সর্বশেষ

এখনই নির্বাচনের মাঠে যাচ্ছেন না তাঁরা

পাঁচটি শূন্য আসনে উপনির্বাচনে একটি গুজব উত্তেজনা ছড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এই উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন বলে কে বা কারা গুজব ছড়িয়েছে এবং এটার ফলে বিপুল প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেক মানুষ সায়মা ওয়াজেদ পুতুল নির্বাচনে যাবেন, এমনটি ভেবে আগাম অভিনন্দন জানিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। কিন্তু সায়মা ওয়াজেদ পুতুল উপনির্বাচন করছেন না। উপনির্বাচনে মনোনয়নের জন্য যে ফরম রয়েছে, সে ফরম তার পক্ষ থেকে কেউ কেনেনি।

আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল বলছে, শুধু সায়মা ওয়াজেদ পুতুল নন বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র বা নাতি নাতনীরা কেউই উপনির্বাচনে যাবেন না। সরাসরি প্রত্যক্ষ রাজনীতির সঙ্গেও তারা যুক্ত হবেন না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই হত্যার পর ব্রাসেলসে থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে- শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা একাধিকবার বলেছেন যে, তার পরিবার হলেন তিনি, শেখ রেহানা, সজীব ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, টিউলিপ সিদ্দিক এবং আজমিনা সিদ্দিক রুপন্তী। এদের বাইরে কেউ তার পরিবারের সদস্য নন। এই বিবেচনা থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সবসময় মনে করেন যে, শেখ হাসিনার পর রাজনীতিতে কে আসবেন তা নিয়ে আওয়ামীলীগের মধ্যে নানা রকম আলাপ আলোচনা হয়। সকলেই প্রত্যাশা করেন আওয়ামী লীগকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এবং আওয়ামী লীগের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু পরিবারের কাউকেই হয়তো শেখ হাসিনার পরে দায়িত্ব নিতে হবে।

তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এই ধরণের কোন ইঙ্গিত দেননি। প্রানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানার সন্তানরা রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হবেন বা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন এই রকম কোন পরিকল্পনা বা ইঙ্গিতও পাওয়া যায় না। বরং তারা ক্ষমতা বলয়ের বাইরে থেকে আওয়ামী লীগ সভাপতি বা প্রধানমন্ত্রীকে সহায়তা করতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বড় ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় একজন তথ্য প্রযুক্তি বিজ্ঞানী এবং তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ ডিজিটাল হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যে সৃষ্টিশীলতা, আবিষ্কার, অগ্রগতি তার হাত ধরেই হয়েছে। এই করোনা সংকটকালেই সকলে যেটি প্রত্যক্ষ করল সজীব ওয়াজেদ জয়ের কারণেই বাংলাদেশ করোনা সংকটের সময় বিভিন্ন রকম কার্যক্রম তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে অব্যাহত রাখতে পেরেছে। কিন্তু তিনি নির্বাচন করবেন বা দলের নেতৃত্ব নেবেন এই ধরণের কোন ইঙ্গিত এখনো দেন নি। প্রতিবার নির্বাচন এলেই রংপুর থেকে তার পক্ষে মনোনয়ন কেনা হয়। তাকে অনুরোধ করা হয়। এই সমস্ত অনুরোধে তিনি কখনো সাড়া দেননি। আদৌ তিনি নির্বাচন করবেন কিনা বিষয়টি নিশ্চিত নয়।

সায়মা ওয়াজেদ পুতুল শেখ হাসিনার একমাত্র কন্যা। তিনিও স্বমহিমায় মহিমান্বিত। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একজন অটিজম বিশেষজ্ঞ হিসেবে সুপরিচিত। বিশ্ব অটিজমদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি একজন প্রধান উদ্যোক্তা এবং তার নেতৃত্বেই সারা বিশ্বে অটিস্টিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন ধরণের কর্মযজ্ঞ চলছে। তিনি জাতিসংঘে অটিজম বিষয়ক উপদেষ্টা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অটিজম বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার পেশাগত কাজেই তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তিনিও সরাসরি রাজনীতি করবেন বা নির্বাচন করবেন এমন কোন ইঙ্গিত দেননি। তার এমন কোন অভিপ্রায়ের কথাও জানা যায়নি।

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিও সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। বরং তিনি বিভিন্ন রকম গবেষণামূলক কাজের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। পেছনে থেকে তার খালা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত গবেষণা দিয়ে সহযোগিতা করাই তার প্রধান কাজ। তিনিও সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হবেন এমন কোন সম্ভাবনার কথা বলেননি বা ইঙ্গিতও পাওয়া যায়নি।

আর শেখ রেহানার দুই মেয়ের মধ্যে টিউলিপ সিদ্দিক এখন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপি এবং ছায়া মন্ত্রী ও রুপন্তী সেখানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন। তাদের দুই জনেরই বাংলাদেশের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার কোন সম্ভাবনাই নেই।

কাজেই এখনি বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্ররা রাজনীতিতে আসছেন না বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। তাঁরা আসলে ভবিষ্যতে রাজনীতিতে আসবেন কিনা সেটা সময়ই বলে দেবে।

 

আরও