মিথ্যা তথ্য দিয়ে আদালতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল সাহেদ

রিজেন্ট হাসপাতাল ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ বিচার চলার সময় আদালতকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছেন। বিচারক রায় ঘোষণার সময় বলেন, আমার কাছে খুবই আশ্চর্যের বিষয় হলো, মামলাটি চলার সময়ে সাহেদ আদালতকে বলেন, এই গাড়ি আমার না, এই গাড়ি আমি চিনি না। কিন্তু পরবর্তীতে জানতে পারলাম ২০ লাখ টাকা কিস্তিতে গাড়িটি কিনেছিলেন তিনি। এই ব্যাপারে একবারের জন্যও তার আইনজীবীরা কথা বলেন না। এটা খুবই অবাক করার কথা। তাই জানা সত্ত্বেও আদালতের কাছে সাহেদের মিথ্যা তথ্য দেওয়া ও অস্ত্র গাড়িতে রাখার বিষয়টি প্রমাণিত হাওয়ায় সে কোনও অনুকম্পা পেতে পারে না।

অস্ত্র মামলায় সাহেদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়ার সময় আদালত এই কথা বলেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে আরও বলেন, আমাদের এই সমাজে সাহেদের মতো আরও ভদ্রবেশী লোক রয়েছে। এই মামলায় রায় যাদের জন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে।

বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে গত ৬ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় অভিযান চালায় র্যাব। এরপর গত ১৫ জুলাই র্যাব সাহেদকে সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্ত থেকে অবৈধ অস্ত্রসহ গ্রেফতার করার কথা জানায়। তার বিরুদ্ধে দেবহাটা থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়। গ্রেফতারের পরই তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।

গত ১৯ জুলাই সাহেদকে নিয়ে তার উত্তরার বাসার সামনে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। সেখানে তার নিজস্ব সাদা প্রাইভেটকারে পাঁচ বোতল বিদেশি মদ, ১০ বোতল ফেনসিডিল, একটি পিস্তল এবং একটি গুলি উদ্ধার করা হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় অস্ত্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা করা হয়।

এরপর গত ৩০ জুলাই অস্ত্র আইনে মামলায় ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. শায়রুল আসামি সাহেদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২৭ আগস্ট তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এরপর গত ২০ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য ২৮ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত।

এ মামলায় ১১ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন আদালত। সাহেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা একাধিক মামলার এটিই হলো প্রথম রায়।

 

আরও