স্ত্রী চুমকির কাছে আলাদিনের চেরাগ স্বামী প্রদীপ!

বাবার ব্যবসা পুঁজি করে নিজেকে পরিচয় দিয়েছেন কমিশন ব্যবসায়ী হিসেবে। ভোগদখল করা ৬ তলা বাড়ির মালিকানা পাওয়ার দাবিও করেছেন বাবার কাছ থেকে। বলেছেন মাছচাষের গল্প। তবে সত্যতা মেলেনি কোনটিরই।

টেকনাফের সাবেক ওসি প্রদীপের স্ত্রী চুমকির দেয়া সম্পদের তথ্য যাচাইয়ে ব্যাপক গড়মিল খুঁজে পায় দুদক। প্রমাণ মেলে প্রায় ৪ কোটি টাকার সম্পদই অবৈধভাবে অর্জিত। যার সবটারই নেপথ্যে প্রদীপ। তাই দুয়েকদিনের মধ্যেই মামলা করতে যাচ্ছে দুদক।

স্বামী প্রদীপ কুমার দাশ পুলিশ কর্মকর্তা। সেটিই যেন আলাদিনের চেরাগ হয়ে আসে স্ত্রী চুমকির জন্য। দুদকে দেয়া সম্পদ বিবরণীতে চুমকি কারণ নিজেকে দেখিয়েছেন কমিশন ব্যবসায়ী হিসেবে। দিয়েছেন পুকুর ইজারা নিয়ে মাছ চাষের তথ্য। পিতার দানে চট্টগ্রামের পাথরঘাটায় মালিক হয়েছেন বাড়ির। নিজের আয়ে ষোলশহরে বায়না করেছেন ৬ গন্ডা জমি। আর কক্সবাজারে কিনেছেন একটি ফ্ল্যাট।

নিজের দেয়া তথ্য অনুযায়ী চুমকির স্থাবর সম্পদ আছে ৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকার। আর অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন ৫৬ লাখ ২৪ হাজার টাকার। সবমিলে তিনি ৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকার মালিক। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে এ হিসাবের ব্যাপক গোঁজামিল বেরিয়ে আসে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, চুমকি বৈধভাবে ৪৯ লাখ টাকার মালিক হবার কথা। বাকি প্রায় ৪ কোটি টাকাই অবৈধ সম্পদ।

দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, চুমকি সম্পদের পাহাড় গড়েছেন স্বামী প্রদীপের অবৈধ অর্থে। শুধু তাই নয়, স্ত্রীর সম্পদের বৈধতা পেতে শ্বশুরের নামে জমি নিয়ে বাড়ি বানিয়েছেন প্রদীপ। পরে তার স্ত্রীকে দানের নামে সাজানো হয় নাটক। বোনের জায়গা দখল করেও সাজায় কেনার অলিক গল্প। তার স্ত্রী কমিশন ও মৎস ব্যবসায়ী দাবি করলেও তা সঠিক নয় বলে প্রমাণ পায় দুদক।

 

আরও