিযানে চালিয়েছে পুলিশ ও র্যাব।

 

আরও