সেবার জন্য আর ঘুরতে হবে না মুক্তিযোদ্ধাদের: মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, মাই গভ প্লাটফর্মের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সেবা কার্যক্রম শুরু করছে। এর আওতায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ৩৮টি সেবা দেয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ডিজিটাল বাংলাদেশের যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তারই সুফল আমরা এখন পাচ্ছি। এতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সেবার মান বৃদ্ধি পাবে। কষ্ট করে আর সেবার জন্য ঘুরতে হবে না।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ কার্যক্রম উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালভাবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এনএম জিয়াউল আলম, মুক্তিযুদ্ধ সচিব তপন কান্তি ঘোষ, এটুআইয়ের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আবদুল মান্নান, এটুআইয়ের যুগ্ম প্রকল্প পরিচালক ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব (ই-গভর্নেন্স) ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব দেওয়ান মো. আবদুস সামাদ, এটুআইয়ের পলিসি অ্যাডভাইজার আনীর চৌধুরী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে এটুআইয়ের চিফ টেকনোলজি অফিসার মোহাম্মদ আরফে এলাহী মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়-এ মাই গভের আওতায় র্যা পিড ডিজিটাইজেশন কার্যক্রম সম্পর্কিত মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, মাইগভ-এর মাধ্যমে কোনো নতুন সফটওয়্যার তৈরি ছাড়াই মাত্র এক মাসে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ৩৮টি সেবা ডিজিটাল সেবায় রূপান্তর করা হয়েছে। মাই গভ নামক ডিজিটাল সেবা প্রদানকারী একটি কেন্দ্রীয় প্লাটফর্মের মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সেবাসমূহকে অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে ডিজিটাল সেবায় রূপান্তর করা সম্ভব। জনগণের দোরগোড়ায় সব ধরনের সেবা পৌঁছে দিতেই এ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, সব জায়গায় প্রযুক্তির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে দুর্নীতি দূর হবে এবং সেবার মান বাড়বে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এনএম জিয়াউল আলম বলেন, একই পোর্টালে সব সেবা আসায় সেবাগ্রহীতাদের বিভিন্ন স্থানে আর ঘুরতে হবে না। একই জায়গায় সব সমস্যার সমাধান পাবেন।

মুক্তিযুদ্ধ সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, জনগণের দ্বারে সেবা পৌঁছে দিতে এখনও সমস্যা রয়েছে। ডিজিটালকরণের ফলে সেবা প্রাপ্তি সহজ এবং লাল ফিতার দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে।

অনুষ্ঠানে বলা হয়- এ কার্যক্রম চালু হওয়ায় মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সেবাগ্রহীতারা নাম গেজেটে অন্তর্ভুক্তকরণ, সম্মানীভাতা প্রাপ্তি, সনদের তথ্য সংশোধনসহ প্রায় সব ধরনের কাজ অত্যন্ত সহজেই করতে পারবেন। ডিজিটাল পদ্ধতিতে সেবার আবেদন, সেবা সংশ্লিষ্ট পেমেন্ট, সেবার অগ্রগতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রম সেবাগ্রহীতা ৫টি এক্সেস পয়েন্টের মাধ্যমে (মাই গভ ওয়েব, মাই গভ অ্যাপ, ৩৩৩, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে) সম্পাদন করতে পারবেন। এটি শুধুমাত্র মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রার পথে এক যুগান্তকারী মাইলফলক। রূপান্তরিত ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে সেবাগ্রহীতারা একটি কেন্দ্রীয় প্লাটফর্মের মাধ্যমে জানতে পারবেন কোথায়/কীভাবে/কখন সংশ্লিষ্ট পরিষেবা পাবেন। ফলে সেবাগ্রহীতা ও প্রদানকারী উভয়ের সময় ও অর্থের অপচয় কমে আসবে।

উল্লেখ্য, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন এবং ইউএনডিপির সহায়তায় পরিচালিত এটুআই প্রোগ্রাম জনগণের দোরগোড়ায় সব ধরনের সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে মাই গভ প্ল্যাটফর্মটি চালু করেছে, যা ২০২০ সালের শুরুর দিকে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উদ্বোধন করা হয়েছিল।

 

আরও