সর্বশেষ

যে ৫ বিষয়ে বাংলাদেশ নিয়ে বিচলিত ভারত

হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা চলে গেছেন কিন্তু ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন, আলাপ-আলোচনা ইত্যাদি এখনো বন্ধ হয়নি। বরং ভারত এবং বাংলাদেশের গণমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি লেখালেখি হচ্ছে। বিভিন্ন কূটনৈতিক মহলে আলাপ করে জানা যাচ্ছে যে, বাইরে বাংলাদেশ- ভারত সম্পর্ক অনন্য উচ্চতায় এবং দুই দেশের সম্পর্ক অটুট সুদৃঢ় ইত্যাদি বলা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ করে গত এক বছরে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের গণমাধ্যমগুলো লাগাতারভাবে দুই দেশের সম্পর্কের নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে যে, ভারতের গণমাধ্যমকে এ ধরণের সংবাদ প্রকাশে উসকে দিচ্ছে ভারতের রাজনীতিবিদরাই। এই সমস্ত বাস্তবতা বিশ্লেষণ করে ভারত বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েনের খবরটি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু কিছু বিষয় নিয়ে ভারত বিচলিত। যেসব কারণে ভারত বিচলিত তারমধ্যে রয়েছে;

ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ে সার্ভিলেন্স সিস্টেম

ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়কে সার্ভিলেন্স করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। আর এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক টেন্ডার ডাকা হয়েছিল। সেই টেন্ডারে ভারতের একটি প্রতিষ্ঠান যে রকম অংশগ্রহণ করেছিল, তেমনি একটি চীনা প্রতিষ্ঠানও অংশগ্রহণ করেছিল। ভারতীয় প্রতিষ্ঠান যাতে কাজ পায় এই নিয়ে ভারতীয় দূতাবাসের কর্মকর্তারা বেশ দৌড়ঝাপ করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হাইওয়ে সার্ভিলেন্স এর কাজটি পেয়েছে একটি চীনা কোম্পানি। এটি ভারতকে বিচলিত করেছে। এই নিয়ে ভারত অসন্তুষ্ট বলে জানা গেছে।

সিলেট বিমানবন্দর

সিলেট বিমানবন্দরের একটি টেন্ডারের জন্য ভারতের একটি কোম্পানি এবং বাংলাদেশের চীনা কোম্পানি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। এই কাজটিও চীনা কোম্পানি পেয়েছে। যেটি ভারতের বিচলিত এবং অসন্তুষ্ট হওয়ার একটি বড় কারণ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বর্তমান পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের উপর ভারতীয় পররাষ্ট্র দপ্তর খুব একটা খুশি নয় বলে জানা গেছে। হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা যখন ঢাকায় আসলেন তখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর নির্বাচনী এলাকায় সফরে ছিলেন। ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিবের মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সফরের সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন কেন ঢাকায় ছিলেন না, সে এক প্রশ্ন বটে। ধারণা করা হচ্ছে, ভারতের অনাগ্রহের কারণেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিলেটে গিয়ে অবস্থান করছিলেন। যেন তাকে হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার সাথে সাক্ষাৎ করতে না হয়। কারণ যে কোন পররাষ্ট্র সচিব এলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ একটি স্বাভাবিক শিষ্টাচার। ভারতের একাধিক মহল থেকে পাওয়া খবরে জানা যাচ্ছে যে, বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপর খুব একটা সন্তুষ্ট নয় ভারতের নীতি নির্ধারকরা। এই নিয়ে তাদের অসন্তোষের কথা তারা বাংলাদেশের একাধিক ব্যক্তিকে বলেছেন বলেও জানা গেছে।

একজন উপদেষ্টার ভূমিকা

প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার ভূমিকা নিয়ে ভারতের মধ্যে ব্যাপক প্রশ্ন রয়েছে। ভারতীয় একাধিক গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে এবং তার সাথে পাকিস্তানের সম্পর্ক নিয়েও কথা হয়েছে। ওই উপদেষ্টার একটি প্রতিষ্ঠান ১৪ আগস্ট পাকিস্তানের জাতীয় দিবসে স্পন্সর করেছে বলেও ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশিত হয়েছে। আর প্রভাবশালী এই উপদেষ্টা পাকিস্তান ঘরনার বলেও ভারতের একাধিক গণমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। এটি ভারতের বিচলিত হওয়ার একটি কারণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।

উত্তরে চীনের আগ্রহ

বাংলাদেশ ভারত সীমান্ত ঘিরে তিস্তা উপকূলবর্তী অঞ্চলে একাধিক প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে ভারতের সীমান্ত ঘেঁষে। এই সমস্ত প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ইপিজেড, তিস্তার দুই পাশে শুষ্ক মৌসুমে পানি রাখার জন্য জলাধারসহ আরও কিছু প্রকল্প। এই প্রকল্পগুলোতে চীনের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই সবগুলো প্রকল্পেই চীন বিনিয়োগ করতে চাচ্ছে। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে চীনের এই ধরণের বিনিয়োগে ভারত খুব একটা সন্তুষ্ট নয় বলেই জানা গেছে।

আর এই সমস্ত কারণেই ভারত বিচলিত। আর বিচলিত হওয়ার কারণেই করোনাকালে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন বলে একাধিক সূত্র বলছে। তবে ভারতের থিংক ট্যাংকরা মনে করেন, বাংলাদেশের সঙ্গে কোনভাবেই সম্পর্ক খারাপ করা যাবে না। বিশেষ করে শেখ হাসিনার কোন বিকল্প নেই। কাজেই আলাপ আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের উদ্বেগ উৎকণ্ঠাগুলো দূর করতে হবে। এ কারণেই শ্রিংলাকে সে দেশের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পাঠানো হয়েছিল বলে ভারতীয় গণমাধ্যম জানাচ্ছে।

 

আরও