ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ফের যৌন হয়রানির অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ফের যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছেন সাবেক আমেরিকান মডেল অ্যামি ডরিস।

অভিযোগে অ্যামি ডরিস বলেছেন, ১৯৯৭ সালের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে ইউএস ওপেন টেনিস টুর্নামেন্ট দেখতে গিয়ে তিনি ট্রাম্প কর্তৃক যৌন হয়রানির শিকার হন।

এদিকে দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ডরিস বলেছেন, ২৩ বছর আগে ইউএস ওপেন টুর্নামেন্ট চলাকালে ভিআইপি বক্সের বাথরুমের বাইরে তাকে যৌন হয়রানি করেন ট্রাম্প। সে সময়, ডরিস ছিলেন ২৪ বছরের তরুণী। ট্রাম্প তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে জোর করে চুমু খেয়েছিলেন। জোরপূর্বক স্পর্শ করেছিলেন সারা শরীর।

এত বছর পরও, সেই ঘটনা ভুলতে পারেননি ডরিস। এখনও তিনি রীতিমতো অসুস্থ ও নিপীড়িত বোধ করছেন বলেও দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন।

ওই দিনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ট্রাম্পকে তিনি চেঁচিয়ে সরে যেতে বলেছিলেন, থামতে বলেছিলেন। কিন্তু, ট্রাম্প তার ওপর জোর খাটিয়েই যাচ্ছিলেন।

ডরিস আরও বলেন, আপনি যে-ই হোন না কেন, কেউ যখন বলে না তার মানে না। কিন্তু তার ক্ষেত্রে না বলে কাজ হয়নি, ট্রাম্প কোনো কিছুর তোয়াক্কাই করেননি।

অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরের মতোই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তবে, ডরিস তার অভি্যোগের স্বপক্ষে প্রমাণ হিসেবে ইউএস ওপেনের ওই দিনের টিকিট এবং ট্রাম্পের সঙ্গে তোলা ছয়টি ছবি দ্য গার্ডিয়ানকে দেখিয়েছেন। এছাড়াও, ওই ঘটনার পর এতদিন মানসিক যন্ত্রণায় ভুগেছেন বলে জানান ডরিস।

প্রসঙ্গত, ৪৮ বছর বয়সী ডরিস থাকেন ফ্লোরিডায়। দুই যমজ কন্যার মা তিনি। ২০১৬ সালে যখন অন্য আরও অনেক নারী ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন, তখনই তিনি এ ঘটনার কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, পরিবারের ক্ষতি হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে তখন সে সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসেন তিনি।

কিন্তু এখন হঠাৎ মুখ খোলার ব্যাপারে ডরিস বলেন, তার দুই মেয়ের বয়স ১৩ হতে চলেছে। তাদের সঙ্গে যেনো এমনটা না হয়। তার মেয়েরা জানুক – অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাদের মা চুপ থাকেননি, মুখ খুলেছেন। ভবিষ্যতে যে কোনো ধরনের জবরদস্তির ব্যাপারে তার মেয়েরা যেনো সোচ্চার থাকতে পারে – এই তার চাওয়া।

এর আগেও, মার্কিন পর্নো তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলস ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির গুরুতর অভিযোগ এনেছিলেন। নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন – ২০২০ এর প্রাক্কালে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ রিপাবলিকান শিবিরে অনিশ্চয়তার জন্ম দেবে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

আরও